
ধরুন আপনি একটা নতুন দোকান উদ্ববোধন করলেন।
হোক ওষুধের দোকান বা মুদি দোকান। অথবা কাপড়ের দোকান কিংবা ফাস্টফুড। চলে আসবে হিজড়া। তারা টাকা দাবী করবে। ৫শ' বা এক হাজার টাকা দিলে হবে না। তারা দাবী করে বিশ হাজার টাকা। এছাড়া তারা প্রতি সপ্তাহে তো আসেই। প্রতি সপ্তাহে তাদের একশ টাকা করে দিতে হয়। না দিয়ে উপায় নেই। নিজের সম্মান বাঁচাতে ও ঝামেলা এড়াতে সবাই টাকা দিয়ে দেয়। থানায় জানিয়ে কোনো লাভ নেই। সম্ভবত হিজড়াদের সংগ্রহ করা টাকার ভাগ পুলিশ পায়। পুলিশরা খুবই ছেচরা হয়। তাঁরা রাস্তায় ভ্যানগাড়িতে যে বুড়ো লোকটা কলা বিক্রি করে তার কাছ থেকেও বিশ টাকা নেয়।
আজকাল বাসে পর্যন্ত হিজড়া চলে আসে।
রাস্তায় জ্যামে হিজড়া আসে। টাকা তাদের দিতে হবেই। নইলে আপনার মান সম্মান তছনছ করে দিবে। বিশ্রী করে কিভাবে যেন তালি দেয়। এমনকি টাকা না পেলে তারা গাগালি করতে করতে জামা কাপড় খুলে ন্যাংটা হয়ে যায়। একটা বাজে পরিবেশ সৃষ্টি করে। লোকজন বাধ্য হয় নিজের সম্মান বাচাতে টাকা দিয়ে দেয়। যুগ যুগ ধরে একই ঘটনা। এর কোনো প্রতিকার নেই। হিজড়ারা এখন খুবই বেপরোয়া। একসময় হিজড়াদের প্রতি মায়া হতো। কিন্তু এখন তাদের কর্মকান্ড দেখে ঘৃণা হয়। শোনা যায় নকল হিজড়া দিয়ে ঢাকা শহর ভরে গেছে। ঢাকার অনেক এলাকায় ভিক্ষুক নিষিদ্ধ। ভিক্ষুকের চেয়ে হাজার গুন বেশি অসভ্য ও ইতর হচ্ছে হিজড়ারা।
রফিক চাচা বললেন-
''পুলিশ কে ডাকলে কোন সাহায্য পাওয়া যায় না। পুলিশ নিজেই টাকা লেনদেনে মধ্যস্থতা করে। এই অভিজ্ঞতা আমার মেয়ের বিয়ের সময় হয়েছে। ধারদেনা করে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছি তারপর এই উটকো ঝামেলা। পুলিশ ডেকে আরো বিপদ, যাওয়ার সময় পুলিশ চা নাস্তার পয়সাও চায়''। আমার একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। সম্প্রতি আমার এক আত্মীয় বড় একটা দোকান দিয়েছে। ওষুধের দোকান। ৪০ লাখ টাকা এডভান্স। ৭০ হাজার টাকা ভাড়া। ডেকোরেশন খরচ দশ লাখ। যাইহোক, দোকান উদ্বোধনের দিন হিজড়া এসে উপস্থিত। তারা ৫০ হাজার টাকা চাইছে। দিতেই হবে। তাদের বলা হলো, ৫ হাজার দিচ্ছি, নিয়ে চলে যাও। কিন্তু হিজড়া'রা পাচ হাজারে মানছে না। অনেক অনুরোধ করার পর তারা দশ হাজার টাকায় মানলো।
আমার কথা হচ্ছে হিজড়াদের টাকা দিতে হবে কেন?
এটা কি সরকারি নিয়ম? হিজড়ারা তো লেংড়া নুলা নয়। তাদের হাত পা ঠিক আছে। তারা কাজ করতে পারে। তারা প্রতিবন্ধী নয়। কাজ করার ক্ষমতা তাদের আছে। এইভাবে কেন যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেবে? মানুষের কষ্ট করে ইনকাম করা টাকা তারা কেন নিবে? মামা বাড়ির আবদার? টাকা না দিলে ন্যাংটা হয়ে যাবে সকলের সামনে। বাজে কথা বলবে। খারাপ একটা পরিবেশ তৈরি করবে। সাধারণ মানুষ এর থেকে পরিত্রাণ চায়। হিজড়ারা এখন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ।
বিয়ে বাড়িতে এসে হিজড়ারা টাকা চাইবে।
শিশুর জন্ম হলে তারা এসে টাকা চাইবে। নতুন দোকানপাট উদ্বোধন হলে টাকা চাইবে। এবং দিতেই হবে। প্রতি সপ্তাহে টাকা দিতে হবে। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী, হাত নেই, পা নেই, চোখ নেই এদের সাহায্য সহযোগিতা করা যেতে পারে। কাজ করতে চাইলে এই সমাজে বহু মানবিক লোক হিজড়াদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দিবে। আমি নিজেই হিজড়াকে আমার চাচার দোকান ঝাড়ু মোছার কাজ দিতে চেয়েছিলাম। হিজড়া রেগে গেছে। ওরা কাজ করবে না। এভাবেই মানুষকে হেনস্তা করে টাকা নিবে। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৩ রাত ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




