somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের বাসায় একটা জ্বিন এসেছিল!

১৭ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদিন রাতে জিবরাইল (আ) এসে, আমাদের নবীজিকে বললেন-
আপনাকে আজ আসমানে নিয়ে যাবো। তাড়াতাড়ি অজু করে নিন। নবীজি যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, তখন নবীজি আসমানে জিকির করতে শুনেছেন। অসংখ্য জ্বীনরা জিকির করছে। জ্বীনদের জিকির শুনে নবীজি মুগ্ধ হলেন। আমরা জানি, আল্লাহপাক জ্বীন এবং ইনসান তৈরি করেছেন। জ্বীন বিশ্বাস করতে হবেই। নইলে আপনার নাম মুসলমান থেকে কাটা যাবে। জ্বীনদের খালি চোখে দেখা যায় না। অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়েও দেখা যাবে না। যে জিনিস নাই, সেটা দেখা যাবে কি করে! যাইহোক, মানুষের মতো জ্বীনদেরও একটা জাত আছে, জাতি আছে। আমি জ্বীনদের গুনগান করতে লিখতে বসি নাই। আসল কথায় আসি- আমার বাসায় গত কয়েকদিন ধরে একটা জ্বীন আসে। সে নানান রুপ ধরে আসে। জ্বীনরা অনেক রকম রুপ ধারণ করতে পারে। কুকুর বিড়ালের রুপও ধারণ করতে পারে।

অনেক বছর আগে রানা প্লাজা নামে এক বিল্ডিং ভেঙে পড়ে।
বিল্ডিং এর ভিতরে অসংখ্য মেয়েরা কাজ করছিল। চাপা পড়ে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। জ্বীন তখন এদের সাহায্য করতে আসেনি। কিছুদিন আগে বিমান দূর্ঘটনায় স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের করুন মৃত্যু হয়, জ্বীনরা সাহায্য করতে আসেনি। পদ্মাসেতু তৈরির সময় জ্বীনরা সাহায্য করতে আসেনি। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন রেকর্ড আছে, জ্বীন মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে? অথচ আল্লাহ জ্বীন জাতি তৈরি করেছেন। জ্বীন জাতি কেন মানুষের কল্যাণে আসবে না? অথচ আল্লাহ বলে দিয়েছেন, কেয়ামতের পর হাশরের ময়দানে মানুষের সাথে সাথে জ্বীনদেরও বিচার হইবে। যাইহোক, আমাদের বাসার যে জ্বীনটা এসেছে তার গল্প করি। আমাদের বাসার জ্বীনটা অনেক রকম রুপ ধারণ করতে পারে! সুন্দরী রমনী, ভিক্ষুক, কুকুর এবং বিড়াল। জ্বীনদের ক্ষুধা পেলে বিড়াল রুপ ধরে রান্না ঘরে গিয়ে খায়।

আমি গত একমাস ধরে আমাদের বাসায় অন্য রকম কিছু একটা অনুভব করছি।
সেদিন রাত একটা বাজে। সুরভি এবং ফারাজা গভীর ঘুমে। আমিও ঘুমিয়ে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেছে। আর ঘুম আসছে না। সিগারেট খাওয়ার জন্য ছাদে গেলাম। আমি ছয় তলায় থাকি। কাজেই ছাদে যাওয়ার জন্য আমাকে কষ্ট করতে হয় না। ছাদের দরজা খোলার আগেই আমি নুপূরের আওয়াজ পেলাম। যেন কেউ পায়ে নূপুর পড়ে নাচছে। এত রাতে ছাদে নূপুর পড়ে কে নাচছে! আমি ভীতু মানুষ নই। ছাদের দরজা খুললাম। ছাদ পুরোপুরি অন্ধকার নয়। আশেপাশের বাড়িঘর থেকে কিছু আলো এসেছে। সেই আলোতে দেখলাম, একটা মেয়ে নাচছে। এটা কোনো পরী নয়, এটা জ্বীন। আমি ভেবে পেলাম না, জ্বীন এত রাতে আমাদের ছাদে এসে নাচবে কেন? এর সমস্যা কি? নাচানাচি না করে ঘরের কাজ করলেও তো উপকার হয়। থালাবাটি ধুয়ে দিক, কাপড় ধুয়ে দিক। বুয়া আসে না চারদিন ধরে। আচ্ছা জ্বীনরা দেশ বা সমাজের কোনো কাজে লাগে?

