somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আসুন তিউনিসিয়া দেশটি সম্পর্কে জানি

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আফ্রিকার উত্তর উপকূলে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত তিউনিসিয়া।
রাজধানী তিউনিস। রাজধানীতে ২৮ লক্ষ লোকের বাস। দেশটির ৪৫% জায়গা সাহারা মরুভূমিতে পড়েছে। দেশটির আয়তন ১.৬৩,৬১০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের ৯২তম বৃহত্তম দেশ। জনসংখ্যা বড় জোর দেড় কোটি। ১৮৮১ সাল থেকে তিউনিসিয়া ফ্রান্সের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৬ সালে তিউনিসিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। প্রায় সব তিউনিসীয় নাগরিক মুসলিম। ১৯৬০ সালে তিউনিস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। দেশটির প্রধান নদী মাজারদা। বহু আগে এই দেশের নাম ছিল- ‘আফরিকিয়া'।

প্রাচীনকালে তিউনিসিয়া বর্বর জাতির আবাসস্থল ছিল।
মুসলমানরা তিউনিসিয়া জয় করে ৬৯৭ খ্রিস্টাব্দে। আরব বিশ্বের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ তিউনিসিয়া। মানব উন্নয়ন সূচকে দেশটির অবস্থান ওপরের দিকে। দেশটির প্রায় ৮২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পড়তে এবং লিখতে জানে। হলিউডের অনেক জনপ্রিয় চলচিত্র যেমন, স্টার ওয়ারস, রেইডারস অফ দ্যা লস্ট আর্ক এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং এই তিউনিসিয়াতেই করা হয়েছে। আরব বিশ্বের দেশ হলেও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ফিফা র‍্যাংকিং: ২১। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ৪ বার। জিডিপি প্রায় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।


রমজান মাসে প্রতিদিন সকল নাগরিককে ফ্রি কোরআন দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

১৯৮৯ সালে তিউনিসিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান জয়নুল আবেদিন ইবনে আলী হাবিব বরগুইবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে তিউনিসিয়ার ক্ষমতায় বসেন। গত কয়েক বছরে তিউনিসিয়ার অর্জন অনেক। সবার গ্রহণযোগ্য একটি আধুনিক সংবিধান রচনা এবং দুটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান আরব বিশ্বের গত কয়েক বছরের ঘটনাপ্রবাহের বিবেচনায় বড় অর্জন বলতেই হবে। তিউনিসিয়ার একটি বিখ্যাত মসজিদের নাম কাইরুয়ান জামে মসজিদ। ৫০ হিজরি সালে সাহাবি হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর অন্যতম সামরিক কমান্ডার উকবা বিন নাফি (রহ.) ৯ হাজার বর্গমিটার জায়গার ওপর মসজিদটি নির্মাণ করেন। কৃষিকাজ এখানকার অর্থনৈতিক উপার্জনের মূল উৎস। এখানে মূলত জলপাই ও খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। তিউনিসিয়া পর্যটকদের একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল।



যাঁর নেতৃত্বে ফরাসিদের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে তিউনিসিয়া, তিনি হলেন হাবিব বরগুইবা। হাবিবের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মুখে ১৯৫৫ সালে তিউনিসিয়াকে স্বায়ত্তশাসন দানের ঘোষণা দেয় ফ্রান্স। স্বাধীনতার পর তিনিই হন তিউনিসিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি। রমজানে তিউনিসিয়ান মুসলমানরা উদারভাবে দান করে। বিশেষত তারা রমজানে সমাজের ঋণগ্রস্থ মানুষের ঋণ পরিশোধ করে দেয়। কেউবা আবার ঋণের দাবী ত্যাগ করে। এতিম, অসহায় ও দরিদ্র্য মানুষকে নতুন কাপড় উপহার দেয়া তিউনিসিয়ান মুসলিমদের একটি সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। এই দেশে ধর্মীয় উন্মাদ নেই। ধর্ম নিয়ে মারামারি কাটাকাটি হয় না। সব্বাই নিয়ম মেনে চলে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ রাস্তার ধারে ময়লা ফেলে না। উলটো পথে কেউ গাড়ী চালায় না। চোর, ছিনতাইকারী বা ডাকাত নেই। ধর্ষন হয় না। কেউ মামা চাচার ক্ষমতা দেখায় না।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫১
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিউইয়র্কের ডায়েরী ২: এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে জীবনের নিয়মে

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৩৯


লং আইল্যান্ডের একটি রাসবেরি ফার্মে গত সপ্তাহে

এক লোক একটা মাছি মারার জন্য পেপার গোল করে তাড়া করছে। মাছিটি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসল। লোকটা যেই মারতে যাবে, মাছিটি হাতজোড় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×