somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৮১

১৫ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ। শাহেদ জামাল। আমার বন্ধু।
বড় ভালো ছেলে শাহেদ। অথচ তার চাকরিবাকরি নেই। চাকরিবাকরি তার দরকারও নেই। যার ঘরসংসার নেই সে চাকরি দিয়ে কি করিবে? অবশ্য টাকা এমন এক জিনিস যা সবার প্রয়োজন। আগে শাহেদ জামাল কয়েকটি টিউশনি করতো। এখন করে কিনা জানি না। দুর্দান্ত ভালো ছাত্র ছিলো শাহেদ। আমাদের সবার বিপদ ছিলো, শাহেদের বিপদ। সে ঝাঁপিয়ে পড়তো। একবার নিউ মার্কেটে একজনের সাথে আমার লেগে গেলো। শাহেদ সেদিন পুরো নিউমার্কেট গরম করে ফেলেছিল।

শাহেদ জামালের জীবনটা সুন্দর।
সহজ সরল। ঝামেলা মুক্ত। কুটিলতা জটিলতা মুক্ত। গত মাসে সে নাইক্ষংছড়ি থেকে ঘুরে এলো। যাওয়ার আগে আমাকে ফোন দিলো। বলল, অনেকদিন পাহাড় আর সমুদ্র দেখি না। আমি কক্সবাজার হয়ে বান্দরবান যাবো। তুই যাবি? আমি ইচ্ছে করলেই শাহেদ জামালের মতো হুটহাট করে কোথাও চলে যেতে পারি না। আমার পিছু টান আছে। স্ত্রী কন্যা রেখে কোথাও যাওয়া যায়? সুরভি দিবে আমাকে যেতে? একবার থাইল্যান্ড গিয়েছি, এক মুহুর্ত সে আমাকে চোখের আড়াল হতে দেয়।

ক্যাম্পাসে আমি, শাহেদ আর রুপা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম।
রুপা আর শাহেদের কঠিন প্রেম ছিলো। পুরো ক্যাম্পাস ওদের প্রেমের কথা জানতো। প্রতিদিন শাহেদ আর রুপা ফুলার রোড থেকে হেটে হেটে শহীদ মিনার পর্যন্ত যেতো। ওরা দুজন গল্প করতে করতে যাচ্ছে, দৃশ্যটা দেখতে আমার ভালো লাগতো। জগাদার সিংগাড়া আর চা খেয়ে কত দুপুর পার করে দিতাম আমরা। পাচ নম্বর টেবিল আমাদের জন্য অলিখিত ভাবে বরাদ্দ ছিলো। রুপা ওয়াশরুমে গেলেই আমি আর শাহেদ চট করে সিগারেট ধরিয়ে লম্বা টান দিয়ে মুখ ভরতি করে ধোয়া ছাড়তাম। বড় সুখের দিন ছিলো আমাদের। ছাত্র জীবনটাই বেস্ট। মনে সাহস থাকে, বুক ভরা স্বপ্ন থাকে। অসাধ্যকে সাধন করার তীব্র ইচ্ছা থাকে।

লেখাপড়া শেষ করেই, আমি একটা চাকরি পেয়ে গেলাম।
ফালতু চাকরি। এনজিও'তে। আমি চলে গেলাম, মানিকগঞ্জে। অফিস থেকে প্রথম দিনই আমাকে একটা ছাড়া ধরিয়ে দেওয়া হলো। এই ছাতা কেন, আমি জানি না। সেই সময় মোবাইল ফোন ছিলো না। বন্ধু শাহেদ জামাল আর রুপার খবর কিছুই জানি না। তাদের জন্য মন কাদে। জগাদার চায়ের দোকানের সেই আড্ডার দিন গুলোর কথা খুব মনে পড়ে। চাকরিতে অক্সিজেন নেই। অক্সিজেন আছে জগাদার চায়ের দোকানে।

