somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৯৬

২৬ শে নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ আপনাদের একটা হুজুর পরিবারের গল্প বলব।
তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো। পাইকারী ব্যবসা। কিসমিস থেকে শুরু করে কাজু, পেস্তা, তেল-চাল-ডাল ইত্যাদি সব পাইকারী বিক্রি করে। তুমুল বেচাকেনা হয়। দুই ভাই ব্যবসা পরিচালনা করে সাত জন কর্মচারী নিয়ে। এই দুই ভাই হুজুর এবং সৎ ব্যবসায়ী। খাটি ধার্মিক বলতে যা বুঝায়, দুই ভাই সেটাই। কোরআন হাদিসের বাইরে দুই ভাই যায় না। ঘটনা চক্রে এই দুই ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়। দুই ভাইয়ের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ, দেখা সাক্ষাৎ অব্যহত আছে। সাধারণ মানুষ থেকে দুই ভাই সম্পূর্ন আলাদা। তাদের জীবনযাপন এবং ব্যবসার ধরন আলাদা। ব্যবসা মানে যে লোক ঠকানো নয়, এই দুই ভাইকে দেখলে স্পষ্ট বুঝা যায়। দুই ভাই যখন দোকানে নতুন কর্মচারী রাখে- তাদের জিজ্ঞেস করা হয় না, কাজ পারবে কিনা? জিজ্ঞেস করা হয়- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই পড়তে হবে। নামাজ না পড়লে এই দোকানে কর্ম মিলবে না।

এই দুই ভাই, দুই বোনকে বিয়ে করে।
আত্মীয়র মধ্যেই বিয়ে। অল্প বয়সে দুই বোনের বিয়ে হয়। দুই বোনও ধার্মিক। কঠিন ধার্মিক। এই দুই বোনকে আমি কখনও দেখিনি। এরা বাইরের মানুষের সামনে আসে না। দুই বোন সারাদিন রান্না নিয়েই থাকে। কারণ তাদের তিন বেলা রান্না করতে হয়। দুই ভাই ছাড়াও দোকানের সাত জন কর্মচারীর জন্য। প্রতিদিন মোট সতের জন মানুষের রান্না। দুই বোনের বয়স সতের- আঠারো। এরা স্বামীর হুকুম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। কোরআন হাদিসে স্বামীর হুকুম মানতে বলা হয়েছে। না মানলে মাইর (প্রহার)। ধর্মের বাইরে যাওয়া যায় না। আমি একদিন দুই ভাইকে বললাম, বাসায় একজন বুয়া রেখে দিন। এত গুলো মানুষের রান্না! দুজন মানুষের উপর চাপ পড়ে যায় নিশ্চয়ই। দুই ভাই আমার কথা শুনে বিরক্ত। মহা বিরক্ত। দুই ভাইয়ের বাসায় আমাকে প্রায়ই যেতে হয়। বাসায় কোনোদিন দুই বোন আমার সামনে আসে নাই। পর্দার আড়াল থেকে নীচু স্বরে কথা কয়।

দুই ভাইয়ের দোকানে যারা কাজ করে, তারা সুখে আছে।
প্রায়ই ছেলে গুলোকে দেখি বস্তায় হেলান দিয়ে কাজু, পেস্তা বা কিসমিস খাচ্ছে। তাদের থাকা খাওয়ার চিন্তা নাই। তিন বেলাই মাহাজনের (দুই ভাই) বাসায় গিয়ে খেয়ে আসে। মাহাজন তাদের থাকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। মাস শেষে সেলারি যেটা পায় সেটা কর্মচারীদের পুরোটাই থেকে যায়। কোনো কর্মচারী ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গেলে- দুই ভাই তাদের লুঙ্গি, গামছা, জামা সব কিনে দেন। সাথে আসা যাওয়ার যাতায়াত ভাড়াও দিয়ে দেন। কর্মচারীরা এই দোকানে সুখে আছে। যাইহোক, দুই ভাইয়ের দোকানে বেচাকেনা ভালো। সৎ ব্যবসায়ীদের কাস্টমারের অভাব হয় না। ধর্মীয় কারণে দুই ভাই ব্যাংকে টাকা রাখে না। হাদিসে আছে সুদ হারাম। অথচ লাখ লাখ মানুষ সুদের ব্যবসা করে টিকে আছে, বেঁচে আছে।

একদিন বাজারে গিয়েছি দুই ভাইয়ের সাথেও দেখা করতে।
তারা আমাকে ধরে জোর করে তাদের বাসায় নিয়ে গেলেন। দুই ভাই বললেন, আজ একসাথে খানা খাবো। আমার মানা তারা শুনবেই না। গেলাম তাদের বাসায়। ঘরে দেয়ালে কোনো ছবি নেই, পশু পাখির কোনো শো-পিছ নেই। খেতে বসলাম ফ্লোরে। এদের খাবার টেবিল নেই। এটাও হয়তো ধর্মীয় কোনো নিয়ম। দুই বোন অনেক কিছু রান্না করেছে। আমি কিছুই খেতে পারলাম না। কোনো রান্নাই স্বাদ হয়নি। কিন্তু দুই ভাই খুব মজা করে খেলো। বাজার করে বড় ভাই। একেক দিন একেক খাবার। আজ রান্না হয়েছে গরুর মাংস। সাত কেজি গরুর মাংস। বললাম, এত মাংস কেন? বড় ভাই বলছেন- সতের জন মানুষ খাবে। সাত কেজিও কম পরে যাবে। বড় ভাই যখন ইলিশ মাছ কেনেন একসাথে এক ডজন ইলিশ মাছ কিনেন। বড় ইলিশ। উনি অন্যের ইচ্ছায় বাজার করেন না। তার যেটা ভালো লাগবে সেটাই বাজার করা হবে। কারো কোনো কথা শোনা হবে না। তার পছন্দেই খেতে হবে।

দুই ভাইয়ের বাবার অনেক জমিজমা ছিলো।
বাবা সেই জমি বিক্রি করে সুখ বিলাসিতা করে গেছেন। শেষ জীবনে মদের পেছনে সব টাকা খরচ করে গেছেন। দুই ভাই সাবালক হয়ে দেখেন তারা পথের ফকির। কোনো জমি নেই। টাকা নেই। বাবা সব বিক্রি করে গেছেন। রেখে গেছেন পাঁচ কন্যা সন্তান ও দুই পুত্র। এই দুই পুত্র ব্যবসা করে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করেছে আল্লাহর রহমতে।। নতুন করে জমি কিনেছেন। সম্প্রতি ছোট ভাই ঢাকায় একটা ফ্লাট কিনতে চাইছেন, কিন্তু বড় ভাই শহরে কিছু করতে পছন্দ করে না। যা করার নিজ গ্রামে করতে হবে। বড় ভাইয়ের কথা ছোট ভাই ফেলতে পারে না। ঢাকায় ফ্লাটের বদলে গ্রামে বাজারে দোকান নেওয়া হলো। দুই ভাই সব সময় বলেন, আল্লাহর পথে আছি বলেই- ভালো আছি। পথের ফকির থেকে এখন সুন্দর ভাবে খেয়েপরে বেঁচে আছি। ভালো আছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, কোরআন হাদিসের বাইরে যাবো না। নো নেভার।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×