
আজ যেহেতু ভালোবাসা দিবস, তাই ভালোবাসা নিয়েই লিখবো।
আমি সুরভিকে কখনই বলি নাই, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'। কারন, আমি যাকে ভালোবাসাবো সে অবশ্যই টের পাবে, সে অনুভব করবে। এজন্য ভালোবাসার কথা বারবার মুখে বলতে হয় না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, হৃদয়য়ের গভীর থেকে যা উঠে আসে, সেটা অন্য হৃদয়ে ঠিকই পৌছায়। ঠিক আমি যাকে ঘৃণা করি, তাকে কোনোদিন বলি নাই। কিন্তু সে ঠিক ঠিক বুঝতে পারে আমি তাকে ঘৃণা করি। ভালোবাসা এবং ঘৃণা দুটাই অনুভব করা যায়। মুখে বলার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এযুগের ছেলেমেয়েরা ভালোবাসা নিয়ে নানান রকম ভনিতা করে। নাটক করে। কাহিনী করে। ভুল করে। এত কিছু করতে গিয়ে তাদের মধ্যে আর ভালোবাসাটা থাকে না। এজন্যই আজ প্রেম, ভালোবাসা এবং বিয়ে দীর্ঘদথায়ী হয় না।
এযুগের ছেলেমেয়েরা বারবার বলে- 'ভালোবাসি', 'ভালোবাসি'।
কারন, তাদের ভালোবাসাটা দুর্বল ও ক্ষনস্থায়ী বলেই তারা বারবার 'ভালোবাসি' কথাটা বলে। সত্যি কথা হলো- বর্তমান প্রজন্ম ভালোবাসা কি সেটা বুঝেই না। এই প্রজন্ম মনে করে ভালোবাসা হচ্ছে- রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, রেস্টুরেন্টে খাওয়া, সিনেমা দেখা, উপহার দেওয়া এবং লুকিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা। ভালোবাসা একটা পবিত্র ব্যাপার। ভালোবাসায় থাকতে হয় সততা ও স্বচ্ছতা। রাত জেগে কথা বলা এবং চ্যাটিং করাটা ভালোবাসা নয়। যাকে ভালোবাসো তার জন্য কিছু করো। তাকে ভালো রাখো। তাকে সম্মান করো। তাকে ভালোবাসার কারনে উৎজীবিত হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য ভালো কিছু করো। নইলে আবার কিসের ভালোবাসা? প্রেমিকার সাথে রাগ করে হাত কাটা, না খেয়ে থাকা অথবা একগাদা ঘুমের ওষুধ খাওয়া এগুলো ভালোবাসা নয়।

সুরভির সাথে আমার বিয়ে হয়েছে অনেক বছর হয়ে গেছে।
আমাদের সম্পর্ক সহজ সরল। জটিলতা কুটিলতা মুক্ত। আমরা ভালো বন্ধু। সুরভি কখনও স্ত্রীগিরি ফলায় না, আমিও কখনও স্বামীগিরি ফলাই না। এজন্য আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয় না। সুখে দুঃখে আনন্দে আমরা মিলেমিশে আছি। ভালো আছি। সুরভি কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমি বাঁধা দেই না। বরং আমি তাকে সাপোর্ট করি। তার উপর আমার ভরসা আছে। বিশ্বাস আছে। অন্য স্বামীস্ত্রীদের দেখেছি কুৎসিত ঝগড়া করতে। ঝগড়া করে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যায়। আজ পর্যন্ত সুরভি এই কাজটা করে নাই। স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া শুনে পাড়াপ্রতিবেশী। বিচার শালিশ হয়। মুরুব্বীরা মিল করিয়ে দেন, আবার ঝগড়া হয়। আমাদের সমাজে প্রেম ভালোবাসা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েরা ভুল করে। মেয়েদের উচিৎ যোগ্য ও দক্ষ মানুষকে ভালোবাসা এবং বিয়ে করা।
দিন যত যাচ্ছে, সুরভির প্রতি আমার ভালোবাসাটা তত বাড়ছে।
আমাদের দুজনের ভালোবাসার মধ্যে এসে হাজির হয়েছে আমাদের কন্যা ফারাজা। এখন কন্যাকে বেশি সময় দেই। সুরভিও কন্যাকে সময় দেয়। এখন আর আমাদের রাত জাগা হয় না। ব্যলকনিতে বসে চা খাওয়া হয় না, গল্প করা হয় না। এমনকি দুজন মিলে দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে পারি না। ফারাজা ছোট। তাকে নিয়ে দূরে কোথাও ভ্রমন করাটা সহজ হবে না। তাই কোথাও যাই না। আবার সুরভি আর কন্যাকে রেখে আমারও কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। প্রতিটা মেয়ের উচিৎ আগে লেখাপড়া শেষ করা। এবং ভালো চাকরি বা বিজনেস করে নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করা। তারপর বিয়ে করা। যোগ্য ও দক্ষ হওয়ার আগে বিয়ে করলে শ্বশুর বাড়িতে সঠিক সম্মান পাওয়া যায় না। বাস্তবতা হচ্ছে- একজন প্রতিষ্ঠিত নারীকে কেউ মুখে উপর চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলতে পারে না।
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, স্ত্রী যার অবাধ্য জীবন তাহার দুর্বিষহ।
নির্বোধ স্ত্রীলোক সংসারের শান্তি বজায় রাখতে পারে না। অবশ্য একটা সংসার স্বামী স্ত্রী দুজন মিলেই টিকিয়ে রাখতে হয়। নারীরা আজ অনেক স্বাধীন। অনেক নারী সংসার করছেন, আবার চাকরি করছেন। এটা খুব ভালো। নারীদের ধৈর্যশক্তি অনেক। সহ্য ক্ষমতা অনেক। সুরভি মাস্টার্স পাশ করলো, তারপর আমার সাথে বিয়ে হয়ে গেলো। আমি চেয়েছিলাম সুরভি চাকরি করুক। অথবা কোনো বিজনেস করুক। কিন্তু সে সংসার নিয়ে মহা ব্যস্ত হয়ে গেলো। আজ বাসায় ফিরতে আমার অনেক দেরী হবে। হাতে সময় থাকলে সুরভি আর কন্যাকে নিয়ে বের হতাম। সুরভিকে অবাক করে দিয়ে একটা শাড়ি কিনে দিতাম। কন্যাকে কিনে দিতাম একটা সাদা কেডস। রাতে কোনো রেস্টুরেন্টে ডিনার করে বাসায় নিতাম। যাইহোক, আজ না যাই, অন্য কোনোদিন যাবো। কবি বলেছেন, দেরী হোক যায়নি সময়।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



