
যারা শুধু মাত্র একটা চাকরির জন্য লেখাপড়া করে,
তাঁরা আসলে দেশের মেরুদন্ডটাই নড়বড়ে করে দেয়। আসলে লেখাপড়া করলেই চাকরি পাবেন এটা ভাবা সঠিক কাজ নয়। মূলত ভালো সাবজেক্ট নিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। গোঁজামিল দিয়ে কোনো রকমে পাশ করে গেলে, চাকরির বাজারে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। বহু লোক কবিতা লিখেন, তাঁরা সকলেই কিন্তু কবি নয়। কেউ কেউ কবি। যারা লেখাপড়া করেও চাকরি পাচ্ছেন না, তাঁরা মূলত অযোগ্য, অদক্ষ। কোনো রকমে সামান্য পড়ে বা নকল করে পাশ করে গেছেন। কেউ চাইবে না অযোগ্য, অদক্ষ লোক তার প্রতিষ্ঠানে থাকুক। মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁস জেনারেশন চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
দুই হাজার সালের পর থেকে বাংলাদেশে লেখাপড়ার মান কমতে শুরু করেছে।
সেটা আজও অব্যহত আছে। আওয়ামীলীগ সরকার পদ্মাসেতু করেছে, অনেক রাস্তাঘাট করেছে আরো অনেক কিছু করেছে। কিন্তু লেখাপড়ার মান বাড়াতে পারে নাই। প্রশ্নপত্র ফাঁস জেনারেশন চাকরি কেন পাবে? যারা করোনার কারনে অটোপাশ করেছে তাঁরা কেন চাকরি পাবে? অনার্স, মাস্টার্স পাশ করেও সঠিক ভাবে একপাতা দরখাস্ত লিখতে পারে না। এদেরকে কে দিবে চাকরি? এদিকে বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ। মানুষ বেশি। সব জায়গায় প্রতিযোগিতা। সরকার দেশের বেকারদের কথা ভাবে না। নতুন নতুন চাকরি সৃষ্টি করা নিয়ে কারো কোনো আগ্রহ নেই।
যারা ভালো ভাবে লেখাপড়া করেছে,
ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়া করেছে, যারা ভালো সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করে পাশ করেছে তাঁরাই চাকরি পায়। আর যারা নকল করে পাশ করেছে অথবা কোনো রকমে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে গেছে তাঁরা চাকরি পায় না। পাওয়ার কথাও না। বিডি জবস এ দেখা যায়- বহু চাকরির পোস্ট খালি আছে, কিন্তু যোগ্যতা না থাকার কারনে কেউ চাকরি পাচ্ছে না। সামান্য ব্রীজ, রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার ইত্যাদি কাজের জন্য সরকার বিদেশ থেকে লোক আনে। তাহলে বুঝেন আমাদের দেশের লেখাপড়ার অবস্থা। ছেলেপেলে লেখাপড়া বাদ দিয়ে করে রাজনীতি। করে ছাত্রলীগ। অল্প বয়স থেকেই চায় ক্ষমতা। চায় টাকা।
তবে ক্ষমতাবান মামা চাচা থাকলে চাকরি পেতে সমস্যা হয় না।
মামা চাচা থাকলে যোগ্যতা ও দক্ষতারও প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে বহু প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও অদক্ষ লোকজন বড় বড় পদে বসে আছে। আবার ঘুষ দিলেও সরকারী চাকরি পাওয়া যায়। আবার বহু দক্ষ যোগ্য লোক রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু চাকরি পাচ্ছে না। শুধু মাত্র তাদের ক্ষমতাবান মামা চাচা নেই বলে। আওয়ামীলীগ সরকার অনেক কিছু করছে, কিন্তু বেকারদের কথা ভাবছে না। তাদের জন্য চাকরি সৃষ্টি করার কথা ভাবছে না। বহু লোক চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হতে চেয়েছে, এবং পথের ফকির হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন উদ্যোক্তা হতে পেরেছে এবং সফলতা পেয়েছে। যারা সফল হয়েছে, তাদেরকে সবাই চিনে, কিন্তু যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদের খোঁজ কেউ নেয় না।
যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,
শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তিসহ ইত্যাদি স্বনাম ধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেড়িয়েছে তাঁরা কেউ বেকার নন। আবার যারা ক্যাডেট কলেজ পড়াশোনা করেছেন তাঁদের মধ্যে কেউ বেকার নেই। মূলত যারা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে লেখাপড়া করেছে তাঁরা বেকার। এক কথায় বলা যায়, তাঁরা টাকা দিয়ে সার্টিফকেট কিনেছে। যারা লেখাপড়ায় ভালো, বুদ্ধিমান, যোগ্যতা ও দক্ষতা আছে তাঁরা কখনও বেকার বসে থাকে না। দেশে প্রচুর কলকারখানা করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ শুধু একটা কাজই মন দিয়ে করে, সেটা হলো- মসজিদ নির্মান। প্রতিটা এলাকায় ৪/৫ টা করে মসজিদ। একসাথে সব গুলো মসজিদ বিকট শব্দে আযান দিতে শুরু করে। যা যথেষ্ঠ বিরক্তিকর।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



