somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

পিতা ও কন্যার বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শন (ছবি ব্লগ)

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কন্যা আর আমি বাসা থেকে বের হয়েছি।
কোথায় যাবো জানি না। রাস্তায় নেমেই কন্যা বলল, বাবা রিকশা নাও। বললাম, কোথায় যাবে? মেয়ে বলল- চিড়িয়াখানা। চলে গেলাম চিড়িয়াখানা। কন্যা গত কয়েকদিন ধরে তার নানা বাড়ি। তার নানা বাড়ির কাছেই চিড়িয়াখানা। এর আগেও কন্যাকে নিয়ে চিড়িয়াখানা গিয়েছি। কন্যা জিরাফ দেখে ভীষন খুশি হয়েছিলো। তখন কন্যা অনেক ছোট। কিন্তু তার সেই জিরাফের কথা মনে আছে। সুরভি বাসায়। সে পিঠা বানাচ্ছে। যাইহোক, আজ রবিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ। শেষে আমরা গেলাম বোটানিক্যাল গার্ডেন। চিড়িয়াখানা বন্ধ হওয়াতে আমি খুশিই হয়েছি। বোটানিক্যাল গার্ডেন ভালো। অনেক গাছপালা আছে। রুগ্ন অসুস্থ পশু দেখার চেয়ে গাছপালা ভালো।



ফারাজা আজ অনেক হেঁটেছে।
শেষে বলল, বাবা এবার আমাকে কোলে নাও। আর হাঁটতে পারছি না। আমি হুট করে মেয়েকে নিয়ে চলে আসছি। সাথে কোনো খাবার আনিনি। এমনকি পানির বোতলও না। মেয়ে বলল, বাবা আমার ক্ষুধা পেয়েছে। এদিকে মেয়ের মায়ের কঠিন নিষেধ তাকে বাইরের খাবার দেওয়া যাবে না। বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে বাসায় ফিরে যেতেও আধার বেশি ঘন্টা সময় লাগবে। হাঁটতে হাঁটতে অনেক ভিতরে চলে গিয়েছিলাম। শেষে মেয়েকে কোলে নিয়ে টানা আধা ঘন্টা হেঁটে গার্ডেন থেকে বের হই। পুরো গার্ডেন ঘুরে দেখতে হলে সারাদিন লাগবে। অসংখ্য গাছ। লেক আছে। দুটা পুকুর আছে। সব মিলিয়ে সাজানো গোছানো। খুব সুন্দর।



কন্যা আর আমি পুকুর পাড়ে অনেকক্ষন বসে থাকলাম।
কন্যা বলল, সে পুকুরে সাঁতার কাটবে। এবং পুকুর থেকে মাছ ধরে আনবে। আমি বললাম, পুকুর নামার আগে তোমার সাঁতার শিখতে হবে। নইলে ডুবে যাবে। কন্যা বলল, তাহলে তুমি নামো। ডুব দিয়ে একটা মাছ ধরে এনে দাও। প্লীজ বাবা। আমি বললাম, আমি সাঁতার জানি না। একের পর এক কন্যা গল্প করে যাচ্ছে। আমি মন দিয়ে শুনছি। মনে মনে ভাবছি সুরভি যখন জানবে আমরা তাকে ছাড়া বোটানিক্যাল গার্ডেন এসেছি, সে ভীষন রাগ করবে। আসলে আজ ইচ্ছা ছিলো- তূরাগ নদীর পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করবো। নদীর দুপাশে সুন্দর রাস্তা করেছে। কিন্তু হঠাত চলে এলাম বোটানিক্যাল গার্ডেন।



আমার বন্ধু শাহেদ জামাল যায় রমনা পার্কে।
আমার বাসা থেকে রমনা পার্কের দূরত্ব বেশি নয়। ৬০/৭০ টাকা রিকশা ভাড়া। যে কোনো পার্ক সবচেয়ে বেশি সুন্দর দেখায় ভোরবেলা। ভোরের পরিবেশ অতি মনোরম। আর দিনের বেলা পার্কের পরিবেশ নষ্ট করে দেয় প্রেমিক প্রেমিকেরা। এদের আচার আচরন অশোভন। সবচেয়ে বেশি অবাক হলাম মেয়ে গুলো প্রত্যেকে বোরকা পরা। ধার্মিক বলেই তো তাঁরা বোরকা পড়েছে। তাহলে প্রেম করছে কেন? অশোভন আচরণ করছে কেন? আমার মনে আছে আমি আর সুরভি একবার বিয়ের আগে বোটানিক্যাল গার্ডেন এসেছিলাম। আমরা গাছপালা দেখেছি। পদ্মপুকুর দেখেছি। লেক দেখেছি। ফুলের বাগান দেখেছি। একজন আরেকজনের হাত পর্যন্ত ধরিনি।



আমি প্রকৃতি ভালোবাসি।
এছাড়া আমার ভালো লাগে পাহাড় ও সমুদ্র। দীর্ঘদিন ধরে আমার দূরে কোথাও যাওয়া হয় না। শেষ গিয়েছিলাম সিলেট আমাদের ব্লগার শ্যাইয়ান ভাইয়ের সাথে। সেটাও এক বছর হয়ে গেছে। সেই গল্প অন্য সময় করবো। আমি ঠিক করেছি স্ত্রী কন্যাকে ছাড়া আর কোথাও যাবো না। ওদের ছাড়া কোথাও গিয়ে আমি শান্তি পাবো না। আমার কন্যাই হচ্ছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধু। সব কথা ওর কাছে বলতে পারি। আমার কন্যার ধারনা আমি সুপারম্যান। সব অসাধ্য আমি সাধন করতে পারি। এরকম ধারনা আমার বাবার প্রতিও আমার ছিলো। আসলেই আমার বাবা সুপারম্যান ছিলো। কিন্তু আমার সুপারম্যান বাবা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।



সুরভি আইসক্রীম খেতে খুব ভালোবাসে।
রাত দুটায় সে ঘুম থেকে উঠে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বের করে খায়। সুরভি আমার উপর খুব রাগ করলে আমি এক বাটি আইসক্রিম নিয়ে বাসায় ফিরি। আইসক্রিম দেখে সুরভির সব রাগ চলে যায়। আমাদের কন্যা ফারাজাও আইসক্রিম খুব পছন্দ করে। আইসক্রিম পেলে সে আর কিচ্ছু চায় না। বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে বের হয়েই তাকে আইসক্রিম কিনে দেই। ফারাজা খুবই খুশি। বললাম, তোমার মা জানলে খুব রাগ করবে। ফারাজা ফিসফিস করে বলল, বাবা মাকে বলো না। বলেই মিটি মিটি হাসলো। আর একুশ দিন পর কন্যার তিন বছর পূর্ন হয়ে যাবে। আমার কন্যা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। আমি আর কিচ্ছু চাই না।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:৫২
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×