somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভয়ের গল্প, ভুতের গল্প নয়

০৯ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি- গুগল।

ইদানিং আমার খুব ভূতের ভয় হয়েছে।
অথচ এক সময় আমি খুব সাহসী ছিলাম। গ্রামে মধ্যরাত্রে একা পুকুর ঘাটে বসে থেকেছি ভোর পর্যন্ত। শিয়াল আমার পাশ দিয়ে চলে গেছে। চারপাশ অন্ধকার, সাথে ঝিঝি পোকা আর ব্যাঙের ডাক। গাছের ডালে প্যাঁচা বসে আছে। কি ভয়ানক তার চাহনি। কি ভয়ানক তার ডাক। সারারাত শ্মশানে বসে কার্ড খেলেছি। এবং গ্রামের কবরস্থানে আড্ডা দিয়েছি। রাতের বেলাতে কবরস্থানের গাছ থেকে আম পেড়েছি। কখনও কিছু টের পাইনি। ভয় লাগে নি মোটেও। এখন বয়স বাড়ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভয়।

আজকাল হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
তখন, সামান্য টিকটিকি'র ডাকে বুকটা কেঁপে ওঠে। ঘরে দরজার কাছে মড়মড় শব্দ পাই। একটা শীতল বাতাস বয়ে যায়। রাস্তায় অনেক গুলো কুকুর একসাথে ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। তখন বুকটা কেমন কেঁপে ওঠে। মনে হয়, কারা যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। কেমন একটা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। গা টা কেমন ছমছম করে ওঠে। আমি বিছানায় শুয়ে থাকলেও টের পাই কে যেন ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতল বের করে ডক ডক করে পানি খাচ্ছে। ভয়ে আমার গলা বুক শুকিয়ে যায়।

গতকাল রাতের ঘটনাটা বলি-
ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। মোবাইলে সময় দেখলাম- ২ টা ৫৫ মিনিট। পানি খাবো। মাঝরাতে ঘুম ভাঙলেই পানি খেতে ইচ্ছা করে। ফ্রিজ খুলে পানির বোতল বের করার সময় মনে হলো- কেউ একজন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। বুড়ো মতো একটা লোক। আমি যেন তার নিশ্বাঃসের শব্দ পাচ্ছি। এর আগের দিনও হুট করে ঘুম ভেঙ্গে গেল। তখন রাত প্রায় তিনটা। ওয়াশরুমে যাবো। মনে হলো কমোডে বুড়ো মতোন কেউ একজন বসে আছে। সে এখন'ই আমার গলায় ছুরি চালাবে।

আমার বন্ধুদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে সাহসী ছিলাম।
একবার আমার বন্ধুরা খবর আনলো সিপাইবাগের দিকে একটা ভূতের বাড়ি আছে। সেখানে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না। আমি বললাম, আমি সেই বাড়িতে যাবো। বন্ধুরা বলল, তার আগে সাদা কাগজে লিখো- 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না'। আমি লিখলাম। তখন কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছি। চেংড়া বয়স। বেজায় সাহস। এক ভোর সন্ধ্যায় গেলাম ভূতের বাড়িতে। দোতলা বাড়ি। বহু পুরোনো বাড়ি। দরজা জানালা কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। পুরো বাড়িতে শ্যাওলা জমে আছে। কয়েক জায়গায় বট গাছ জন্মে গেছে। এক ঘন্টা সেই বাড়িতে অন্ধকারে বসে ছিলাম।

আমার ছোট বেলার একটা গল্প বলি।
তখন আমার বয়স ছয় বছর। গুলবাগের দিকে একটা পুরোনো বাড়ি আছে। অনেক বড় বাড়ি। নানান রকম গাছপালা দিয়ে ভরা। সেই বাড়িতে কেউ থাকে না। ঝিলপাড়ে ঘুড়ি উড়াচ্ছি বিকেলবেলা। হঠাত আমার ঘুড়ি কেটে গেলো। আমার একটাই ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি উড়ে গিয়ে পড়লো সেই পুরোনো বাড়িতে। আমি উঁচু দেয়াল বেয়ে সেই বাড়িতে গেলাম।
একটা পেয়ারা গাছে ঘুড়িটা আটকে আছে। পেয়ারা গাছে উঠবো, তখন দেখি একটা মেয়ে। সাদা শাড়ি পরা। ব্লাউজ পরেনি। ভরাট বুক ফুটে আছে। খুব সুন্দর মেয়ে। বয়স ১৭/১৮ হবে। মেয়েটার মুখ খুব মায়াময়। মেয়েটা বলল, তুমি আমাদের বাড়িতে এসেছো। তোমাকে কি খেতে দেই! ঘরে তো কিছুই নেই। আমি বললাম, আমি কিছু খাবো না। আমার ঘুড়িটা নিয়েই চলে যাবো। মেয়েটা বলল, তুমি মেহমান। আসো তোমাকে দুধ খাওয়াই। বলেই মেয়েটা শাড়ির আচল সরিয়ে দিলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:১৪
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×