somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কিছু কথা বলতে চাই

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নামাজ পড়তে আমার ভালো লাগে না।
এর চেয়ে বেশি মোবাইলে গেমস খেলে আনন্দ পাই। নামাজ পড়ার জন্য কেউ আমাকে চাপ দেয় না। শাস্তি দেয় না। মৃত্যুর পর কি হবে, সেটা পরে দেখা যাবে। এখন তো জীবনটা উপভোগ করে নিই। বহু দুষ্টলোক নামাজ পড়ে। নামাজ পড়তে পড়তে কপালে স্থায়ী দাগ বসিয়ে ফেলেছে। আমি তের শ' টাকা দিয়ে একটা ইলিশ মাছ কিনতে পারি না অথচ কিছু কিছু মানুষের ঘরের মধ্যে কোটি কোটি টাকা। সৎ জীবনযাপন করে লাভটা হলো কি? আমার এক বন্ধু ভীষন খারাপ ছাত্র ছিল। বদমাইশি করে বেড়াতো সারাদিন। স্কুলের বেতনও ঠিক মতো দিতে পারতো না। আর আমি বদমাইশি না করে মন দিয়ে লেখাপড়া করে গেছি। এখন আমার পকেট ফাঁকা। এমন কি আমি কর্মহীণ। আর আমার সেই বন্ধু এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার গাড়ি, ফ্লাট, জমি সব কিছুই আছে। না, বন্ধু চাকরী বা ব্যবসা কিছুই করে না। ছাত্রলীগ করে। এই তো কিছু দিন আগে বন্ধু তার বউ বাচ্চা নিয়ে ইউরোপ ভ্রমনে গেছে। প্রতিদিন সে ফেসবুকে তার ইউরোপ ভ্রমনের ছবি দিচ্ছে। কেউ বন্ধুকে প্রশ্ন করে না, বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, গাড়ি, ফ্লাট সবই আছে। এত টাকা কোথায় পেলেন? আপনি তো চাকরী বা ব্যবসা করেন না! ঠিক সেভাবেই, একজন দুই কোটি টাকা দামের গাড়িতে চড়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাকেও কেউ প্রশ্ন করে না এত দামের গাড়ি কিভাবে কিনলেন? আপনার বাবা তো একজন সাধারন কেরানি ছিলেন।

পোড়া কপাল আমার।
পাঁচ বছর চাকরী করে, অনেক কষ্টে কিছু টাকা জমিয়ে ছিলাম। প্রায় তিন লাখ টাকা। আমার এক বন্ধু। ভালো ছেলে। বিদেশ থাকে। আমাকে ফোনে বলল, দুই লাখ টাকা তার মাকে দেওয়ার জন্য। সে দুই মাস পর আমাকে টাকা দিয়ে দিবে। এর আগে-পরেও বন্ধু আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। যথাসময়ে ফেরত দিয়েছে। বন্ধুর সাথে আমি একই স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করেছি। এমন কি আমরা একই এলাকায় দীর্ঘদিন থেকেছি। দিলাম বন্ধুর মাকে দুই লাখ টাকা। কোনো কথা নেই, বার্তা নেই- হুট করে বন্ধু একদিন বিদেশের মাটিতে মরে গেল। আমি টাকা দিয়েছিলাম এটা কেউ জানে না। কোনো প্রমান নেই। বন্ধুও কাউকে বলে নি। আমিও কাউকে বলি নি। বন্ধুর মৃত্যুর পর জানলাম, সে দেশে বাড়ি করতে গিয়ে অনেক টাকা লোন নিয়েছে অনেকের কাছ থেকে। বন্ধুর মা কাঁদে, বন্ধুর ভাই বোনেরা কাঁদে। আমি আমার টাকার কথা বললাম না। বললেও কোনো লাভ নেই। সেই টাকা ফেরত দেবার মতো তাদের অবস্থাও নেই। আমার কষ্টের জমানো টাকা শেষ। সব শেষ। আমার পকেটে টাকা থাকলে আমি কাউকে মানা করতে পারি না। আরেক বন্ধু টাকা নিয়েছে এক মাসের কথা বলে। এক বছর পার হয়ে গেছে। এখন সে আমার ফোন ধরে না।