এনজিওর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ছয় মাস পর ঢাকা ফিরলাম।
নিজেকে হালকা মনে হচ্ছে। বেশ ফুরফুরা লাগছে। বাচপানকা দিন ভুলানা দেনা, গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে শাহেদ জামালের মেসে যাচ্ছি। গেন্ডারিয়া ধূপখোলা মাঠের কাছে শাহেদ জামালের মেস। তার বাবা মা গ্রামে থাকে। শাহেদের বাবা শাজাহান তালুকদার একজন পল্লী ডাক্তার। শাজাহান তালুকদার আমাকে খুব পছন্দ করেন। রসূলপুর বাজারে তার চেম্বার। একদম সুন্দরবনের কাছে। বিদ্যুৎ নেই, পাকা রাস্তা নেই। আছে একটা সাইক্লোন বিল্ডিং। ঝড় তুফান হলে গ্রামের সব মানুষ সেই সাইক্লোন বিল্ডিং এ আশ্রয় নিতো।

শাহেদ জালাল মেসে নেই।
সে কোথায় গেছে কেউ জানে না। কারণ রুপার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন সে প্রায় পাগল-পাগল। রুপার বিয়ে হয়ে গেছে! এই বিষয়টা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। আমার ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। রুপা অন্য কাউকে বিয়ে করবে, এটা অসম্ভব। আমি রুপার খোজে, তার বাসায় গেলাম। রুপা নেই। সে তার স্বামীর সাথে আমেরিকা চলে গেছে। আমি সাক্ষী এক শ্রাবনের দুপুরবেলা ঝুম বৃষ্টির মধ্যে রুপা শাহেদের হাত ধরে প্রতিজ্ঞা করেছিলো সে কখনো শাহেদকে ছেড়ে যাবে না। কথা দিয়েছিল সে শাহেদকে বিয়ে করবে। মানুষ কথা দেয়, কথা না রাখার জন্য। বন্ধু শাহেদের জন্য আমার চোখ ভিজে উঠলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ৯:৫৭
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=বসন্ত এসেছিল একদিন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১২


তুমি মোহ ছিলে আমার, কী কারণে ভালোবেসে ফেলেছিলাম,
তোমার নামে মন করেছিলাম নিলাম,
মনের অস্ফুট নিনাদ শুনতে পাও নি, আমায় বাসো নি ভালো!
জ্বালাও নি বুক দেয়ালে আর-প্রেমের আলো।

বসন্ত এসেছিল, পাতা ঝরা বিবর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগাররা সব কোথায় গেল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩১

ব্লগাররা সব কোথায় গেল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ব্লগাররা সব কোথায় গেল, ব্লগটা কেন শূণ্য?
কে বলেছে এমন কথা, ব্লগ লেখায় নাই পূণ্য?

ব্লগাররা সব কোথায় গেল, ব্লগটা রেখে খালি?
শূন্য কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ আমরা বুঝতে পারছি?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪৪


আড়াই দশক ধরে আমরা একটা জোয়ার দেখছি। নীরবে, ধীরে ধীরে উঠে আসা এক জোয়ার। ধর্মীয় উগ্রপন্থার জোয়ার। কখনো গোচরে, কখনো অগোচরে। রাজনীতির মঞ্চে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে, ফেসবুকের টাইমলাইনে, প্রবাসে বসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরা ও মিরাজ: আল্লাহর কুদরতের মহিমান্বিত সাক্ষ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩০

ইসরা ও মিরাজ: আল্লাহর কুদরতের মহিমান্বিত সাক্ষ্য

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ইসরা ও মিরাজ, এ নাম দু’টি শুনলেই মুমিনের অন্তরে এক অপার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আশার জোয়ার উঠে। এটি মহানবী... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ: শেখ মুজিবের “স্বাধীন বাংলাদেশ” সম্পর্কে অবস্থান: একটি চাঞ্চল্যকর উন্মোচন

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তানে ১৯৭১ সালের কারাগারের জীবন সম্পর্কে খুব কম কিছু জানা গেছে। এটি বিভিন্ন গুঞ্জন এবং বর্ণনায় আচ্ছাদিত ছিল। তবে রাজা আনার খান, যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে শেখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×