somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

হারাইয়াছে

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

আমি জীবনে বহু কিছু হারিয়েছি। সেই তালিকা করলে অনেক বড় হয়ে যাবে। আজ আমি যা যা হারিয়েছি- তার সামান্য একটা ছোট তালিকা প্রকাশ করবো। তবে সচেয়ে বেশি হারিয়েছি- ছাতা, টাকা, কলম, ওয়ালেট আর মোবাইল। রুমাল হারিয়েছে কমপক্ষে দুই হাজারটা। এখন আর রুমাল ব্যবহার করি না। এমন কি বাজার করতে গিয়েও কেনা জিনিস হারিয়ে আসি। কিছু হারিয়ে গেলে দুঃখ লাগে। কিন্তু আমার মা বলেছে, কিছু হারিয়ে গেলে দুঃখ পাবি না। মন খারাপ করবি না।

১। তখন আমি ক্লাশ ফাইভে পড়ি। আমার একটা হাত ঘড়ি ছিলো। দামী ঘড়ি। ঘড়িটা পানিতে ভিজলেও নষ্ট হতো না। এমন কি ঘড়িটাতে লাল নীল সবুজ আলো জ্বলতো। মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে সেই ঘড়িটা হারিয়ে ফেললাম।

২। তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। ইন্ডিয়া থেকে আব্বা আমাকে একটা খুব সুন্দর জ্যামিতি বক্স এনে দিয়েছিলো। সেই জ্যামিতি বক্স কোচিং এ পড়তে গিয়ে হারিয়ে ফেললাম।

৩। ক্লাশ এইটে থাকা কালীন মা আমাকে একবার বিশ হাজার টাকা দেয়। ছোট মামাকে দিয়ে আসার জন্য। সেই টাকা রাস্তায় কোথাও হারিয়ে ফেলি।

৪। আমার চাচা সৌদি গেছেন হজ্ব করতে। ফিরে আসার সময় খেজুর, জায়ানামাজ, তজবি ইত্যাদি অনেক কিছু এনেছেন। আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি তার বাসায় গেলাম। তিনি খেজুর, জায়নামাজ, তজবি, জমজম পানি- ইত্যাদি অনেক কিছু দিলেন। সেগুলো নিয়ে বাসায় ফিরছি। রিকশা চালককে বললাম, থামো। একটা সিগারেট খাবো। সিগারেট কিনে ফিরে দেখি রিকশাচালক নেই। জিনিসপত্র নিয়ে ভেগেছে।

৫। ফরিদপুর থেকে ঢাকা ফিরবো। ফেরীঘাটে লম্বা লাইন। আমি বাস থেকে নেমে চা সিগারেট খাচ্ছি। কিছুক্ষন পর দেখি বাস নেই। কোথাও চলে গেছে। বাসের তালাশ করলাম। বাস আর পেলাম না। বাসে আমার ব্যাগ। সেই ব্যাগী আমার এসএলআর ক্যামেরা। আরো অনেক কিছু। সব গচ্চা গেলো।

৬। বাগের হাঁট থেকে ঢাকা ফিরছি। বাস থেমেছে খাওয়ার জন্য। আমি হোটেল থেকে পেট ভরে খেয়ে নিলাম। খিচুড়ি আর গরুর মাংস। খেয়ে বাসে উঠলাম। কিছুক্ষন বুঝতে পারি ভুল বাসে উঠেছি। তাড়াতাড়ি বাস থেকে নামলাম। এরপর আর বাস খুঁজে পাইনি। সেই বাসে আমার দুটা ব্যাগ ভরতি জামা কাপড় ছিল।

৭। আমার এক আত্মীয় বিদেশ থেকে এসেছেন। উনি বিদেশ ফিরে যাওয়ার সময় আমাকে দুই শ' ডলার দিয়েছিলেন। সেই ২০০ ডলার হারিয়ে ফেলেছি।

৮। একবার বোটানিক্যাল গার্ডেন গিয়েছি। ভিতরের দিকে এক বেঞ্চে বসে সুরভি আর আমি গল্প করছি। পকেট থেকে মোবাইল, ম্যানিব্যাগ বের করে বেঞ্চের উপর রেখেছি। সুরভির সাথে গল্প শেষ করে গার্ডেন থেকে বের হয়েছি। তখন হঠাত মনে পড়লো আমার ম্যানিব্যাগ, মোবাইল? গিয়ে আর পাইনি। শেষে সুরভির কাছ থেকে সিএনজি ভাড়া নিয়ে বাসায় ফিরেছি।

৯। বনানীতে দুপুরে এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসেছি। খাওয়ার সময় আমি সব সময় মোবাইল টেবিলের উপর রাখি। খাওয়া শেষ করে গুলশান-২ চলে এসেছি। তখন মোবাইলের কথা মনে পড়েছে। আমি আর সেই রেস্টুরেন্টে যাইনি। জানি ফিরে গিয়ে মোবাইল আর পাবো না। অবশ্য মোবাইলে ফোন করেছি। অফ পেয়েছি।

১০। মাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে গিয়েছি। অনেক রুগী। মার সিরিয়াল আসতে দেরী আছে। আমি নিচে নেমেছি। চা সিগারেট খাবো। চা সিগারেট খেয়ে আমি রিকসা করে বাসায় চলে এসেছি। মার কথা আমার মনে নেই। আমার ভাই বলল, মা কই?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:৪৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×