
ছবিঃ আমার তোলা।
আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালু
শেষ করাতো যায় না গেয়ে তোমার গুণগান।
গানটা খুবই সুন্দর। গানের সুরও অনেক শ্রুতিমধুর।
গানের প্রতিটা লাইন অনেক মনোরম। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গানটা মাথার ভিতর বাজতে শুরু করলো। সারাটা দিন গুণগুণ করে অনেকবার গাইলাম। গানের অন্য দুটা লাইন এই রকমঃ শিশু মুছা নবীকে যখন দুশমনেরই ডরে/ সিন্ধুকে ভরিয়া দিলে ভাসায়ে সাগরে। সকালে আমি ৯ টায় বাসা থেকে বের হই। আজ বের হতে দেরী হয়ে গেছে। কারন ইউটিউবে এই গানটা পাঁচ বার শুনলাম। এই গানের কয়েকটা লাইন আমাকে মুগ্ধ করেছে। শেষের লাইন গুলো এই রকমঃ ফেরেশতা পাঠাইলে তুমি এছমে আজম দিয়া/ যখন ইউনুছ নবীরে খাইল মাছেতে গিলিয়া। আসলে এটা গান নয়। এটা গজল। গজলটি খেয়েছেন- আব্দুল আলীম। গজলটি লিখেছেন- সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলামের মতো সুরকার, গীতিকার এযুগে নেই।
একবার অফিসে বস হঠাত গেয়ে উঠেন গানটি।
তখনই গানটা আমার মাথায় সেট হয়ে যায়। তখনও আমার পুরো গানটি শোনা হয় নি। আজই প্রথম পুরো গানটা শুনলাম। এবং অভিভূত হলাম। স্কুলে আমাদের একজন শিক্ষক ছিলেন। স্যারের নাম ছিলো বারিক। বারিক স্যারের মন মেজাজ খারাপ হলেই বলতেন- আজ তোমাদের পড়াবো না। মন মেজাজ খারাপ। খুব খারাপ। তোমরা হইচই করবা না। হইচই করলে কানটা ধরে ক্লাশ থেকে বের করে দিবো। বুঝা গেলো কথাটা? স্যার রহিমকে ডাকলেন। রহিম গজল খুব ভালো গায়। স্যার বললেন, রহিম গজল শুরু করো। তখন রহিম ''আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালু'' গানটা গায়। অবশ্য তখন গানে আমার মন ছিলো না। বন্ধুদের সাথে দুষ্টমিতে মেতেছিলাম। আজ এই গানটা দিয়েই দিনটা শুরু করলাম।
এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি
খোদা তোমার মেহেরবানী।
এই গানটা আমার খুবই প্রিয়।
আবারও ভুল করছি। এটা গান নয়, গজল। কাজী নজরুল ইসলামের গজল। এই গজলের শেষ দুটি লাইন এই রকমঃ পথ না ভুলি তাই তো দিলে/পাক কোরানের বাণী। কি সুন্দর সহজ সরল কথা। গায়ক গানটা খেয়েছেনও খুব সুন্দর করে। দরদ দিয়ে। বারবার শুনলেও বিরক্ত লাগে না। এই গানটা প্রথম শুনি ছোটবেলায়। আমাদের এলাকায় এক অন্ধ ভিক্ষুক প্রতি সপ্তাহে আসতো। অন্ধ ফকির খুব সুরেলা কন্ঠে গানটি গাইতো। গানটা শুনতে পেলেই আমি রাস্তায় বের হতাম। অবাক হয়ে অন্ধ ভিক্ষুকটির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিক্ষুকটিকে দিতাম। অবাক ব্যাপার হচ্ছে- ভিক্ষুকটি শুধু এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি। গানটি গাইতো। অন্য কোনো গান কেন গাইতো না?
স্কুলে বারিক স্যার রহিমকে দিয়ে এই গানটিও খাওয়াতো।
রহিমের গানের গলা ভালো ছিলো। ক্লাশে সবচেয়ে নির্বোধ ছিলো- রহিম। এখন সে কাতার থাকে। গ্রামে পাকা বাড়িটারি করে অস্থির। রহিম বিয়ের আগে আমাকে খুঁজে বের করে এবং তার বিয়েতে জোর করে নিয়ে যায়। রহিমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার। গত তেরো বছর ধরে রহিমের আর কোনো খোজ নেই। বারিক স্যারকে বিশ বছর পর সেদিন রাস্তায় দেখেছি। একদম বুড়ো হয়ে গেছেন। তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে গিয়েছে এই খবর আমি জানি। স্যার স্কুল থেকে অবসর নিয়েছেন সেটাও জানি। যারা লেখাপড়া ঠিক মতো করতো না- স্যার তাদের ডাকতেন ভন্ড বলে। বারিক স্যার এবং রহিমের কথা আজ সারাদিনে বেশ কয়েকবার মনে পড়েছে। তাঁরা কোথায় থাকে জানি না। জানলে গিয়ে দেখা করে আসতাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


