somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সৌন্দর্য ও আতংকের নাম আমাজন

২২ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই পৃথিবী একটি বিস্ময়কর স্থান।
প্রকৃতি মানেই তো রহস্যের আধার। যার আরো অনেক প্রাচুর্য রয়ে গিয়েছে আমাদের চোখের আড়ালেই! বিজ্ঞানীরা যতই বলুক, সারা বিশ্ব মানুষের দখলে। অচেনা, অজানা বা রহস্যময় কোনো দ্বীপ নেই, দেশ নেই। কথাটা পুরোপুরি সঠিক নয়। লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন– 'আজ থেকে বিশ বছর পর আপনি এই ভেবে হতাশ হবেন যে, আপনার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল তা করতে পারেননি। তাই নিরাপদ আবাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। আবিষ্কারের জন্য যাত্রা করুন, স্বপ্ন দেখুন আর শেষমেশ আবিষ্কার করুন'।



আমাজন বনের বয়স প্রায় ৩ হাজার বছর।
বেশ কয়েকটি দেশের সাথেই জরিয়ে আছে এই মহাবন আমাজন। আমাজন বনের আয়তন প্রায় ৫৫,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। রহস্যময় আমাজন জঙ্গল দক্ষিণ আমেরিকান নয়টি দেশ ঝুরে অবস্থিত। এর বেশির ভাগ অংশই রয়েছে, ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং পেরুতে। এরকম বন পৃথিবীর দ্বিতীয়টি আর কোথাও নেই। রহস্যময় এ বনের সৃষ্টি হয়, আজ থেকে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে। আামাজন বনের জীবনী শক্তি হলো- এই বনের আমাজনের নদী। আমাজন নদীর শাখা নদীর সংখ্যা ১০ টি। দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতের, নেবাদা মিসমি নামক চূড়া থেকে, এই নদীর উৎপত্তি হয়েছে। এ নদীতে রয়েছে বিচিত্র প্রাণীর ছড়াছড়ি। এ নদীর বিশিষ্ট বাসীন্দাদের মধ্য রয়েছে, ইলেক্ট্রনিক ইল এবং পিরানহার মত ভয়াবহ মাছ।

লক্ষ লক্ষ হেক্টর আমাজন অরণ্য ধ্বংসের নগ্ন চিত্র।

আমাজনকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।
পুরো পৃথিবীটা যদি মানবদেহ কল্পনা করি, তাহলে আমাজনকে বলতে হবে মানব দেহের ফুসফুস। পৃথিবীর প্রায় ২২% অক্সিজেন আসে আমাজন থেকে। প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতির ৩৯০ বিলিয়ন গাছ-গাছালি রয়েছে, যা পুরো পৃথিবীতে অক্সিজেন সরবারহ সহ পৃথিবীর উপরি ভাগের ওজন স্তর ঠিক রাখতে সর্বোপরি সহোযোগিতা করে চলেছে। এই ওজন স্তরের কারনেই আমরা সূর্যের সরাসরি অতি বেগুনি রশ্নি থেকে রক্ষা পাচ্ছি। এই বনের ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড়, ৪২৮ প্রজাতির উভচর, ৩৭৮ প্রজাতির সরিসৃপ এবং ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে। এছাড়াও আমাজন নদীতে ৩০০০ প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী আছে, যারা পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ পরিবেশের ভারসাম্য ও একটি সুশৃংখল পন্থায় খাদ্যসংস্থান ঠিক রেখে চলেছে।

