
যেকোনো খাবার তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া উচিত।
পেটের ক্ষুধা আর জিহ্বার ক্ষুধা এক নয়। খাবার হাতে নিয়ে খাবারের সুবাস নিয়ে, রং উপভোগ করে, ভালোভাবে চিবিয়ে, স্বাদ উপভোগ করে খাওয়া উচিত। যে কোনো অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজনটাই হলো নানারকমের খাবারদাবার। চিরাচরিত প্রথা এ রকমই। খাবারের পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সবার জন্যই জরুরি। বিশেষ করে যাদের বয়স ৩৫ এর উপরে। পেটপুরে খাওয়া মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে বটে কিন্তু শরীরের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। একবারে বেশি না খেয়ে বার বার কম পরিমাণে খাওয়া ভালো। মনে রাখতে হবে, খাবারেই মানুষ বাঁচে, খাবারেই মানুষ মরে। আল্লাহ বলেছেন, খানা। মানে আল্লাহ খেতেও বলেছেন, আবার খেতে মানাও করেছেন। তাই হিসাব করে খেতে হবে।
মন দিয়ে রান্না করলে সব খাবারই সুস্বাদু হয়।
অনেক খাবার আছে দেখলে মনে হয় রান্না করাটা বেশ ঝামেলার হবে। অথচ রান্নার সময়ে দেখা যায় এটাই সহজ। ভারতের একটি জনপ্রিয় খাবার হলো দোসা। খাবারটি আমাদের দেশেও বেশ জনপ্রিয়। কলাইয়ের ডাল আর চাল দিয়ে তৈরি। আমরা কি প্রতিদিন সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাচ্ছি? বিশ্বব্যাপী যে স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বেশি বাদ যাচ্ছে তা হলো - বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার। সুগার বা সল্ট এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে মানুষের উচিত ভালো খাবারের দিকে মনোযোগ দেয়া। পুরান-ঢাকার বিরিয়ানি যা ঢাকাই লোকদের কাছে অধিক জনপ্রিয়। আমি প্রতিমাসে দুইবার পুরান ঢাকায় গিয়ে খাই। ওদের বিরানী আর তেহারিটা আসলেই ভালো হয়। আসার সময় বাসার জন্য বাকরখানি নিয়ে আসি।
অতিরিক্ত লবণ- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ।
তবে চীনারা প্রচুর পরিমাণে লবণ খায় এবং খাদ্য তালিকায় লবণ দিয়ে সস বেশি পছন্দ করে তারা। ফলমূল কম খাওয়ার জন্য বিশ্বে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সিলেটের খাবারে সাতকড়া বা খুলনা- সাতক্ষীরায় চুই ঝাল ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও, অন্যান্য এলাকায় সেটি নেই। চট্টগ্রামের বড় ধরণের খাবারের আয়োজনকে বলে মেজবান আর সেই আয়োজনের মাংসের রয়েছে আলাদা ধরণের রন্ধন রীতি। নানান রকম মশলা দিয়ে মাংস আর তাকে বলা হয় মেজবানির মাংস। তবে চিটাগাং এর মানুষ শুটকি মাছও খুব পছন্দ করে। সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে "ঘাঁটি" নামক এক প্রকার খাবারে ব্যাপক প্রচলন আছে। "ঘাঁটি" মূলত বড় কোন মাছের মাথা দিয়ে লাউ/আলু/মুগ ডালের ঘণ্ট সবজি। যা ভাতের সাথে খাওয়া হয়ে থাকে।
আপনার প্রিয় খাবার কি?
আমার প্রিয় খাবার ভাত। শুধু ভাত বললেই হবে না। ভাতের আবার রকমফের আছে। ভাতেভাত, পান্তাভাত, দুধভাত, ডালভাত, মাছভাত, মাংসভাত, সর্ষে-ইলিশ ভাত, ভাপা-ইলিশ ভাত ইত্যাদি ইত্যাদি। মানে ভাত থাকতেই হবে। বেলা দশটায় দশটা রসগোল্লা-রাজভোগ খেলেও দুপুরে ভাত চাইই চাই আমার। আসলে, ভাতের সঙ্গে একটা আবেগ যে জড়িয়ে থাকে সেটা অস্বীকার করা যায় না। গ্রামের দিকে একটা কথা শোনা যেত - মাগ-ভাতার অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী। ভাতার মানে স্বামী। স্বামীই তো ভাতের ব্যবস্থা করে। তাই ভাতার। অন্নদামঙ্গল কাব্যে, ঈশ্বরী পাটনি অন্নদার কাছে অনেককিছু প্রার্থনীয় থাকলেও নিজের সন্তানদের জন্য শুধু প্রার্থনা করেছিল "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"! নবজাতক শিশুর ছয় মাস হয়ে গেলে 'মুখেভাত' এর একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেদিন তার মুখে প্রথম ভাত দেওয়া হবে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাংলাদেশে রুটি খাওয়ার চল সাধারণ বাঙালির ঘরে প্রথম ঢুকে পড়ে। যদিও গ্রাম বাংলার কৃষক পরিবারে এখনও সকালের গরমভাত বা পান্তা ভাত খাওয়ার চল আছে। যাই হোক, আমার মতে ইলিশ মাছ বাঙালীদের সবচেয়ে প্রিয় মাছ। ইলিশ মাছের চেয়ে ইলিশ মাছের ডিম আমার বেশি পছন্দ। এক আধদিন তেমন ক্ষিদে-টিদে নেই, তাও টুকটাক খাওয়ার ইচ্ছে হয়, তখন চুপি চুপি বার্গার, চিকেন ফ্রাই আর কোক খাই।
বন্ধুবান্ধব অনেকেই রুটি খায়। ভাবলাম, ওরা যদি পারে, আমি কেন পারবো না। দেখি চেষ্টা করে। বাড়ীতে, সুরভিকে বললাম, রাত্রে রুটি করতে, রুটিই খাবো। খেলাম রাত্রে, দু, তিনটে রুটি। শুয়ে পড়লাম, ঘুমই আসছে না, ছটফট করছি, প্রায় বিনিদ্র রজনী। রাত্রি প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ আর পারছি না। সুরভিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললাম, একটু ভাত রান্না করো। ভাত না খাইলে, অখনে আমারে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়া ও ঘুম পাড়ানি যাইবো না। করে দিলো, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি আর গরম ভাত।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


