somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (তেত্রিশ)

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

গত বছরের কথা।
তখন মাত্র দেশে করোনা এসেছে। সরকার প্রথম বারের মতো লকডাউন দিয়েছে। দেশের মানুষ করোনা এবং লকডাউনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। কারন এর আগে দেশে কখনও করোনা বা লকডাউন আসে নি। চারিদিকে থমথমে অবস্থা! খাপ খাওয়াতে পারছিলো না দেশের মানুষ। দিন আনি দিন খাই মানুষের অবস্থা ভয়ঙ্কর খারাপ হলো। অনেক অফিস বেতন বন্ধ করে দিলো। আর বেতন দিলেও অতি সামান্য দিলো। কারন ছাড়াই বহু লোকের চাকরী চলে গেলো। অথচ একজনের চাকরী দিয়েই পুরো পরিবার চলতো। আমাদের দেশে দরিদ্র লোকের অভাব নেই। ধনীরা অল্প বিস্তর সহযোগিতা করলেও- সব দরিদ্র লোকের অভাব মিটেনি। সরকার সাহায্য করেছে কিন্তু সরকারী সাহায্য লুটপাট হয়েছে বেশি। করোনার ক্ষতি পূরন করতে অনেক অফিস ছুটির দিন গুলোতেও অফিস খোলা রাখছে।

দেশের এই করোনা আর লকডাউন পরিস্থিতে-
শাহেদ জামালের বন্ধুর বিনা কারনে চাকরী চলে গেলো। অথচ সে কোম্পানীর পুরোনো কর্মী। বিশ্বস্ত কর্মী। শাহেদ জামালের বন্ধুর নাম কাজী আহসান। ভালো ছেলে। পরিশ্রমী ছেলে। সবচেয়ে বড় কথা সে সৎ মানুষ। এযুগে সৎ মানুষ নেই বললে খুব বেশি বলা হবে না। চাকরী চলে যাওয়াতে কাজী আহসান বিরাট বিপদে পড়ে গেলো। তার জমানো কোনো টাকা নেই। বেতনের অর্ধেক চলে যায় বাড়ি ভাড়াতে। বাকি অর্ধেক টাকা দিয়ে স্বামী স্ত্রীর চলে যায় কোনো রকমে। আহসান তার চাকরী চলে যাওয়ার কথা স্ত্রীকে বলেনি। কারন বেচারি প্রেগনেন্ট। প্রথম বাচ্চা হবে তাদের। আহসান সকালে আগের মতোই বাসা থেকে বের হয়। এবং সন্ধ্যায় ফেরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে রমনা পার্কে বসে থাকে। রমনা পার্কেই পরিচয় হয় আহসান আর শাহেদ জামালের।

আহসানের বস একজন অসৎ মানুষ।
বস অসৎ হলেও সে প্রতিমাসে বেতনটা সঠিক সময়ে দিয়ে দেয়। সীমাহীন টাকা তার। আহসানের বস মহিউদ্দিন সম্প্রতি ঘোষনা করেছেন সে এখন থেকে প্রতি বছর দুটা করে উপন্যাস লিখবে। আসলে মহিউদ্দিন নিজের অপকর্ম ডাকতে নানান রকম সেবামূলক কাজ করতে চাচ্ছেন। শাক দিয়ে কি আর মাছ ঢাকা যায়! শাহেদ জামাল মহিউদ্দিনকে চিনে। খুব ভালো করেই চিনে। একদিন শাহেদ জামাল মহিউদ্দিনের অফিসে যায়। মফিউদ্দিন বলে, জামাল আমি একটা উপন্যাস লিখব। কোন বিষয়ে লিখব বলতো। আমি তো লেখক না। লেখালেখির অভ্যাস আমার নেই। তুমি আমাকে একটা থিম দাও। যাও, কথা দিচ্ছি- তোমার দেওয়া থিম থেকেই আমি উপন্যাস লিখব। শাহেদ জামাল বলল, চমৎকার একটা থিম আমার কাছে আছে। মহিউদ্দিনের চোখ চকমক করে উঠলো।