আমাজানের ফুটন্ত নদী।

আমাজন বনে ৩০০শ এর বেশী উপজাতি বাস করে।
তারা বেশির ভাগ ব্রাজিলীয়। এছাড়া তারা পর্তুগীজ, স্প্যানিস ইত্যাদি ভাষায় কথা বলে। এসব উপজাতীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু যাযাবর। সারা পৃথিবীতে যে পরিমাণ চিরহরিৎ বা রেইন ফরেস্ট বন রয়েছে তার প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে আমাজন বন। পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী- শক্তিশালী আমাজন নদী। বিজ্ঞানী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আমাজন অরণ্য আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে। অ্যামাজনের নদীতে রয়েছে গোলাপি ডলফিন। সাড়ে আট থেকে সাড়ে নয় ফুট লম্বা গোলাপি ডলফিন। এদের মস্তিষ্কের আয়তন মানুষের মস্তিষ্কের চেয়ে বেশি। গত বছর পর্যন্ত ব্রাজিলে প্রায় ৭২,৮৪৩টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আগুনের ঘটনা অ্যামাজন জঙ্গলে।

আদিবাসীরাই অ্যামাজনের প্রাণ।

পর্তুগিজ অভিযাত্রীরা বিশ্বাস করত-
বিশাল এ বনের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে আছে এলডোরাডো নামের এক গুপ্ত শহর। ধারণা করা হতো এই শহরটি পুরোটা স্বর্ণের। এই ভ্রান্ত ধারণাটি এসেছে গ্রিক পৌরাণিক গল্প থেকে। পৃথিবীর সব পাখির পাঁচ ভাগের একভাগ এই বনের অধিবাসী। বিশ্বের মোট ওষুধের ২৫ ভাগ কাঁচামাল আসে এ বনের ৪০০ প্রজাতির গাছ থেকে। আমাজন নদীকে ঘিরে এই জঙ্গল প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল। আমাজন জঙ্গল টিকে থাকার জন্য অনেকটাই নির্ভর করে সাহারা মরুভূমির উপর। সাহারা মরুভূমির বালু ও ফসফরাস আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে জমা হয় আমাজন জঙ্গলে। আর এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে আমাজনে। আমাদের সুন্দরবন ভ্রমন করতে যাওয়া যায়। আপনি ইচ্ছা করলে এই বনেও বেড়াতে যেতে পারবেন। তবে সবার আগে আপনাকে ব্রাজিল যেতে হবে। সেখান থেকে আমাজন জঙ্গলে। প্রতি বছর বহু ট্যুরিস্ট আমাজন ভ্রমনে যান।


আমাজনে এক ধরনের বিশালদেহী কুমির দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম ব্ল্যাক কেমান। এদের আমাজন নদীর রাজা বলা হয়। এই প্রাণিটি প্রায় ২০ ফুটের মতো লম্বা হয়ে থাকে।


আমাজনের কিছু রহস্যঃ

১। নিউইয়র্ক শহরে ১২ বছরে যত পানি ব্যবহৃত হয়, আমাজন নদীতে তার চেয়েও বেশি পানি প্রবাহিত হয় একদিনে। পৃথিবীর তাবৎ পরিচ্ছন্ন পানির ২০ ভাগ বয়ে চলে এই নদীতে।

২। আমাজন এতই বিশাল জীব বৈচিত্রে পরিপূর্ণ বন যে, এর একটি মাত্র লতা গুল্মে থাকতে পারে বহু প্রজাতির পিপড়া। এত পিঁপড়া যা হয়ত সমগ্র ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে নেই!

৩। এক আমাজনে আছে ৩০০০ প্রকারের ফল। তবে খাওয়ার যোগ্য ফল আছে মাত্র ২০০ প্রকারের।

৪। আমাজনের নামের পেছনে আছে এক গল্প। স্প্যানিশ এক্সপ্লোরার ফ্রান্সিস্কো অরেল্লানাকে আক্রমণ করেন এক নারী যোদ্ধা। ফ্রান্সিস্কো সেই নারী যোদ্ধার নাম রাখেন আমাজন। গ্রীক পূরাণের আমাজনের নামে। সেখান থেকেই কালক্রমে বন ও নদীর নাম হয় আমাজন।

৫। এই বনে ১০ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে আছে ৪০,০০০ প্রজাতির গাছ, ১৩০০ প্রজাতির পাখি, ৩০০০ প্রজাতির মাছ, এবং ২.৫ মিলিয়ন ভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়।

