somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৪১

০৮ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয় কন্যা আমার-
অনেকদিন পর তোমাকে নিয়ে লিখছি। অথচ গত দশ দিন ধরে ভাবছি- তোমাকে নিয়ে লিখতে বসবো। মন মেজাজ ভালো নেই। টানা পাঁচ দিন তোমার জ্বর। ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর কমে। আবার জ্বর বাড়তে থাকে। ডাক্তারেরে কাছে গেলাম। ডাক্তার বললেন, ভাইরাস জ্বর। ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তার কিছু নেই। ডাক্তার ভালো কথা বললেন, কিন্তু পাঁচটা টেস্ট দিলেন। সব গুলো রক্তের টেস্ট। এই টেস্ট করাতে গিয়ে তোমার খুব কষ্ট হয়েছে। তুমি খুব কান্না করেছো। ডাক্তার তোমার অনেক ররক্ত নিয়েছে। পাঁচ টা টিউবে রক্ত নিয়েছে। একবার ডান থেকে, একবার বাম হাত থেকে। কষ্টে বা ব্যথায় তুমি ছটফট করেছো। তোমার কষ্ট দেখার পর আমার ভীষন খারাপ লেগেছে। ছোট একটতা বাচ্চাকে ডাক্তার এই কষ্টটা না দিলেই পারতেন।

প্রিয় ফারাজা,
ডাক্তার তোমাকে টেস্ট গুলো না দিলেই পারতো। কেন দিলো কে জানে! টেস্ট করার পর দেখা গেলো কোনো সমস্যা নাই। এমন কি জ্বরও নেই। তাহলে এত গুলো টেস্ট কেন দিলো- একটা ২০ মাসের বাচ্চাকে? অনেক টাকা খরচ হয়েছে। টাকা গেছে যাক। সেটা কোনো সমস্যা না। কিন্তু রক্ত নেওয়ার সময় তোমার খুব কষ্ট হয়েছে। ডাক্তার অন্যায় করেছে। যেহেতু ভাইরাস জ্বর। তাহলে এত এত টেস্ট দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। যাইহোক, এখন তুমি ভালো আছো। সুস্থ আছো। আজ আট দিন ধরে তুমি তোমার নানা বাড়ি আছো। হয়তো আরো এক সপ্তাহ থাকবে। তোমার মামা মামী গেছেন চেন্নাই। বাসায় তোমার নানা আর ছোট মামা আছে। অবশ্য তাঁরা সারাদিন বাসায় থাকেন না। সকালে বের হয় রাতে ফিরে। গতকাল আমি মিরপুর গিয়ে তোমাকে দেখে আসছি। তোমাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে বের হয়েছিলাম। আমার সাথে বাইয়ারে গেলে তুমি খুব খুশি হও।

প্রিয় কন্যা আমার-
তোমার বড় চাচা তোমার মাথার চুল ফেলে দিয়েছে। যদিও বর্ষাকাল চলছে। কিন্তু গ্রীষ্মকালের চেয়ে বেশি গরম। এজন্য তোমার বড় চাচা তোমার, রোহা'র আর শাবিবের চুল ফেলে দিয়েছে। তোমার বড় চাচা তোমাদের খুব ভালোবাসেন। আমার মনে হয় না- দুনিয়ার কোনো নাপিত কারো চুল এত আগ্রহ নিয়ে ফেলে। যাইহোক, তুমি এবং তোমার মা বাসায় না থাকলে আমার ভালো লাগে না। যদিও প্রতি দিনই অসংখ্যবার ভিডিও কলে কথা হচ্ছে। ফারাজা, তোমাকে যদি বলি, বাবাকে ভালোবাসো? তুমি বলো- ''হ্যাঁ বাসি'। 'বাসি' বলে একটা টান দাও। বাবাও তোমাকে অনেক ভালোবাসে। অনেক। তোমার বিশ মাস বয়স চলছে। মোটামোটি তুমি অনেক কথা বলতে পারো। একদিন তোমার বিশ বছর হবে! তত দিন কি আমি বেঁচে থাকবো? হ্যাঁ অবশ্যই বেঁচে থাকবো। বেঁচে থাকা উচিৎ। বেঁচে থাকা দরকার।

