somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল (এগারো)

১৭ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ জামাল রমনা পার্কে বসে আছে।
সে পার্কে এসেছে সকাল এগারোটায়। এখন সময় বিকেল চারটা। দুপুরে তার কিছু খাওয়া হয়নি। এটা কোনো বিষয় না। না খেয়ে থাকা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। পার্কে এসে নিরিবিলি বসে থাকা যায়। বিরক্ত করার কেউ নেই। এটা অনেক শান্তির আর আনন্দের। অনেক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ভাবা যায়। তার ভাবতে ভালো লাগে। মূলত শাহেদ রমনা পার্কে আসে ভাবতে। কেউ তার ভাবনার মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। একটা বিষয় নিয়ে একটানা ভাবতে পারাটাও অনেক আনন্দের। তাছাড়া বেকার মানুষদের ঢাকা শহরে সবচেয়ে উত্তম জায়গা রমনা পার্ক। বেকারদের কেউ পছন্দ করে না। তারা সমস্ত পরিবার পরিজন, পরিচিত-অপরিচিত, এমনকি বন্ধু বান্ধব থেকেও অলিখিতভাবে বিতাড়িত।

শাহেদ জামাল আজ ভাবছে তার বন্ধুর কথা।
বন্ধুর নাম শফিক। অতি চমৎকার একটা ছেলে শফিক। একদিন শাহেদ শফিকের বাসায় গিয়ে প্রচন্ড অবাক। শফিকের ঘরে দেয়ালের মধ্যে যিশুর মুর্তি টানানো। তার পাশে দূর্গা, দূর্গার পাশে বুদ্ধ। এবং টেবিলের উপর কোরআন শরীফ। তার পাশে হিন্দুদের বেদ, খ্রিস্টানদের বাইবেল, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক এবং ইহুদিদের তওরৎ। সব ধর্মের গ্রন্থগুলো শফিকের পড়া। শুধু পড়া বললে ভুল হবে- মূখস্ত। একদম জাকির নায়েকের মতো গড়গড় করে বলে দিতে পারে। যদিও শাহেদ মুসলমান কিন্তু সে পূজা করে। আবার নামাজও পড়ে। যিশুর কাছে প্রার্থনা করে। দূর্গার কাছে অনেক কিছু চায়। কোরআন পড়ে, বাইবেল পড়ে, ত্রিপিটক পড়ে, তওরতও পড়ে। শফিক নাস্তিক নয়। ঈশ্বরের প্রতি তার অগাধ আস্থা। সে হাসি মুখে সব ধর্মের নিয়ম মানছে। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। সব ধর্মই তাকে আনন্দ দেয়। ভরসা দেয়।

শফিক বিয়ে করেছে প্রেম করে।
তাদের চার ছেলেমেয়ে। সবচেয়ে বড় মেয়েটার বয়স বারো। আর একদম ছোট্টার বয়স আট মাস। শফিক ভালো চাকরী করে। অনেক টাকা সেলারি পায়। তার স্ত্রী মিতুও ভালো চাকরী করে। সুখের সংসার। নিজেদের ফ্লাট। শফিকের বউয়ের রান্নার হাত অনেক ভালো। এমন কখনও হয়নি শফিকের বাসায় গিয়েছি আর না খেয়ে ফিরেছি। মিতু ভাবী অত্যাধিক মায়াবতী একজন মানুষ। গত বছর শফিকের স্ত্রী মিতু মারা যায়। খুব কঠিক এক ক্যান্সারে। এরপর থেকে শফিক কেমন পাগল পাগল হয়ে যায়। চাকরী ছেড়ে দেয়। আর বিয়ে করেনি। শফিকের চার সন্তানকে আত্নীয় স্বজনেরা ভাগ করে নিয়ে নেয়। যাকে বলে দত্তক নেওয়া। শফিক এখন প্রতিদিন মদ খায়। নিজের শরীরের কোনো যত্ন নেয় না। মাথায় টাক পড়তে শুরু করেছে। কেমন বুড়ো বুড়ো দেখায়।

একদিন শাহেদ জামাল শফিকের বাসায় যায়।
গিয়ে দেখে দুপুরবেলাতে শফিক মদ নিয়ে বসেছে। শাহেদ জামাল দুই পেগ খেলো। কিন্তু শফিক পেগের পর পেগ খেয়েই যেতে লাগলো। শফিক বলল, পৃথিবীতে যুগে যুগে আসা সকল ধর্মেরই কোন না কোন ধর্মগ্রন্থ বা শাস্ত্রবিধান রয়েছে। সব আমি পড়েছি। পড়ে বুঝেছি- যারা অনেক ত্যাগ তীতিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছেন, তাদের চেতনা বা দর্শন বা চিন্তাধারা থেকে ধর্মীয় গ্রন্থগুলো এসেছে। সোজাসাপ্টা বললে সব মানুষের লেখা। হিন্দু সমাজ অনেক ভাগে বিভক্ত। শৈব. শাক্ত, বৈষ্ণব. গানপত্য.রামাউতি, লিঙ্গাযেত. ভেঙ্কটেশ ইত্যাদি। তবে সবার মধ্যে যে একটা যোগসুত্র আছে সেটা হল ভক্তিবাদ। পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম গ্রন্থগুলো রামায়ণ, মহাভারত, বেদ পুরাণ, কোরআন, উপনিষদ ইত্যাদি কোনো ঈশ্বরের বানী নয়। এগুলো সব মানুষের কথা।

শাহেদ জামাল শফিকের কথা ভাবা বন্ধ করলো।
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। এখন পার্ক থেকে বের হতে হবে। ঠিক সন্ধ্যার সময় হাজার হাজার মশা আসে। তারা একেবারে ঝাকিয়ে বসে। যেন শাহেদ জামালকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। মসজিদে মাগরীবের আযান হচ্ছে। সন্ধ্যার সময়টা শাহেদের ভালো লাগে না। কেমন একটা অস্থির অস্থির লাগে। এই সময় প্রিয় মানুষের হাত ধরে বসে থাকা দরকার। তাহলে অস্থির লাগবে না। শাহেদ এখন বাসায় ফিরবে না। শাহেদের জন্য কেউ অপেক্ষা করে নেই। শাহেদ বাসায় ফিরবে ১১ টা, ১২ টার দিকে। শাহেদ হাঁটতে হাঁটতে মৎস ভবনের সামনে এলো। তার এখন এক কাপ চা এবং একটা সিগারেট খেতেই হবে। যদিও তার পকেটে কোনো টাকা নেই। তবে সেগুন বাগিচায় একটা চা সিগারেটের দোকান আছে। সেখানে বাকিতে চা সিগারেট খাওয়া যায়। আর দশ মিনিট হাটলেই সেই চায়ের দোকানটা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:০৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব চিঠি দিবস ২০২৬: সম্পর্কের মাঝে আবারও চিঠির অনুভূতি।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২৮



বিশ্ব চিঠি দিবস ২০২৬: সম্পর্কের মাঝে আবারও চিঠির অনুভূতি

বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে এবার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের কয়েকজনকে নিজের হাতে চিঠি পাঠালাম। ডিজিটাল যোগাযোগের এই সময়ে একটি চিঠি যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×