somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন রহমত উল্লাহর জীবন কাহিনী

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি।
সেলারি ছাড়াও আমি অনেক টাকা ইনকাম করি। অবৈধ্য ইনকাম। ঘুষ বলতে পারেন। বছরে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বাড়তি আয় করি। অবশ্য আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে মাসে ৩০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ইনকাম করতো। মানুষের লোভের শেষ নেই। অর্থনীতির জনক এডাম স্মিথ বলেছেন, মানুষের চাহিদার শেষ নেই। এজন্য মানুষ জানে সীমাহীন টাকা সে দূর্নীতি করেছে, কিন্তু এত টাকা সে ভোগ করতে পারবে না। এর আগেই সে মারা যাবে। তবুও দুর্নীতি করে। করেই যায়। আসলে টাকা ইনকাম করা এক ধরনের নেশার মতো।

আমার চালচলন আলাদা।
কেউ দেখে বুঝবে না, নামে বেনামে আমার কত গুলো একাউন্ট আছে। আমার ট্রেড লাইসেন্স আছে অনেক গুলো। মাছের ব্যবসা, ফুলের ব্যবসা, গাছের ব্যবসা ল, গাড়ির ব্যবসা ইত্যাদি অনেক নামে আমার ব্যবসা আছে। আসলে আমার কোনো ব্যবসা নাই। সব কাগজ কলমে। নইলে এত এত টাখা রাখিব কোথায়? আমার এমনই পোড়া কপাল, এত টাকা আমার অথচ কাউকে দেখাতে পারি না। কারণ মানুষ দেখলেই বুঝে যাবে- চাকরি করে কেরানির, তাহলে এত টাকার মালিক কিভাবে হলো? এজন্য আমি দারিদ্রতার ভাব ধরে থাকি। অনেকে বলেন, প্রেম আর টাকা লুকিয়ে রাখা যায় না। আমি দুটাই পরম যত্নে লুকিয়ে রেখেছি।

গ্রামে পাকা বাড়ি করেছি।
এজন্য আমি ব্যাংক থেকে লোন করেছি। লোক দেখানো। টাকা সামাল দিতে গিয়ে আমাকে অনেক কিছু করতে হয়েছে। আমার বাধা উকিল আছে, সে-ই পথ দেখিয়ে দেয়। নইলে আমি একা এত কিছু পারতাম না। আমি শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকি। অথচ আমার নিজের তিনটা ফ্লাট আছে। স্ত্রী পুত্র কন্যাকে বিলাসিতার মধ্যে না রাখলেও তাদের অভাবে রাখিনি। তবে আমি অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছি। বাবার সাথে অন্যের জমিতে কাজ করেছি। পেটে থাকতো সারাক্ষণ ক্ষুধা। সামান্য পানি ভাত পেয়াজ কাচা মরিচ দিয়ে উড়িয়ে দিতাম। আড়াই মাইল হেটে স্কুলে যেতাম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলে, অনেক কষ্ট করতে হয়।

আমার কিছু বাজে অভ্যাস আছে।
আমি কয়েকটা মেয়ের কাছে যাই। সুন্দর সময় কাটাই। মেয়ে গুলো দারুণ এক্সপার্ট। আমি মুগ্ধ হই, উপভোগ করি। বড় ভালো লাগে। এছাড়া আমি বারে যাই। সপ্তাহে একদিন আমি মদ খাই। আমি যে বারে যাই, সেটার নাম গোল্ডেন ড্রাগন। সুন্দর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এছাড়া আমার আর কোনো বাজে অভ্যাস নাই। সারা সপ্তাহ কাজ করি, সপ্তাহে এক বা দুইদিন যদি আনন্দ না করি তাহলে হবে? মানব জীবন তো একটাই। এক জীবনে যতটা পারি উপভোগ করে নিই। মরে গেলেই তো সব শেষ। উপভোগ করার নামই জীবন। শৈশব কৈশোর কেটেছে দুঃখে কষ্টে আর অভাবে অভাবে। এখন সময় বদলে গেছে। তাই গোপনে জীবন টা যতটা পারি উপভোগ করে নিই।

একজন অসৎ মানুষেরও মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ভালো হয়ে যেতে।
ভালো কাজ করতে। আলোর পথে চলতে। মানবিক এবং হৃদয়বান মানুষ হতে। বিলাসিতা করতে। মোজমাস্তি করতে। মাসে চার দিন আমি অন্য রকম মানুষ হয়ে যাই। একদম সহজ সরল ভালো মানুষ। তখন স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো নারীর কাছে যাই না। মদ খাই না। ঘুষ নিই না। আপন মনে পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াই। ক্ষুধার্তকে খাওয়াই। অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা করাই। ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেই। এতিমখানায় টাকা দেই। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে টাকা দেই। মাসের চারটা দিন আমি একেবারে অন্য রকম হয়ে যাই। যেন আমি মানুষ নই। একজন মসীহ। আমাদের গ্রামের একলোকের খুব শখ হজ্ব করার। কিন্তু লোকটা দরিদ্র। সেই লোককে আমি গোপনে টাকা দেই। লোকটা হজ্ব করেছে। ফেরার সময় আমার জন্য খেজুর, জায়নামাজ, তজবি আর জমজম পানি এনেছে।

শীর্ষেন্দুর একটা বই আছে 'দ্বিতীয় সত্তা' নামে।
চমৎকার একটা বই। প্রত্যেক মানুষের দুটা সত্তা থাকে। এক জীবনে মানুষ আসলে অনেক গুলো জীবন পায়। যেমন আমার কথাই ধরুন। কারো কাছে আমি একজন ঘুষখোর। কারো কাছে লুচ্চা। কারো কাছে প্রেমিক। কারো কাছে মমতাবান স্বামী। সন্তানের কাছে ভালোবাসার বাবা। কত রকম চরিত্রে যে অভিনয় করতে হয়! প্রতিটা চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আলাদা আলাদা জীবনের স্বাদ পাই। বড় ভালো লাগে। গভীর রাতে মানুষ একা হয়ে যায়। তখন সে অন্য মানুষ হয়ে যায়। তখন সে আয়নার মতো নিজের ভালো দিক এবং মন্দ দিক গুলো দেখতে পায়। আসলে মানুষের মধ্যে ভালো দিক আছে, মন্দ দিকও আছে। ভালো এবং মন্দ কোনোটাই লুকিয়ে রাখা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১০:৩৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×