somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার ভাগ্নী মিলান

০৬ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ Milan With Us ambassador of Bangladesh.

আমার ভাগ্নী মিলান আমেরিকা পৌঁছে গেছে।
তার অনলাইনে ক্লাশও শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিনই মিলানের সাথে কথা হচ্ছে। এমন কি মিলানের রুমমেট ব্রাজিলের এক মেয়ের সাথেও কথা বললাম। আমি মেয়েটাকে বাংলায় বললাম, তুমি দেখতে তো রাজকন্যার মতো। আমার ধারনা ছিলো ব্রাজিলের মেয়ে গুলো কালো হয়। তুমি দেখতে দারুন সুন্দরী। এই তুমি এত ফর্সা কেন? যাই হোক, তুমি আমাদের দেশে আসো। তোমাকে ডাল দিয়ে ভাত খাওয়াবো। মেয়েটা আমার কথা কিছুই বুঝতে পারছে না। কিন্তু খুব হাসছে। মেয়েটার হাসি সুন্দর।



মিলানের কথা ভাবলে আমার অবাক লাগে।
এই তো সেদিন মিলানের জন্ম হলো। আমি হাসপাতালে দেখতে গেলাম। কোলে নিলাম। মিলানকে প্রতিদিন ওর নানী খাটি সরিষার তেল মালিশ করতো। মিলান একটু একটু করে বড় হলো। হাঁটা শিখলো। আমি প্রতিদিন মিলানকে নিয়ে হাঁটতে বের হতাম। লুকিয়ে লুকিয়ে কোক, ফানটা, বার্গার খাওয়াতাম। মাঝে মাঝে সকালে আমার সাথে হোটেলে নাস্তা করতে যেত। মিলান আমাকে সব সময় বলতো 'প্রিয় মামা'। আমার প্রিয় মামা। এখন সংক্ষেপে সবাই বলে 'পি'। প্রিয় থেকে 'পি'। এমন কি আমার বাসাতেও সবাই আমাকে 'পি' বলে ডাকে। আমার জন্মদিনের কেক এ লেখা থাকে- শুভ জন্মদিন 'পি'। একবার মিলানের ছোটবেলায় খুব শখ হয়েছিলো সে বৃষ্টিতে গোছল করবে। কিন্তু তার মা তাকে বৃষ্টিতে গোছল করতে দিবে না। তখন আমি তাকে লুকিয়ে বৃষ্টিতে গোছল করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম।



মিলানের মা বেশ অসুস্থ।
ক্যান্সার হয়েছে। কেমো নিচ্ছে। লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। মিলান যখন ছোট, তখনই মিলানের মা বলতো আমার কন্যা লেখাপড়ার জন্য ইউরোপ যাবে। যাক, একজন অসুস্থ মায়ের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। দেশে থাকতেও মিলান নাচ, গান, আর্ট সবই শিখেছে। বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছে। দুইটা টিউশনি করতো মিলান। ইংশিল মিডিয়াম স্কুলের দুই বাচ্চাকে পড়াতো। মাস শেষে বিশ হাজার টাকা পেত। দুই বছর আগে মিলান একটা স্কুটি কিনে। সেই স্কুটি নিয়ে সে সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়াতো। আমার সাথে রাস্তায় দেখা হলেই বলতো- মামা উঠো। চলো তোমাকে নিয়ে টিএসসি ঘুরিয়ে আনি। আমি বলতাম, হাত পা ভাঙ্গার শখ নাই আমার। মিলান বলতো- মামা তুমি এত ভয় পাও কেন? আর হাসতো।



এম্বাসেডর সাহেব মিলানের সাথে দেখা করেছেন।
উনি নিজেই দেখা করতে এসেছেন এবং বলেছেন, মিলান যদি আরো লেখাপড়া করতে চায় তাহলে সে ব্যবস্থা করে দিবেন। মিলান বলেছে, অবশ্যই আমি আরো লেখাপড়া করতে চাই। আমার ধারনা, মিলানকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। সে যদি পরিশ্রম করে, তর তর করে সামনে এগিয়ে যাবে। এই কিছুদিন আগের কথা। আমাদের কন্যা ফারাজার জন্ম হলো- মিলান আমার কন্যাকে দেখতে এসে আনন্দে খুব কান্না করলো। কোলে নিয়ে ছোট্র ফারাজা জড়িয়ে ধরলো। বলল, এটা আমার প্রিয় মামার সন্তান। কি কান্না সেদিন মিলানের! এটা অবশ্যই আনন্দের কান্না। মিলানের যেদিন জন্ম হলো- সেদিনও হাসপাতালে মিলানকে কোলে নিয়ে আমার চোখ ভিজে উঠেছিলো। প্রকৃতি ভালো মন্দ দুটাই সেম টু সেম ফিরিয়ে দেয়।



মিলান ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক।
এটাই কামনা করি। মিলানের বাবা মারা গেছে ৫ বছর আগে। সম্পূর্ন নিজের যোগ্যতায় মিলান এত দূর এসেছে। এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো ক্ষমতাবান মামা চাচার দরকার হয়নি। প্রিয় ভাগ্নী তোমার জীবন হোক আনন্দময়। আমি নিশ্চিত তোমার মতো করে আমার কন্যা পরী আর ফারাজাও একদিন উন্নত দেশে লেখাপড়া করতে যাবে। অবশ্যই যাবে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি শিক্ষার শক্তি। আর নারীদের এই শক্তি দরকার সবচেয়ে বেশি। কারন নারীরা হচ্ছে ধরনী। পৃথিবীর সকল কন্যারা ভালো থাকুক এই কামনা করি। শিক্ষায় এগিয়ে যাক। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:০৮
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×