somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (বত্রিশ )

২০ শে আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

আপনি কি কখনও ভয়ের স্বপ্ন দেখেছেন?
খুব ভয়ের? মারাত্মক ভয়ের। যে স্বপ্ন একটা হরর মুভিকেও ছাড়িয়ে যায়। একদম কলিজা কেঁপে ওঠে। সারা শরীরে ঘাম দিয়ে দেয়। গলা, বুক শুকিয়ে যায়। এত তীব্র ভয় যে সারা শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে। শাহেদ জামাল সহজ সরল জীবনযাপন করে। কিন্তু পরপর তিন দিন সে প্রচন্ড ভয়ের স্বপ্ন দেখেছে। এমনিতেই শাহেদ জামাল ভীতু মানুষ। সে কোনোদিন গরু জবাই দেখে নি। কোরবানীর ঈদের সময় সে সারাদিন ঘর থেকে বের হয় না। শাহেদ আজ পর্যন্ত একটা মূরগীও জবো করে নি। এমন কি সিনেমাতে রক্ত খুনোখুনি দেখতে পারে না। মারাত্মক কোনো দৃশ্য সিনেমায় চলে এলে শাহেদ সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কঠিন দৃশ্য দেখার সাহস নেই। শাহেদ জামাল নরম মনের মানুষ।

গত সোমবার রাতের কথা।
শাহেদ জামালের শরীরটা ভালো নেই। এখন শরীর সামান্য খারাপ লাগলেই মনে হয়- করোনা হয়নি তো আবার! তাড়াতাড়ি গরম পানি করে গিলতে থাকে গ্লাসের পর গ্লাস। সেদিন শরীর খারাপের কারনে শাহেদ জামাল ঘুমানোর জন্য রাত এগারো টায় বিছানায় গেলো। অন্য সময় রাত তিনটা-চারটায় আগে সে বিছানায় যায় না। যাই হোক, বিছানায় শোয়া মাত্র শাহেদ জামাল ঘুমিয়ে পড়লো। গভীর ঘুম। এবং রাত তিন টায় সে স্বপ্ন দেখা শুরু করলো। স্বপ্নটা খুবই ভয়ানক। সমস্যা হলো- রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নকে যতটা ভয়াবহ মনে হয়, দিনের বেলা স্বপ্নটাকে ততটা ভয়ানক মনে হয় না। বরং অনেকটা হাস্যকর লাগে। অথচ রাতে এই স্বপ্নে কলিজা পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। স্বপ্নের মধ্যে কি মহান প্রভু কোনো ইশারা দিয়ে দেন?

শাহেদ জামাল স্বপ্নে দেখেছে-
সে বাসায় ফিরছে। চারিদিক অন্ধকার। খুব বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় জ্যাম। অলিতে গলিতে পানি জমে গেছে। শাহেদ জামাল বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই বাসায় ফিরছে। তার ইচ্ছা যত দ্রুত সম্ভব বাসায় ফিরে যাওয়া। কিন্তু তার খুব চা খেতে ইচ্ছা করছে। এক কাপ আগুন গরম চা। রাস্তার পাশেই একটা দোকানে চা বিক্রি করছে। শাহেদ জামাল আরাম করে চা খেলো। তারপর একটা সিগারেট ধরালো। তখন একলোক এসে বললো- স্যার আমার কাছে ভালো কাপড় আছে। নিবেন? শাহেদ জামাল কিছুই বলল না। অথচ লোকটা তার ঝোলা ব্যাগ থেকে সাদা কাপড় বের করলো। বলল, ধরে দেখুন কি মসৃন! শাহেদ জামাল কাপড়টা হাতে নিলো। এবং বলল, এটা তো কাফনের কাপড়! লোকটা বিকট হাসি দিয়ে বলল- এটা আপনার দরকার হবে। সময় নেই। লোকটার বিকট হাসি দেখে শাহেদ জামাল ভয় পেয়ে গেলো। লোকটা শাহেদ জামালের হাতে কাফনের কাপড় টা দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো।

শাহেদ জামালের দ্বিতীয় ভয়ের স্বপ্ন-
শাহেদ জামাল দ্রুত বাসায় ফিরছে। আকাশের অবস্থা ভালো না। যে কোনো সময় ঝুমঝুম বৃষ্টি নামবে। খুব বাতাস দিচ্ছে। বৃষ্টির দিন বলেই আশে পাশে কোনো রিকশা দেখা যাচ্ছে না। রাস্তা বেশ নিরিবিলি। এমন সময় চারজন লোক শাহেদ জামালকে ঘিরে ধরলো। শাহেদ জামালের চারজন লোককে পরিচিত বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু মনে পড়ছে না। চারজন লোক শাহেদ জামালকে ধরে মারতে শুরু করেছে। একজন পকেটমার বা চোর ধরা পড়লে পাবলিক যেভাবে নির্মমভাবে মারে, ঠিক সেই নির্মমভাবে চারজনলোক শাহেদ জামালকে নির্মভাবে মারছে। হাতুড়ি দিয়ে মাথায় মারছে। একজন স্ক্রু ডাইভার চোখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন চায়নিজ কুড়াল দিয়ে হাতের আঙুল গুলো টুকরো টুকরো করে কাটছে। শাহেদ জামাল আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার দিচ্ছে। অথচ তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। কারন তার মুখে রোমাল গোজা।

শাহেদ জামাল একটু একটু করে মৃত্যুর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তার রক্তে রাজপথ ভিজে গেছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই তার মৃত্যু হবে। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আকাশ থেকে বড় বড় ফোটায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। শাহেদ জামাল বিড়বিড় করে দুইবার ডাকলো- নীলা! নীলা! এমন সময় রাস্তা দিয়ে একলোক যাচ্ছিলো তার ছোট মেয়েকে নিয়ে। ভদ্রলোক শাহেদ জামালকে দেখে এগিয়ে এলো। ছোট বাচ্চাটা বলল- বাবা উনাকে হাসপাতালে নিতে হবে। এদিকে শাহেদ জামাল প্রায় অচেতন অবস্থা। সে বুঝতে পারছে একজন বাবা আর তার কন্যা ফারাজা তাঁরা দুজন মিলে তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে। এম্বুলেন্স কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে পড়বে। ফারাজা তার বাবাকে বলল, বাবা উনি বেঁচে যাবেন তো। বাবা বললেন, তুমি চাও উনি বেঁচে যাক? হ্যাঁ চাই। তাহলে চিন্তা করো না। মন খারাপ করো না। উনি বেঁচে যাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:৫৪
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×