প্রিয় কন্যা ফারাজা তাবাসসুম-
রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমস্ত শিল্পকর্ম দিয়ে একটি কথাই যেন বলতে চেয়েছেন- জীবন সুন্দর। জীবন কিন্তু এমনি এমনি সুন্দর হয়ে যাবে না। জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে হয়। সাজাতে না পারলেই জীবন অসুন্দর হয়ে যায়। একদম ব্যাড়াছ্যাড়া অবস্থা হয়ে যায়। তোমার জীবন তুমি সুন্দর করে সাজাবে। অন্য কেউ এসে তোমার জীবন সাজিয়ে দিবে না। দেয় না। এরকম হয় না। তোমার ক্ষুধা পেলে, তোমাকেই খাবার নিয়ে খেতে হবে। কেউ তোমাকে খাইয়ে দিবে না। ভালো থাকা, নিজেকে ভালো রাখা- এটা তোমার দায়িত্ব। এবং এটা আমার স্বপ্ন। আমাদের স্বপ্ন অবশ্যই তুমি সত্যি করবে। এখানে আমি বা তোমার মা তোমাকে কিছু বলব না। তুমি যা করবে ভালো করবে- এই বিশ্বাসটুকু নিয়ে আমি থাকতে চাই। তুমি ভালো থাকলেই আমার ভালো থাকা হবে। আমি আনন্দ নিয়ে মরতে পারবো। মরার পরও ভালো থাকবো। কাজেই আমাকে ভালো রাখার জন্য তোমাকে ভালো থাকতে হবে। তুমি জীবনে সৎ থাকবে। সৎ কর্ম করবে। এবং আনন্দ নিয়ে জীবনযাপন করবে। বেঁচে থাকবে। এটা আমার হুকুম এবং দাবী।

প্রিয় কন্যা আমার-
প্রতিদিন দুবার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালের কথা। সন্ধ্যায় আচমকা বিদ্যুৎ চলে গেলো। প্রচন্ড গরম। আমি বাইরে হাঁটতে বের হলাম। আমাদের এলাকায় হাঁটার কোনো জায়গা নেই। আমি পাশের এলাকায় হাঁটতে বের হয়েছি। সেই এলাকায় বিদ্যুৎ আছে। হঠাত শরীর এবং মন খুব খারাপ লাগছে। আমি হাতে পায়ে কোনো শক্তি পাচ্ছি না। খুব ঘামছি। ভীষন ক্লান্ত লাগছে। দেখি সামনে একটা মসজিদ। মসজিদে এসি আছে। ৪০/৫০ জন লোক নামাজ পড়ছে। এশার নামাজ। আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। ঠান্ডায় আমার শরীর ভরে গেলো। আরাম অনুভূত হলো। শরীরের ঘাম মুহুর্তেই শুকিয়ে গেলো! লোকজন নামাজ পড়ছে পড়ুক। আমি কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নিই। মসজিদের এসি গুলো ভালো। দারুন ঠান্ডা হয়েছে। ছোট মসজিদ কিন্তু বড় বড় ৪টা এসি। আমি শুয়ে পড়লাম। আরামে আমার ঘুম এসে যাচ্ছিলো। হুজুর কে বলতে ইচ্ছা করলো- হুজুর একটা বালিশ দেন, আর একটা কোলবালিস। আরাম করে একটু ঘমাই।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৪
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব চোকানো - হরমুজ এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১


ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী জানি আর কী জানি না

লিখেছেন আবু সিদ, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০১

এক

কী জানি আর কী জানি না তা আমরা অনেক সময় ভাবতে বা বুঝতে পারি না। অবশ্য বেশিরভাগ সময় আমরা আমাদের জানা/অজানাকে যাচাই করি না। আবার এমন সময় আসে যখন আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×