
আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে কি করি সেটা বলি।
আমি রাতেই ঠিক করে রাখি আগামীকাল কি কি করবো। রাতে বিছানায় গিয়ে আমি শান্ত মাথায় ভাবি আমি আগামীকাল কি কি করবো? মনে মনে সাজাই আগামীকাল আমার কি কি করতে হবে। যখন ঘুম আসি আসি করে, তখন আমি প্রভুকে স্মরণ করি। প্রভুকে বলি, তোমাকে ধন্যবাদ প্রভু। আজকের দিনটি আমার সুন্দর ভাবে কেটেছে। আগামীকালও যেন সুন্দর ভাবে কাটে। সারাদিনে নানান ব্যস্ততায় প্রভুর কথা ভাবা হয় না। তাই রাতে ঘুমের আগে ও সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে প্রভুকে স্মরণ করি। দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠি না।
দশ মিনিট শুয়ে থাকি। বিছানা থেকে উঠে ব্যালকনিতে গিয়ে এক কাপ চা খাই চিনি ছাড়া। আমার ভাগ্য ভালো চা বানিয়ে দেওয়ার লোক আছে। যদিও আমার বাসার মানুষ রাগ করে, হাত মুখ না ধুয়ে, ব্রাশ না করে চা খাই বলে। রহিমা বুয়া আমাকে বলে- ঘিদর। ঘিদর কি বস্তু আমি জানি না। বুয়াকে বলি- কি করবো দীর্ঘদিনের অভ্যস বলে কথা। আমি রাতে মোবাইল অফ করে ঘুমাই। ঘুমের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠলে আমার খুব বিরক্ত লাগে। এজন্য কোনো কথা নাই, ঘুমের যাওয়ার আগে মোবাইল অফ। কারন একবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সহজে ঘুম আসতে চায় না।
চা শেষ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোতে চোখ বুলাই।
আগে দৈনিক পত্রিকা পড়তাম। এখন বাসায় পত্রিকা রাখে না বলে, মোবাইলে নিউজপোর্টাল গুলোতে চোখ বুলাই। দিন শুরু করার আগে দেশ বিদেশ সম্পর্কে জানা দরকার। প্রতি মুহুর্তে কত কি ঘটে যাচ্ছে। আমার ঘুমের মধ্যে দেশ ও বিশ্বে কি কি ঘটে গেলে সেসব জানা খুব দরকার। অবশ্য জানলেই জ্বালা। না জানলে কোনো সমস্যা নাই। যে যত বেশি জানে, তার তত বেশি জ্বালা। আবার গ্রামের মুরুব্বীরা বলেন, জানতে জানতে জানোয়ার। ধর্মীয় কারনে হয়তো মুরুব্বীরা এই কথাটা বলেন। কারন ইবলিশ অনেক জানে।
বাথরুমে যাই। দাঁত ব্রাশ করি।
আয়নার দিকে তাকিয়ে যদি মনে হয় সেভ করা দরকার। তাহলে সেভ করি। তারপর স্নান শেষ করি। টাওয়াল প্যাচিয়ে বাথরুম থেকে বের হই। সুন্দর করে পরিপাটি করে চুল আচড়াই অনেক সময় নিয়ে। বডি স্প্রে মাখি। তারপর আয়রন করা শার্ট প্যান্ট পড়ি। গায়ে সুগন্ধি মাখি। টেবিলে দেখি সকালের নাস্তা কি। বেশির ভাগ সময়ই রুটি, আলু ভাজি, ডিম পোচ, সুজির হালুয়া। আর বুয়া না এলে পাউরুটি। ডিম অথবা বাটার দিয়ে। শেষে এক কাপ চা। আমার নাস্তা পছন্দ না হলে আমি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাই। কেন জানি রেস্টুরেন্টের খাবার আমার বেশী ভালো লাগে। আমি মাসের পঁচিশ দিন সকালের নাস্তা রেস্টুরেন্টেই করি। দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
বিসমিল্লাহ্ বলে বাসা থেকে বের হই।
বের হওয়ার আগে নিজের জুতো নিজেই কালি করে নিই। জুতোয় ময়লা থাকলে আমার ভালো লাগে না। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে মায়ের সাথে দেখা করে বের হই। মা বিছানায় বসে নাস্তা করে। কারন মা টিভি দেখে আর নাস্তা করে। আগে সে সিনেমা দেখতো। এখন সিনেমা দেখে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক আলাচোনা শুনে সারাদিন। এমনকি পিনাকি সাহেবের কথা গুলোও মন দিয়ে শুনে। আমি মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে যাই। মার সমস্যার হলো- মা অল্প কথায় কথা শেষ করতে পারে না। আলিফ লায়লা সিরিয়ালের মতো মায়ের গল্প আর শেষ হয় না। শেষে আমি বাধ্য হয়ে বলি, বাকিটুকু ফিরে এসে শুনব।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৩:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




