
আজ একটা মেয়ের সাথে সারা বিকেল আর সন্ধ্যা ঘুরে বেড়ালাম, আমার আচার-আচরণ ছিল- একেবারে খাঁটি প্রেমিকের মতোন। রিকশা করে ঘুরলাম খিলগাঁ থেকে টিএসসি পর্যন্ত। মেয়েটি রিকশায় উঠেই আমার হাত ধরে রেখেছে। একটু পর-পর সে আমার দিকে চোরা চোখে তাকায়। আর মিটমিট করে হাসে। রিকশা চলছে। আমরা দু'জনে নানান বিষয় নিয়ে গল্প করে যাচ্ছি। যেন দুনিয়াতে আর কেউ নেই, আমরা দু'জন ছাড়া। অন্যান্য দিনের চেয়ে আজকের বিকেলটা বেশি সুন্দর লাগছে। চারপাশটা বেশ মায়াময় লাগছে।
আমরা দু'জনে হাত ধরাধরি করে অনেকক্ষন হাঁটলাম।
মেয়েটা হঠাত চিৎকার করে উঠল। আমি বললাম কি হয়েছে? সে বলল- আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ- এত্ত বড় একটা চাঁদ। সে আজ শাড়ি পড়েছে, চোখে কাজল দিয়েছে, এমন কি কপালে একটা বড় টিপও পড়েছে। ও আচ্ছা, বলতে ভুলে গেছি দুই হাত ভরতি নানান রঙের কাঁচের চুড়িও ছিল। নিয়নবাতি আর চাঁদের আলো মিশে-মিশে একাকার। আমরা হাত ধরাধরি করে হাঁটছি আর নানান বিষয়ে গল্প করছি। মনে বেশ ফুর্তি ফুর্তি ভাব লাগছে। মনে হচ্ছে জীবনটা মন্দ নয়।
প্রায় চার ঘন্টা কিভাবে চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। অবশ্য এর মধ্যে ফুচকা, রঙ চা, আমড়া, আইস্ক্রীম, বাদাম এবং ডিম চপ খাওয়া হয়ে গেছে। পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে দেখলাম বেশ কয়েকটা ছেলেমেয়ে গান গাইছে এবং একজন গিটার বাজাচ্ছে। 'পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে' গানটা শুনে ভালোই লাগল। আমার প্রেমিকাও দেখলাম গুনগুন করে তাদের সাথে তাল মিলাচ্ছে। প্রতিটা মুহুর্ত বেশ উপভোগ্য, আনন্দময়। যেন পৃথিবীতে কোনো খারাপ নেই। দুঃখ কষ্ট নেই। দূর্নীতিবাদ নেই, দুষ্টলোক নেই। সব্বাই ভালো।
অনেকদিন পর আজ অনেকক্ষন প্রেম করলাম।
আর বারবার অনুভব করলাম প্রেমের উপরে আর কিছু নেই। থাকতে পারে না। এজন্যই কবি সাহিত্যিকেরা যুগে যুগে প্রেমকে মহৎ করিয়া তুলতে চেষ্টা চালিয়েছেন। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার জীবনের শ্রেষ্ট সময়গুলো পার করেছেন প্রেম করার সময়। বিয়েতে অনেক দায়-দায়িত্ব আছে, প্রেমে নেই। আমার নিজেকে নায়ক বলে মনে হচ্ছে। আমার কথা শুনে মেয়েটি হাসছে, কাঁধে মাথা রাখছে, চাঁদের আলোয় আমরা হাঁটছি ...। ও আমি তো মেয়েটির নাম বলতেই ভুলে গেছি !!! তার নাম সুরভি। সহজ সরল, হাসি খুশি প্রানবন্ত একটি মেয়ে!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




