
ইদানিং আমার খুব ভূতের ভয় হয়েছে।
অথচ এক সময় আমি খুব সাহসী ছিলাম। গ্রামে মধ্যরাত্রে একা পুকুর ঘাটে বসে থেকেছি ভোর পর্যন্ত। শিয়াল আমার পাশ দিয়ে চলে গেছে। চারপাশ অন্ধকার, সাথে ঝিঝি পোকা আর ব্যাঙের ডাক। গাছের ডালে প্যাঁচা বসে আছে। কি ভয়ানক তার চাহনি। কি ভয়ানক তার ডাক। সারারাত শ্মশানে বসে কার্ড খেলেছি। এবং গ্রামের কবরস্থানে আড্ডা দিয়েছি। রাতের বেলাতে কবরস্থানের গাছ থেকে আম পেড়েছি। কখনও কিছু টের পাইনি। ভয় লাগে নি মোটেও। এখন বয়স বাড়ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভয়।
আজকাল হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
তখন, সামান্য টিকটিকি'র ডাকে বুকটা কেঁপে ওঠে। ঘরে দরজার কাছে মড়মড় শব্দ পাই। একটা শীতল বাতাস বয়ে যায়। রাস্তায় অনেক গুলো কুকুর একসাথে ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। তখন বুকটা কেমন কেঁপে ওঠে। মনে হয়, কারা যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। কেমন একটা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। গা টা কেমন ছমছম করে ওঠে। আমি বিছানায় শুয়ে থাকলেও টের পাই কে যেন ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতল বের করে ডক ডক করে পানি খাচ্ছে। ভয়ে আমার গলা বুক শুকিয়ে যায়।
গতকাল রাতের ঘটনাটা বলি-
ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। মোবাইলে সময় দেখলাম- ২ টা ৫৫ মিনিট। পানি খাবো। মাঝরাতে ঘুম ভাঙলেই পানি খেতে ইচ্ছা করে। ফ্রিজ খুলে পানির বোতল বের করার সময় মনে হলো- কেউ একজন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। বুড়ো মতো একটা লোক। আমি যেন তার নিশ্বাঃসের শব্দ পাচ্ছি। এর আগের দিনও হুট করে ঘুম ভেঙ্গে গেল। তখন রাত প্রায় তিনটা। ওয়াশরুমে যাবো। মনে হলো কমোডে বুড়ো মতোন কেউ একজন বসে আছে। সে এখন'ই আমার গলায় ছুরি চালাবে।
আমার বন্ধুদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে সাহসী ছিলাম।
একবার আমার বন্ধুরা খবর আনলো সিপাইবাগের দিকে একটা ভূতের বাড়ি আছে। সেখানে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না। আমি বললাম, আমি সেই বাড়িতে যাবো। বন্ধুরা বলল, তার আগে সাদা কাগজে লিখো- 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না'। আমি লিখলাম। তখন কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছি। চেংড়া বয়স। বেজায় সাহস। এক ভোর সন্ধ্যায় গেলাম ভূতের বাড়িতে। দোতলা বাড়ি। বহু পুরোনো বাড়ি। দরজা জানালা কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। পুরো বাড়িতে শ্যাওলা জমে আছে। কয়েক জায়গায় বট গাছ জন্মে গেছে। এক ঘন্টা সেই বাড়িতে অন্ধকারে বসে ছিলাম।
আমার ছোট বেলার একটা গল্প বলি।
তখন আমার বয়স ছয় বছর। গুলবাগের দিকে একটা পুরোনো বাড়ি আছে। অনেক বড় বাড়ি। নানান রকম গাছপালা দিয়ে ভরা। সেই বাড়িতে কেউ থাকে না। ঝিলপাড়ে ঘুড়ি উড়াচ্ছি বিকেলবেলা। হঠাত আমার ঘুড়ি কেটে গেলো। আমার একটাই ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি উড়ে গিয়ে পড়লো সেই পুরোনো বাড়িতে। আমি উঁচু দেয়াল বেয়ে সেই বাড়িতে গেলাম।
একটা পেয়ারা গাছে ঘুড়িটা আটকে আছে। পেয়ারা গাছে উঠবো, তখন দেখি একটা মেয়ে। সাদা শাড়ি পরা। ব্লাউজ পরেনি। ভরাট বুক ফুটে আছে। খুব সুন্দর মেয়ে। বয়স ১৭/১৮ হবে। মেয়েটার মুখ খুব মায়াময়। মেয়েটা বলল, তুমি আমাদের বাড়িতে এসেছো। তোমাকে কি খেতে দেই! ঘরে তো কিছুই নেই। আমি বললাম, আমি কিছু খাবো না। আমার ঘুড়িটা নিয়েই চলে যাবো। মেয়েটা বলল, তুমি মেহমান। আসো তোমাকে দুধ খাওয়াই। বলেই মেয়েটা শাড়ির আচল সরিয়ে দিলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