৬। একসময় হেনরি ফোর্ড আমাজনে রাবার চাষের উদ্দেশ্যে একটি ওয়ার্ক হাউজ তৈরি করেন। এখন সেই ফোরলান্ডিয়া পরিত্যাক্ত ভুতের বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

৭। ৩০০ পাউন্ড ওজনের আরাপাইমাম মাছ বাস করে আমাজনে। এর গায়ের চামড়া বর্মের মত শক্ত যার কারণে সে নিরাপদ থাকে মাংসাশী পিরানহার কামড় থেকে।

৮। সাহারা মরুভূমি থেকে প্রতি বছর ৪০ মিলিয়ন টন বালি উড়ে আসে আমাজনে!

৯। আমাজনে এমন অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী আছে বহির্বিশ্বের সাথে যাদের কোন সংযোগ নেই। কিছু বিজ্ঞানী আছেন যারা চান না এদেরকে আবিষ্কার করা হোক।

১০। আমাজন একটি দৈত্যাকৃতি ফলের বাগান যা বিকশিত হয়েছে ৩০০০ বছর আগে।

১১। আমাজন নদী থেকে এত পরিমাণে সুমিষ্ট পানি সমুদ্রে গিয়ে মেশে যে প্রায় ১০০ মাইল পর্যন্ত সমুদ্রের পানি কম লবণাক্ত থাকে।

১২। আমাজন নদীর মুখ এতই বিশাল যে তা এর নিকটবর্তী দ্বীপ মাজারিওকে ডুবিয়ে দেয়। অবাক করা বিষয় হলো- মাজারিও এর আকৃতি সুইজারল্যান্ডের সমান।

১৩। বিজ্ঞানীরা টেরা পেটা বা কালো মাটির সন্ধান পেয়েছেন যা আমাজনের বেশ বড় অংশকে ঢেকে রেখেছে। তারা মনে করেন এখানে গড়ে ওঠা সভ্যতা এই মাটির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।

১৪। আমাজনের নদী একসময় প্রবাহিত হত প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে। গতিমূখ বদলে এটি এখন প্রবাহিত হয় আটলান্টিক মহাসগরের দিকে!




তথ্যসুত্রঃ


ছবিঃ গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে বাজিয়ে দেখছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬



দেশের অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা ঠিক আগের মতো শক্তিশালী নন; দেশের ইসলামিক দলগুলো এই ধরণের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনার পক্ষে কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলাদেশ বলছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬



প্রিয় দেশবাসী,
কিছুদিন যাবত অত্যন্ত বেদনা নিয়ে লক্ষ্য করছি ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন সমালোচনা করছেন। কেউ ধর্মের পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ আধুনিকাতার পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ হয়তো শিল্পমনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌতুক কিংবা রম্য - বলুন তো, বিষয়টা কী?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫৮

আমি যদি বুঝতেই না পারি যে, আমি তোমাকে যা বোঝাতে চাই তা তুমি বুঝতে পারছো না, তাহলে আমি কীভাবে বুঝবো যে, তুমি কিছুই বোঝো নাই? বুঝেছ? না বুঝলে বরং বোঝার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল

লিখেছেন জুন, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৪


আমার ছোট বাগানের কসমসিয় শুভেচ্ছা।

আজ পেপার পড়তে গিয়ে নিউজটায় চোখ আটকে গেল। চীন বলেছে করোনা ভাইরাস এর উৎপত্তি ভারত আর বাংলাদেশে, তাদের উহানে নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মায়াময় ভুবন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৯

এ পৃথিবীটা বড় মায়াময়!
উদাসী মায়ায় বাঁধা মানুষ তন্ময়,
অভিনিবিষ্ট হয়ে তাকায় প্রকৃতির পানে,
মায়ার ইন্দ্রজাল দেখে ছড়ানো সবখানে।

বটবৃক্ষের ছায়ায়, প্রজাপতির ডানায়,
পাখির কাকলিতে, মেঘের আনাগোনায়,
সবখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×