শাহেদ জামাল বলল, থিমটা এই রকম-
করোনা'তে এক ছেলের চাকরী চলে যায় বিনা কারনে। চাকরী চলে যাওয়াতে সে বিরাট বিপদে পড়ে। এদিকে স্ত্রী প্রেগনেন্ট। তিন মাস চলছে। ছেলেটা কাজে যথেষ্ঠ দক্ষ, পরিশ্রমী এবং সৎ। সবচেয়ে বড় কথা ছেলেটা অফিসের পুরোনো স্টাফ। অনেক কিছুর সাক্ষী সে। অফিসের কেউ কখনও ভাবেনি তার চাকরী চলে যেতে পারে। দুঃখজনক বিষয় হলো- ছেলেটার চাকরী থাকাটা জরুরী ছিলো। কোম্পানী ধনী। টাকার সমস্যা নেই। বরং আরো দশজন নতুন করে জয়েন করলেও কোম্পানী ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। যাই হোক, ছেলেটার চাকরী চলে যাওয়ার পর- সে তার বসকে ফোন দেয়। বস ফোন ধরেনি। ম্যাসেজ করেছে, অথচ বস ম্যাজেসের উত্তর দেয় নি। অফিসের এরকম আচরনে ছেলেটা দারুন ধাক্কা খায়। মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে।

শাহেদ জামালকে থামিয়ে দিয়ে মহিউদ্দিন বলল-
তুমি কি কাজী আহসানের কথা বলছো? তুমি তাকে চিনো? শাহেদ জামাল কিছু বলল না। মহিউদ্দিন বলল, এটা আমার এক ধরনের খেলা। আমার অফিস। আমি যাকে ইচ্ছা রাখবো, যাকে ইচ্ছা চাকরী থেকে বাদ দিয়ে দিবো। আমার কোম্পানী। এজন্য আমি কোনো কৈফিয়ত দিতে রাজি না। এরকম কাজ আমি প্রতি বছর চার পাঁচ টা করি। আগামীতেও করবো। শাহেদ জামাল বলল, এরকম করা ঠিক না। হয়তো একটা চাকরী আপনার জন্য কিছু না। কিন্তু অনেকের জন্য একটা চাকরী মানেই খেয়েপরে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা। হ্যাঁ আমি জানি এই কোম্পানী থেকে আপনার কোনো আয় নেই। আপনি কোম্পানীটা শুধু টিকিয়ে রেখেছেন- কালো টাকা সাদা করার জন্য। একদিন সব কিছুই দিনের আলোর মতোন পরিস্কার হবে। মহিউদ্দিন হেসে বলল, দিনের আলোর মতো পরিস্কার হতে শুরু করলেই আমি কানাডা চলে যাবো। সেই ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।

কাজী আহসানের বর্তমান অবস্থাঃ
প্রায় দেড় বছর পর আহসান একটা চাকরী পেয়ে যায়। বেশ ভালো চাকরী। সকালে অফিসের গাড়ি এসে তাকে নিয়ে যায়। আবার বিকেলে অফিসের গাড়ি এসে আহসানকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যায়। সেলারি আগের অফিসের প্রায় ডবল। আহসানের চাকরীর চেয়ে ভালো খবর হচ্ছে- তার একটা পুত্র সন্তান হয়েছে। পুত্র দেখতে একদম রাজকুমারের মতোন। এই তো গত সপ্তাহে শাহেদ জামাল আহসানের বাসায় গিয়েছিলো। তাদের সুখের সংসার দেখে শাহেদ জামাল মুগ্ধ! আহসানের স্ত্রী মীরা। বেশ হাসিখুশি মানুষ মীরা। মীরা ভালো রান্না জানে। মীরা শাহেদ জামালকে বলেছে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার তাদের সাথে খেতে। শাহেদ জামাল তাদের বাসায় প্রতি সপ্তাহে যাচ্ছে। একটি সুখী পরিবারের আশেপাশে থাকাও অনেক ভাগ্যের ব্যাপার।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৩২
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×