somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঢাকা শহরের বর্তমান 'করোনা' পরিস্থিতি

০৭ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা। স্থানঃ কাওরান বাজার। সময় রাতঃ দুইটা। ক্যামেরাঃ নাইকন ডি, ৩৩০০ মডেল।

আপনি কি জানেন- ঢাকা শহরের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি কি?
সত্যি বলছি, আমি জানি না ঢাকা শহরের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি কি। অথচ এই শহরেই আমার বসবাস। সরকারি হিসাব মতে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত হয়েছে ২৪৮ জন। নতুন আক্রান্ত হয়েছে ১২৬০৬ জন। সুস্থ হয়েছে ১৫৪৯৪ জন। নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে- ৪৮০১৫ জন। মোট মৃত ২২১৫০ জন এবং মোট আক্রান্ত ১৩৩৫২৬০ জন। সরকারি এই হিসাব আমার কাছে যথাযথ মনে হয় না। সরকার করোনা নিয়ে কি ভাবছে আমি জানি না। দেশের মানুষ কি ভাবছে তাও জানি না। করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তাও জানি না। জানার উপায় কি তাও জানি না। এই পরিস্থিতিতে কি করবো, তাও কেউ বলে দিচ্ছে না। নিজের জ্ঞানে যযতটুকু কুলাচ্ছে তাই দিয়েই পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে চেষ্টা করছি।

কোনো মানুষের মধ্যেই আমি করোনা নিয়ে চিন্তিত হতে দেখি না।
বর্তমানে এই শহরের মানুষ ক্রিকেট এবং পরীমনিকে নিয়ে ব্যস্ত। একদল পক্ষে, আরেক দল বিপক্ষে। পক্ষ-বিপক্ষ দুইদল ফেসবুকে কঠিন ফাইট করছে। এই মুহুর্তে আমার জানা মতে, সামুর তিনজন ব্লগার করোনা আক্রান্ত। যাই হোক, ঢাকা শহরে কোনো বাসায় কেউ করোনা আক্রান্ত হলে- কেউ প্রকাশ করে না। কেন গোপন রাখে সেটা আমার মাথায় আসে না। বাসায় থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা করে। অবস্থা খুব খারাপ হলে- হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অনেকে আছেন, তার মধ্যে করোনার সব রকম উপসর্গ আছে। অথচ সে টাকার অভাবে হাসপাতালে যাচ্ছে না। কিন্তু সে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খাচ্ছে। সে ধরেই নিয়েছে- বাঁচা মরা আল্লাহর হাতে। প্রতিটা এলাকায় এরকম ২/১ জন করে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ টাকা মানুষকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। আবার টাকা নেই বলে হায়াত থাকতেও কেউ কেউ মরে যাচ্ছে। হোক সেটা কালো বা সাদা টাকা।

প্রথম প্রথম ঢাকার সব হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা হতো না।
এখন ঢাকা শহরের সব হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা হচ্ছে। কারন, একজন করোনা রোগীর প্রচুর টাকা বিল হয়। হাসপাতালের অনেক ইনকাম হয়। তাই প্রতিটা হাসপাতাল করোনা ইউনিট ওপেন করেছে। লোকজন এখন টাকার দিকে তাকাচ্ছে না। হাসপাতালে সিট পেলেই মহাখুশি হচ্ছে। যার যা শেষ সম্ভল আছে তা দিয়েই চিকিৎসা করছে। আর যার শেষ সম্বল নেই? সে করোনা নিয়েও পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লকডাউনে কতটা উপকার পাওয়া গেছে আমি জানি না। হয়তো রাস্তায় গাড়ি বাস চলে নি। কিন্তু প্রতিটা মহল্লার অলিতে গলিতে সব দোকানপাট খুলেছে। এবং ভ্যানগাড়িতে করে সবজি, ফলমুল বিক্রি হয়েছে। আগে যে গলিতে তিনজন ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করতো, এখন সেই গলিতে দশজন ভ্যানগাড়িতে করে সবজি, মাছ আর ফল বিক্রি করছে। সরকার মানুষকে বাঁচাতে পারবে না। তাই মানুষ যা পারছে, করছে। কোনো রকমে বেঁচে আছে। সরকার মেট্রোরেল করছে, পদ্মাসেতু করছে। সরকার তো আর ঘরে ঘরে গিয়ে কে খেয়ে আছে, না খেয়ে আছে তা দেখবে না।

আমি এখনও করোনার টিকা নিতে পারি নি।
রেজিষ্টেশন করেছি একমাস আগে। করোনার টিকার লাইন অনেক লম্বা হয়। দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। টিকার জন্য আমি দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে রাজী আছি। তবুও আমাকে টিকা দিন। আমার সুস্থ থাকা, আমার বেঁচে থাকা খুব দরকার। আমার কিছু হলে আমার পরিবারের কি হবে? কে দায়িত্ব নিবে? শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সবাই টিকা পাবে। কিন্তু বলেন নি কবে টিকা পাবে? টিকার লাইনে আমি হুজুরদের দেখেছি। যে সমস্ত হুজুর বলেছেন, মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তারাও শেষ পর্যন্ত টিকার লাইনে এসে দাড়িয়েছেন। এমন কি অনেক হুজুর, মাওলানারা টিকা নিতে বলেছেন। মালোশিয়া থেকে আজহারী সাহেবও ফেসবুকের মাধ্যমে সকলকে টিকা নিতে বলেছেন। শেষ পর্যন্ত মানুষ দোয়ার চেয়ে টিকার উপর বেশি ভরসা রেখেছেন। এটা একটা ভালো দিক।

এই করোনার মধ্যে বিয়ে শাদি হচ্ছে।
জন্মদিন হচ্ছে। লোকজন গ্রামে যাচ্ছে, গ্রাম থেকে শহরে আসছে। মানুষের কোনো কিছুই থেমে নেই। বাজারে খুব ভিড়। বিদেশ থেকে লোক আসছে। দেশে এসে বিয়ে করে আবার চলে যাচ্ছে। যারা করোনায় বেকার হয়েছে- তাঁরা তাদের শেষ সম্বল দিয়ে কোনো রকমে খেয়েপরে বেঁচে আছে। যাদের শেষ সম্বল নেই তাঁরা জনে জনে হাত পাতছে। যে ছেলে আগে ১৪ টাকা দিয়ে বেনসন সিগারেট খেত, সে এখন ৫ টাকা দিয়ে রয়েল সিগারেট খাচ্ছে। স্কুল, কলেজ বন্ধ। লেখাপড়া বন্ধ। কোচিং বন্ধ। অনেক শিক্ষকের ইনকাম খুব বেশি কমে গেছে। আগে যে শিক্ষক সব মিলিয়ে চল্লিশ হাজার টাকা ইনকাম করতো- এখন সে ১২ হাজার টাকা ইনকাম করছে অনলাইনে পড়িয়ে। তবুও সব কিছু মিলিয়ে দেশের মানুষ কোনো রকমে বেঁচে আছে। এটাই বড় কথা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৩:১৭
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×