
মানুষের শখের শেষ নেই।
আমি এক লোককে জানি তিনি সাপ পুষেন। হ্যাঁ সাপ। বিষাক্ত সব সাপ। তার সংগ্রহে এখন দুই শ' সাপ আছে। সব গুলোই বিষাক্ত সাপ। তিনি তার ফ্লাটের দুই রুমে সাপ পুষেন। দুটা রুম মোটা কাচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে ভদ্রলোক আবাসিক এলাকায় সাপ পুষেন। ধরে নিলাম তিনি সাপ পুষেন খিলগাও আবাসিক এলাকায়। আশেপাশের অনেকেই তার সাপের ঘটনা জানে না। আবার অনেকেই জানে। কিন্তু কেউ তাকে কিচ্ছু বলার সাহস রাখেন না। কারন তিনি বড় সরকারী কর্মকর্তা।
সাপ খুবই ভয়াবহ প্রানী।
সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে তিনি সাপ সংগ্রহ করেন। বহু সাপুড়ের সাথে তার যোগাযোগ আছে। সাপুড়েরা ভালো সাপ ধরতে পারলে তিনি অনেক টাকা দিয়ে কিনে নেন। সাপ পুষতে গিয়ে এখন তিনি সাপের বিষ সংগ্রহ করে, বিক্রি করেন। সাপের খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য তিনি এলাকার টোকাই শ্রেনীকে বলেছেন, যে ইঁদুর ধরে দিবে- প্রতিটা ইদুরের জন্য এক শ' টাকা করে দেওয়া হবে। এমন কি তিনি বিভিন্ন পশুপাখি বিক্রি করা দোকানে গিয়ে বলেছেন- তাকে ইঁদুর ধরে দিতে। তিনি বেশি দামে কিনে নিবেন।
রফিক নামে আমাদের এলাকায় একটা ছেলে আছে।
লেখাপড়া বিশেষ করে নাই। গাধা ও নির্বোধ টাইপ। ছেলেটার শখ পর্ন ভিডিও সংগ্রহ করা। তার ইচ্ছা পৃথিবীর সব দেশের পর্ন ভিডিও সংগ্রহ করা। রফিক সাফল্য পেয়েছে। এখন তার কাছে সব দেশের পর্ন ভিডিও আছে। বন্ধুদের আড্ডায় সে নিজেকে নিয়ে খুব গর্ব করে। অনেকে রফিকের কাছ থেকে ভিডিও গুলো চেয়ে নিয়ে যায়। কেউ ভিডিও চাইলে রফিক মানা করে না। খুশি মনে দেখতে দিয়ে দেয়। এখন পর্ন ভিডিও ক্লিক করলেই চলে আসে। কিন্তু রফিক যখন ভিডিও গুলো সংগ্রহ করে তখন ইন্টারনেট ছিলো না।
আমাদের এলাকায় এক ছেলে আছে- নাম সেন্টু।
সেন্টি গত পঁচিশ বছর ধরে গাঁজা খায়। একবেলা ভাত খাওয়া বন্ধ থাকলেও গাঁজা খাওয়া সে আজও বন্ধ করেনি। সেন্টু ক্লাশ থ্রি পর্যন্ত পড়েছে। কোনো রকমে সে নিজের নাম লিখতে পারে। অথচ এক সাবেক মন্ত্রী তাকে সরকারী অফিসে তৃতীয় শ্রেনীর চাকরী দিয়েছে। সেন্টু ফেনসিডিল, ইয়াবা খেলেও তার প্রথম পছন্দ গাঁজা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার বাসার ছাদে গাঁজা খাওয়ার আসর বসে। এই আসরে রিকশা চালক, সিএনজি ড্রাইভার থেকে শুরু করে পাশের বাসার দাড়োয়ান পর্যন্ত থাকে। সে এক দেখার মতো জিনিস। গানবাজনাও হয়। যাই হোক, এই সেন্টু কবুতর পালে। কবুতর নিয়ে বেশ সিরিয়াস।
আমার নিজের শখ কি?
ছোটবেলা স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতাম। বিভিন্ন দেশের দৈনিক পত্রিকা সংগ্রহ করতাম। বিভিন্ন দেশের মুদ্রা আর কয়েন সংগ্রহ করতাম। বিড়াল পালতাম, মূরগী পালতাম। কিন্তু কোনো শখ'ই আমার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শখ গুলো পরিবর্তন হয়েছে। যেমন এখন আমার সমুদ্র আর পাহাড় ভালো লাগে। বই পড়তে ভালো লাগে। লিখতে ভালো লাগে। রাতের বেলা ব্যলকনিতে বসে থাকতে ভালো লাগে। আমার ছোট্র কন্যা ফারাজার সাথে খেলতে ভালো লাগে। আপনার শখ কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



