somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৮৩

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কার্তিক মাস। আকাশ থমথমে!
যে কোনো সময় ঝুম বৃষ্টি এসে সারা শহর ভিজিয়ে দিতে পারে। শাহেদ কি করবে বুঝতে পারছে না। তার ইচ্ছা ছিলো সে রমনা পার্কে যাবে। কোনো একটা বেঞ্চে শুয়ে আরাম করে ঘুম দেবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। অবশ্য আজকাল সিকিউরিটি গার্ড গুলো পার্কে ঘুমাতে দেয় না। আজিব, পার্ক কি শুধু প্রেম করার জায়গা? তাহলে বেকার একটা ছেলে দুপুরে কি করবে? কোথায় যাবে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলা দরকার। রমনা পার্ক কোন মন্ত্রনালয়ের অধীনে? আকাশ ভরা মেঘ জমতে শুরু করেছে। যে কোনো সময় বৃষ্টি নামবে। ঢাকা শহরে বৃষ্টি মানে গজব অবস্থা। তাই শাহেদ রমনা পার্কে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিলো। একটা খালি রিকশায় উঠে পড়লো। আজকাল ঢাকা শহরে পা চালিত রিকশা কমে গেছে। রিকশায় মটর লাগানো হয়েছে। রিকশাওলারা এখন সিএনজি- প্রাইভেট কারের আগে যেতে চায়। কোনো নিয়ম কানুন মানে না। আগে যেতে গিয়ে একসিডেন্ট করে।

শাহেদের মনে হচ্ছে-
আকাশ ভরা মেঘ থাকলেও আজ বৃষ্টি হবে না। একটু পরেই হয়তো- মেঘ কেটে গিয়ে রোদ উঠবে। শাহেদের তীব্র বিশ্বাস মেঘ কেটে যাবেই। হ্যা এরকম হয়। এজন্যই কবি বলেছেন, 'মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।' কিছু কিছু কবি অনেক খাটি কথা বলে গিয়েছেন। কোন কোন কবি খাটি কথা বলেছেন, তার কি কোনো তালিকা আছে? বাংলা একাডেমি করে কি? বাংলা একাডেমির উচিৎ যেসকল কবি খাঁটি কথা বলেছেন- তাদের তালিকা করা। শাহেদ জামাল মনে মনে খাঁটি কবিদের একটা তালিকা করলো- জীবনানন্দ, কাজী নজরুল, রবীন্দ্রনাথ। তালিকায় রবীন্দ্রনাথকে কি রাখা ঠিক হবে? রবীন্দ্রনাথের তেজ কম। তেজ ছিল কবি নজরুলের। যদিও রবীন্দ্রনাথ একজন ম্যাজিসিয়ান। সবার মনের কথা লিখে গেছেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত ছিলো নীলা। সব সময় তার গানে কবিতায় মজে থাকতো। খাঁটি কবির তালিকা করা গেলেও, খাঁটি মানুষের তালিকা করা যাবে না।

নীলার কথা মনে হলে- বুকের ভেতর দুমড়ে মুচড়ে ওঠে।
নীলা স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে আছে। থাকুক সুখে। নীলা সুখে থাকলে শাহেদ জামালের ভালোই লাগবে। নীলা ভালো মেয়ে। সহজ সরল এবং মানবিক। একদম মায়াবতী। নীলা কখনও অন্য মেয়েদের মতো মুখে একগাদা মেকাপ করতো না। শুধু চোখে মোটা করে কাজল দিতো। তাতেই তাকে দেবী স্বরসতীর মতোন লাগতো। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস- নীলা আজ অন্যের হাত ধরে সমুদ্রের পাড়ে হাঁটছে। রাতে অন্য লোককে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে, এই বিষয়টা শাহেদ জামালকে যন্ত্রনা দেয়। অথচ একজন নারী তার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে এটাই স্বাভাবিক। নীলা কি তার স্বামীকে বলেছে, একদিন শাহেদ তাকে চুমু খেয়েছিলো। কোনো মেয়ে কি তার স্বামীকে বলতে পারে- বিয়ের আগে তার প্রেমিক তাকে চুমু খেয়েছে? বলা যায় না। মানুষের জীবনে প্রেম বারবার আসে। বিয়ের পরও প্রেম আসে। বিয়ের পর প্রেমকে সমাজ মেনে নেয় না। বলে পরকীয়া। পরকীয়া শব্দটা অসুন্দর। শাহেদ জামালের জীবনে একটা মেয়ে এসেছে। মেয়েটার নাম মুনা। সে থাকে হালদা নদীর পাড়ে।

