
গতকাল রাতে যে বইটি পড়ে শেষ করলাম-
''ঈশ্বরপুত্র''। লেখক- প্রফুল্ল রায়। বইটির ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে মাইকেল সমরেশ দত্ত নামের এক বিপত্নীক মানুষকে ঘিরে। মাইকেল সমরেশ দত্ত আদর্শহীন মানুষদের মধ্যে বিরলতম চরিত্র। নারী পাচার চক্রের কবল থেকে একটি সরল গ্রাম্য যুবতীকে বাচাতে গিয়ে কোন মূল্য দিতে হয় তাকে তাই নিয়ে এই আশ্চর্য আখ্যান ঈশ্বরপুত্র। চমৎকার বই।
বড়দিন হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে অন্তরাত্মায় বড় হওয়ার দিন।
এ দিন মানুষের সাথে মিলনের দিন, ক্ষমা করার দিন, নম্র হওয়ার দিন। মানুষ হওয়ার দিন। মানবিক হওয়ার দিন। হৃদয়বান হওয়ার দিন। দিন শেষে এই সমাজ হৃদয়বান মানুষদের কথাই মনে রাখে। মানুষ ঈশ্বরের সেরা সৃষ্টি। তাই অবশ্যই মানুষকে মন্দ কাজ ছেড়ে ভালোর পথে হাঁটা উচিত। ঈশ্বর তো আর দুনিয়াতে নেমে মানুষকে সঠিক পথে নিবেন না। বা কোনো অলৌকিক উপায়েও মানুষকে ভালো করে দিবেন না। ইশ্বরের কথা হলো- আমি তোমাদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছি। হাদীস আর কোরআন দিয়েছি। মানলে ভালো। না মানলে পরকালে ডলা দেওয়া হবে। কঠিন ডলা।
পৃথিবী যখন পাপে পরিপূর্ণ,
ঠিন তখনই ঈশ্বর যিশুকে পৃথিবীতে পাঠালেন মানবজাতিকে পাপের পথ থেকে উদ্ধার করতে। শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করতে। যিশু যে অমিয় বাণী রেখে গিয়েছেন তার দ্বারা আমরা পারলৌকিক মুক্তির পথ খুঁজে পাই এবং সংঘাত ও স্বার্থের দ্বন্দে লিপ্ত আজকের দুনিয়াকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে যিশুর সেই অমিয় বাণী। দুঃখের বিষয় বাস্তব জীবনে কেউ যিশুর কথা মতো চলে না। যার যেমনে মন চায় সে সেইভাবেই চলছে। মানুষের মৃত্যুর ভয় নেই। মৃত্যুর পরে শাস্তির ভয় নেই। মানুষ এত ভয় ডরহীন হয়ে গেল কেন? সবাই শুধু ইহকাল নিয়েই ব্যস্ত। এত এত ধর্মীয় আদেশ নিষেধের তোয়াক্কা মানুষ করছে না।
যীশুর বানী আমার ভীষন পছন্দ।
হাদিসের চেয়েও যিশুর বানী আমার বেশি ভালো লাগে। যিশুর জন্মের পরপরই আকাশের বুকে ফুটে উঠেছিল একটি বিশেষ তারা। পণ্ডিতেরা সেই তারা দেখে বুঝতে পারলেন, পৃথিবীতে সেই মহান রাজার জন্ম হয়েছে, ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। পূর্ব দেশের তিন পণ্ডিত বহু দূর থেকে বেথলেহেমে রওনা হলেন তাদের রাজাধিরাজকে শ্রদ্ধা জানাতে। ধীরে ধীরে শিশু যিশু বড় হয়ে উঠেন। এরপর পাপে পরিপূর্ণ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনালেন।
যিশু বললেন, ‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসো।
ভালোবাসো সবাইকে। ভালোবাসো তোমার প্রতিবেশীকে, এমনকি তোমার শত্রুকেও। মানুষকে ক্ষমা করো, তাহলে তুমিও ক্ষমা পাবে। কেউ তোমার এক গালে চড় দিলে অপর গাল পেতে দাও। ঈশ্বরের নামে অসুস্থদের সুস্থ করে তুললেন তিনি, মৃত মানুষকে জীবিত করলেন। যিশু হয়ে উঠলেন মানুষের মনের রাজা। যাই হোক, যিশুর মৃত্যু হয় খুব ভূগে। অনেক শাস্তি পেতে হয়।অথচ তার অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো- কিন্তু তিনি শাস্তি ভোগ করেছেন। যাদু দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে নাই।
প্রত্যেক ধর্মেরই মূল বাণী মানবতা।
বড়দিন উপলক্ষে যে প্রেম, প্রীতি ও শান্তির বাণী প্রচার করা হয় তার মূলে রয়েছে মানবতা। কোন ধর্মই এই বোধ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বড়দিন মানুষকে শান্তি, প্রেম ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। আসুন আমরা ভালো হয়ে যাই। মানুষ হয়ে উঠি। দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালোবাসি। একজনের বিপদে অন্যজন ঝাঁপিয়ে পড়ি। সকলে মিলে চেষ্টা করে দেখি দেশটাকে জাপানের মতো আধুনিক ও বেকার শূন্য বানাতে পারি কিনা। খুব কঠিন কিছু না। সবাই মিলে চেষ্টা করলেই সম্ভব। ম্যারি ক্রিসমাস।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