আমি একটা জ্বীনকে লাথথি দিয়েছি।
এতে নিশ্চয়ই আমার গুনাহ হইবে। আমাদের বাসায় কোনো বিড়াল নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে আমি একটা বিড়াল দেখি। সাদা একটা বিড়াল। এই বিড়ালটা আসলে একটা জ্বীন। এই জ্বীন বিড়াল কোথা থেকে আসে আমি জানি না। দিনের বেলা একে দেখা যায় না। শুধু রাতের বেলা আসে। বাড়ির কেউ এই বিড়ালটাকে দেখেনি। এটা শুধু আমার চোখেই পড়ে। বাসার সবাইকে জিজ্ঞেস করেছি, বিড়ালটির কথা। তারা কেউ বিড়াল দেখেনি। এই জ্বীন বিড়ালকে শুধু আমি দেখি। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত তখন সাড়ে বারোটা। আমি সিড়িতে বসে সিগারেট খাচ্ছিলাম। তখন জ্বীন বিড়ালটাকে দেখি। বিড়ালটা লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখছে। আমি বললাম, এই তুই আমাদের বাড়িতে কি করিস? জ্বীনকে তুই করে বলছি, আল্লাহপাক গুনাহ দিবেন কিনা জানি না। জ্বীন বিড়ালটা সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে চেয়েছিল। আমি সিড়িতে বসা। আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, আমি জ্বীন বিড়ালকে একটা লাথথি দেই। লাথথি খেয়ে বিড়ালটি মিউ মিউ করে। হয়তো জ্বীন বিড়ালটা আমাকে শালার পো বলে গালি দিলো।

ভেঙে যাওয়া কূলা ছাই ফেলতেও কাজে লাগে।
জ্বীন কি কাজে লাগে? জ্বীন শুধু মানুষের ক্ষতি করে, অকল্যাণ করে। জ্বীন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ছোট ছোট বাচ্চাদের। সেদিন এক বাচ্চা একাএকা খেলা করছিল। বাচ্চাটার প্রিয় খেলা ছিল, জানালার গ্রিল বেয়ে উপরে উঠা আর নিচে নামা। এই খেলা বাচ্চা প্রতিদিন খেলে। একদিন বাচ্চাটা স্কুল থেকে এসে গ্রিল বেয়ে উঠা নামা খেলা খেলছে। এক জ্বীন বাচ্চাটাকে ফেলে দেয়। বাচ্চার মাথা ফেটে যায়। বদমাশ জ্বীনের আরেকটা ঘটনা বলি, ছোট ছোট দুই বাচ্চা স্কুল থেকে বাসায় ফিরছে। হেটে হেটে। হঠাৎ জ্বীন কুকুরের রুপ ধরে বাচ্চা দুটাকে কামড়ে দেয়। বাচ্চা দুটার সারা শরীর ছিন্নভিন্ন করে দেয়। বাচ্চা দুটা প্রায় মৃত্যুর মুখে। এই বদমাশ জ্বীনকে লাথথি মেরে আমি নিশ্চয়ই ভালো কাজ করেছি। জ্বীন জাতি মানুষের কোনো কল্যাণ করে না, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। এই যে মাঝ নদীতে লঞ্চ ডুবে যায়, অসংখ্য মানুষ মারা যায়, এটা জ্বীনের কাজ। খুন, ধর্ষণ, চুরী ডাকাতি এগুলো আসলে মানুষ করে না। দুষ্ট জ্বীনরা মানুষের রুপ ধরে মন্দ কাজ গুলো করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:০৮
১৭টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×