শাহেদ জামাল রিকশা থেকে নামলো।
আকাশের মেঘ কেটে গিয়ে রোদ উঠেছে। ধীরে ধীরে রোদের তার বাড়ছে। শাহেদ যাবে তার বন্ধু রাজীব নূরের বাসায়। শাহেদ দেখলো-
সুন্দর মতো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধানমন্ডি রাপা প্লাজার সামনে। মেয়েটার সাথে নীলার চেহারার বেশ মিল আছে। কি সুন্দর করে শাড়িটা পড়েছে! মুখটা ভীষন মায়াময়। প্রচন্ড রোদ। চারিদিকে গাড়িঘোড়ার বিকট শব্দ। শাহেদের ইচ্ছা করলো, একটা ছাতা নিয়ে মেয়েটার পাশে দাঁড়ায়, চিৎকার করে বলে, সবাই সরে দাড়ান। গাড়ির বিকট হর্ন বন্ধ করুন। শাহেদ কি মেয়েটার পাশে দাড়াবে? দুজন কোথাও বসে ঠান্ডা লেবুর সরবত খেতে খেতে দু'টা সুখ দুঃখের কথা বলবে? অথবা কোনো নদীর পাড়ে গিয়ে চুপচাপ মুখোমুখি বসে থাকবে? উবার এলো, মেয়েটি চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে শাহেদকে মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিয়ে গেল। কিছু কিছু মানুষের হাসি এত সুন্দর! একদম সহজ সরল স্বচ্ছ পবিত্র।

সুরভি ভাবী অনেক রকম খাবারের আয়োজন করেছেন।
সুরভির রান্নার হাত ভালো। খাবার মুখে দিলেই বুঝা যায় অনেক যন্ত করে রান্না করেছেন। করলা ভাজিতে যে ইলিশ মাছের ডিম দেওয়া যায়, শাহেদ এই বাসায় না এলে জানতেই পারতো না। বন্ধু রাজীবের বাসায় এলেই শাহেদের ভালো। ঝামেলাহীন একটি পরিবার। এই পরিবারের সবাই আন্তরিক। তাদের দুই কন্যা। বড় কন্যা পরী। ছোট কন্যা ফারাজা। এই বাসায় এলেই শাহেদের লোভ হয়, সে একটি বিয়ে করবে। তার দুটা সন্তান হবে। থাকবে একটি মমতাময়ী স্ত্রী। সুন্দর সংসার। সন্ধ্যার পর রাজীবকে ধরে রাখা যায় না। সে বাসায় যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে থাকে। সময় মতো একটা চাকরি শাহেদ পেয়ে গেলে আজ নীলা তার স্ত্রী হতো। টাপুর টুপুর নামে তার দুটা জমজ কন্যা থাকতো। হাসিখুশি একটা পরিবার তার থাকতো। শাহেদও হয়তো সন্ধ্যার পর বাসায় যাওয়ার জন্য তীব্র অস্থির হয়ে থাকতো। সুরভি ভাবী আজকাল বেশ ধার্মিক হয়ে গেছেন। হিজাব ধরেছেন। কথায় কথায় আলহামুলিল্লাহ, মাশাল্লাহ বলেন।

মনে হয় এর চেয়ে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া ভালো।
এইখানে পৃথিবীর এই ক্লান্ত এ অশান্ত কিনারা দেশে
এখানে আশ্চর্য সব মানুষ রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৯
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×