somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

দু'টি গান, দু'টি কথা

১৯ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালু
শেষ করাতো যায় না গেয়ে তোমার গুণগান।


গানটা খুবই সুন্দর। গানের সুরও অনেক শ্রুতিমধুর।
গানের প্রতিটা লাইন অনেক মনোরম। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গানটা মাথার ভিতর বাজতে শুরু করলো। সারাটা দিন গুণগুণ করে অনেকবার গাইলাম। গানের অন্য দুটা লাইন এই রকমঃ শিশু মুছা নবীকে যখন দুশমনেরই ডরে/ সিন্ধুকে ভরিয়া দিলে ভাসায়ে সাগরে। সকালে আমি ৯ টায় বাসা থেকে বের হই। আজ বের হতে দেরী হয়ে গেছে। কারন ইউটিউবে এই গানটা পাঁচ বার শুনলাম। এই গানের কয়েকটা লাইন আমাকে মুগ্ধ করেছে। শেষের লাইন গুলো এই রকমঃ ফেরেশতা পাঠাইলে তুমি এছমে আজম দিয়া/ যখন ইউনুছ নবীরে খাইল মাছেতে গিলিয়া। আসলে এটা গান নয়। এটা গজল। গজলটি খেয়েছেন- আব্দুল আলীম। গজলটি লিখেছেন- সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলামের মতো সুরকার, গীতিকার এযুগে নেই।

একবার অফিসে বস হঠাত গেয়ে উঠেন গানটি।
তখনই গানটা আমার মাথায় সেট হয়ে যায়। তখনও আমার পুরো গানটি শোনা হয় নি। আজই প্রথম পুরো গানটা শুনলাম। এবং অভিভূত হলাম। স্কুলে আমাদের একজন শিক্ষক ছিলেন। স্যারের নাম ছিলো বারিক। বারিক স্যারের মন মেজাজ খারাপ হলেই বলতেন- আজ তোমাদের পড়াবো না। মন মেজাজ খারাপ। খুব খারাপ। তোমরা হইচই করবা না। হইচই করলে কানটা ধরে ক্লাশ থেকে বের করে দিবো। বুঝা গেলো কথাটা? স্যার রহিমকে ডাকলেন। রহিম গজল খুব ভালো গায়। স্যার বললেন, রহিম গজল শুরু করো। তখন রহিম ''আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালু'' গানটা গায়। অবশ্য তখন গানে আমার মন ছিলো না। বন্ধুদের সাথে দুষ্টমিতে মেতেছিলাম। আজ এই গানটা দিয়েই দিনটা শুরু করলাম।

এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি
খোদা তোমার মেহেরবানী।


এই গানটা আমার খুবই প্রিয়।
আবারও ভুল করছি। এটা গান নয়, গজল। কাজী নজরুল ইসলামের গজল। এই গজলের শেষ দুটি লাইন এই রকমঃ পথ না ভুলি তাই তো দিলে/পাক কোরানের বাণী। কি সুন্দর সহজ সরল কথা। গায়ক গানটা খেয়েছেনও খুব সুন্দর করে। দরদ দিয়ে। বারবার শুনলেও বিরক্ত লাগে না। এই গানটা প্রথম শুনি ছোটবেলায়। আমাদের এলাকায় এক অন্ধ ভিক্ষুক প্রতি সপ্তাহে আসতো। অন্ধ ফকির খুব সুরেলা কন্ঠে গানটি গাইতো। গানটা শুনতে পেলেই আমি রাস্তায় বের হতাম। অবাক হয়ে অন্ধ ভিক্ষুকটির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিক্ষুকটিকে দিতাম। অবাক ব্যাপার হচ্ছে- ভিক্ষুকটি শুধু এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি। গানটি গাইতো। অন্য কোনো গান কেন গাইতো না?

স্কুলে বারিক স্যার রহিমকে দিয়ে এই গানটিও খাওয়াতো।
রহিমের গানের গলা ভালো ছিলো। ক্লাশে সবচেয়ে নির্বোধ ছিলো- রহিম। এখন সে কাতার থাকে। গ্রামে পাকা বাড়িটারি করে অস্থির। রহিম বিয়ের আগে আমাকে খুঁজে বের করে এবং তার বিয়েতে জোর করে নিয়ে যায়। রহিমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার। গত তেরো বছর ধরে রহিমের আর কোনো খোজ নেই। বারিক স্যারকে বিশ বছর পর সেদিন রাস্তায় দেখেছি। একদম বুড়ো হয়ে গেছেন। তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে গিয়েছে এই খবর আমি জানি। স্যার স্কুল থেকে অবসর নিয়েছেন সেটাও জানি। যারা লেখাপড়া ঠিক মতো করতো না- স্যার তাদের ডাকতেন ভন্ড বলে। বারিক স্যার এবং রহিমের কথা আজ সারাদিনে বেশ কয়েকবার মনে পড়েছে। তাঁরা কোথায় থাকে জানি না। জানলে গিয়ে দেখা করে আসতাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:৩০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×