somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৫৮

২৯ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

গ্রামে ধনী লোকের সন্তান ছিলো মনসুর।
অথচ মনসুর একদিন একটা ছাগল চুরী করে ফেলল। এবং ধরা খেয়ে গেলো। মনসুর লজ্জায় শেষ। তার বাবা ভীষন রাগি। ছাগল চুরীর অপরাধে তার বাবা তাকে আজ মেরেই ফেলবে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে সে আজ মস্ত ভুল করেছে। সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে দুষ্ট ও বদ ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করা। মনসুর ঠিক করলো সে পালাবে। এই মুখ সে কাউকে দেখাতে পারবে না। তার বাবাকে গ্রামের সমস্ত লোকজন শ্রদ্ধা করে। মানে। তাদের বিষয়-সম্পত্তিও কম নেই। তাদের বাড়িতে কামলাই আছে চার জন। চুরীটা মনসুর অভাবের কাররনে করেনি। মজা করে চুরী করেছে। কিন্তু তার বন্ধুরা ছাগলটা জবো করে ফেলে। রান্না করে। সবাই মিলে খেয়েছে।

বিক্রমপুরের সত্য ঘটনা বলছি।
বানোয়াট কাহিনী নয়। আমি মিথ্যা লিখতে পারি না। স্বাধীনতা যুদ্ধের তিন বছর পরের কথা- এসব। বাবার ভয়ে মনসুর পালিয়ে গেলো সত্যি সত্যি। এবং সত্যি সত্যি সে আর ফিরে এলো না। টানা ২২ বছর পর মনসুর গ্রামে ফিরে আসে। মনসুর পালিয়ে বিক্রমপুর থেকে একটা লঞ্চে চেপে বরিশাল চলে যায়। তার ভাগ্য ভালো। সে লঞ্চে একটা চাকরী পেয়ে যায়। বাবুর্চির সহকারী হিসাবে। বাবুর্চি মনসুরকে খুব পছন্দ করে ফেলল। মনসুর খুব মন দিয়ে কাজ করে। এবং ভালো কাজ করে। এই বাবুর্চির সহকারীর জীবন তার বেশ ভালো লেগেছে। এখানে পড়ালেখার জন্য কেউ তাকে চাপ দেয় না। নদীতে লাফালাফি করে গোছল করতেও কেউ মানা করে না।

ধীরে ধীরে মনসুর লঞ্চের ফোরম্যান হয়ে গেলো।
সে এখন লঞ্চের সব কাজে দক্ষ। সবচেয়ে বড় কথা সে তার চুরী অব্যহত রেখেছে। লঞ্চে মনসুরের কেবিন আছে। কেবিনে তার বিছানা ভরতি টাকা। টাকার বান্ডিল। টাকার বিছানায় ঘুমিয়ে মনসুর গর্বিত। ইদানিং মনসুর লঞ্চে চোরাই মাল আনা নেওয়া করে। এ কাজে সে বিশেষ দক্ষ। ১৪ টা থানার সাথে তার সম্পর্ক ভালো। সে প্রশাসনকে খুশি রাখতে জানে। প্রশাসন খুশি থাকলে চুরীর মাল আনা নেওয়া করতে ঝামেলা হয় না। লাভও দ্বিগুন হয়। একদিন মনসুর দেখে সে মোট ৯৭ লাখ টাকার মালিক। লঞ্চের মালিক একদিন মনসুরকে বললেন, তুমি নাকি চোরাই মাল আমার লঞ্চে বহন করো! এই কাজ আর করবে না।

একদিন গভীর রাতের ঘটনা।
লঞ্চের মালিককে মনসুর ধাক্কা দিয়ে মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। তারপর সে নিজে সেই লঞ্চের মালিক বনে যায়। নিজে লঞ্চের মালিক হয়ে সে গ্রামে তার বাবা মা আর ভাই বোনের কাছে ফিরে যায়। পরিবারের সবাই তাকে খুব আনন্দ নিয়ে গ্রহন করলো। কারন ততদিনে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। মনসুর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ালো। পরিবারটি ঘুরে দাড়ালো। খুব অল্প সময়ে মনসুর তার বোনদের খুব ধূমধাম করে বিয়ে দিলো। তার ভাইদের ব্যবসা ধরিয়ে দিলো। বাবা মাকে পাঠালেন হজ্বে। গ্রামে হয়ে গেলো মনসুর হিরো। যদিও গ্রামের লোকজন সবাই জানে মনসুর চুরী করে পালিয়ে ছিলো।

বর্তমানে মনসুরের আর্থিক অবস্থা ভালো না।
তার দুই ছেলে, এক মেয়ে। সে নিয়মিত বাড়ি ভাড়াও দিতে পারে না। পলিথিন কারখানায় কাজ করে। খুব পরিশ্রমের কাজ। তবে সে নিয়মিত নামাজ পড়ে। পলিথিন কারখানায় কিভাবে চুরী করা যায় তাই ভাবে। আজ রাস্তায় মনসুরের সাথে আমার দেখা। সে আমাকে দেখেই বলল, তোমাদের বাড়ি খান বাড়ি না? আমাকে চিনেছো? আমি বললাম স্যরি। মনসুর বলল, খান বাড়ির পাশেই আমাদের বাড়ি ছিলো। আমি তোমাদের বাড়ির এক ছাগল চুরী করেছিলাম। তারপর লজ্জায় গ্রাম থেকে পালিয়ে ছিলাম। সেই চুরীর অভ্যাস আমার আজও আছে। অথচ আমি ভদ্রলোকের সন্তান। কিন্তু আমার ভাগ্য খারাপ। অনেক টাকা কামিয়েছি। সম্পদ করেছি। কিন্তু আজ আমি নিঃশ। তবে আমি জানি আমার আবার টাকা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১:২২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিয়া আচরণে অতিষ্ট হয়ে হযরত আলী (রা.) ও তাঁর শিয়ার বিপক্ষের সত্য প্রকাশ করতে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩১



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×