আজ যারা চুরী ছিনতাই ডাকাতি করে।
দূর্নীতি করে। একসময় তারা ছোট ছিল। বাবা মার খুব আদরের সন্তান ছিল। বাবা মা এদের নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখতো। বাবা-মা ভাবতো তাদের ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, পাইলট হবে। কত কি হবে! অথচ তারা হয়েছে চোর, দূর্নীতিবাজ আর ক্যাসিনোর মালিক। অথচ তাদের বাবা মা কখনও এমনটা ভাবে নি। অথচ তারা তাই হয়েছে। ঠিক সেভাবে আজকে যারা শিশু তারাও বড় হয়ে চোর ছিনতাইকারী, ডাকাত বা দূর্নীতিবাজ বা ক্যাসিনোর মালিক হবে। এটা সহজ হিসাব। কেউ কেউ হবে ধর্ষনকারী। সমস্ত খারাপ লোক'ই একসময় ছোট ছিলো। আবার আজ যারা ছোট তারাও একদিন বড় হবে। এই চক্র চলতেই থাকবে।

এই দেশে অবৈধ টাকার মালিক শুধু ছাত্রলীগ বা যুবলীগের লোকজন নয়। সমস্ত লীগের একই অবস্থা। শেখ হাসিনা কয়জনকে ধরবেন? শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওলামা লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী শিশু লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎসজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদশে আওয়ামী পর্যটন লীগ, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, তৃণমূল লীগ, আমরা মুজিব হবো, চেতনায় মুজিব, মুক্তিযোদ্ধা তরুন লীগ, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎসজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, এরকম বহু লীগ আছে। সবার'ই রমরমা অবস্থা। তবে ব্লগারদের কোনো লীগ নেই।

গত দশ বারো বছরে রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থাকা অসংখ্য লোক সীমাহীন টাকার মালিক হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের যে পরিমান টাকা আছে, সেই টাকা দিয়ে অসংখ্য কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করা যায়। বেকার সমস্যার সমাধান করেয়া যায়। কিন্তু তারা সেই টাকা বিদেশে উড়িয়ে দিচ্ছে। মদ খেয়ে, জুয়া খেলে আর বেশ্যার পেছনে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশে বাড়ি গাড়ি করেছে, ছেলে মেয়ে সব বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই সমস্ত ছেলে মেয়েরা বিদেশে উন্নত জীবন যাপন করছে। কেউ কেউ দেশে'ই দেড় কোটি, দুই কোটি টাকা দামের গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছে। নিজ গ্রামে বিশাল অট্রালিকা বানিয়েছে। নিজের নামে, বাপ মায়ের নামে স্কুল মাদ্রাসা বানিয়েছে। সরকারী পুলিশ তাদের বাড়ি পাহারা দেয়। এক চোর আরেক চোরকে চিনে। সব চোর মিলে শহরের বিভিন্ন বড় বড় হোটেলে- ক্লাবে আড্ডা দেয়। মদ খায়। নিজ গ্রামে যারা ন্যায়ের পথে আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলে এমন লোকজনদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরে রেখেছে। অসহায় লোকদের জমিজমা জোর করে বা স্বল্প মূল্য দিয়ে দখল করে রেখেছে। দেশের প্রতিটা অঞ্চলের একই অবস্থা। একই চিত্র। দেখার কেউ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিউইয়র্কের ডায়েরী ২: এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে জীবনের নিয়মে

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৩৯


লং আইল্যান্ডের একটি রাসবেরি ফার্মে গত সপ্তাহে

এক লোক একটা মাছি মারার জন্য পেপার গোল করে তাড়া করছে। মাছিটি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসল। লোকটা যেই মারতে যাবে, মাছিটি হাতজোড় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×