somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৯৭

২৮ শে নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি কিছুদিন একটা বায়িং হাউজে চাকরি করেছিলাম।
সেখানে পরিচয় হয় তারেক নামে একটা ছেলের সাথে। তারেকের সাথে পরিচয় হওয়ার প্রধান কারন তার হাতের লেখা। এবং তার সততা। সৎ মানুষদের আমি সম্মান করি। তারেকের হাতের লেখা এবং সততা দেখে আমি মুগ্ধ! এত সুন্দর করে মানুষ লিখতে পারে! লেখা দেখলে মনে হয়- কম্পিউটার কোম্পজ। আমার আব্বার হাতের লেখা সুন্দর ছিলো। দেখলেই মনে হবে- এই লেখা কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করা। আমার হাতের লেখা পরের দিন আমি নিজেই বুঝি না। যাইহোক, তারেককে বললাম, ভাই আপনার হাতের লেখা অনেক সুন্দর। দশে দশ। তারেক এই অফিসে ছোট একটা পদে চাকরি করে, সেলারি বিশ হাজার টাকারও কম। তারেক পরিশ্রমী ছেলে। ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে অনার্স করেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে।

একসময় তারেক আমার ভক্ত হয়ে গেলো।
আমি যা বলি তাই শোনে। কোনো সমস্যা হলেই আমার সাথে আলোচনা করে। অফিসে আমাকে খাবার গরম করে দেয়। আমাকে চা এনে দেয়। আমার পানির বোতল ভরে দেয়। তারেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ছেলে। শুচিবাই আছে। ধুলোবালি দেখলেই মোছামোছি শুরু করে। মুছতেই থাকে। কার ডেক্স সেটা কোনো বিষয় নয়। ময়লা দেখলেই পরিস্কার করতে থাকে। তারেকের কারণে আমাদের অফিস সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। সামান্য চা দিতে গেলেও তারেক নিজ হাতে কাপ ধুয়ে নিবে। তারেককে আমার পছন্দ হলো। আমার কথা হচ্ছে- একটা লেখাপড়া জানা ছেলে এত কম বেতনে চাকরি করবে কেন? ভালো বেতনে চাকরি করার যোগ্যতা তারেকের আছে। এটা কি সে বুঝে না? তার কি নিজের সম্পর্কে ধারনা নেই?

তারেকের সমস্যা একটাই সে প্রচুর সিগারেট খায়।
এবং যতবার সিগারেট খায়, আমার জন্য একটা করে নিয়ে আসে। তারেকের কারণে আমার সিগারেট খাওয়ার পরিমান অনেক বেড়ে যায়। শুধু সিগারেট নয়, সাথে এক কাপ চা। অফিসের চা আমি খাই না। এজন্য তারেকও অফিসের চা খায় না। পাশে রেস্টুরেন্ট থেকে চা নিয়ে আসে। কাপ ধুয়ে আমাকে চা দেয়। যেন আমি বড় পীর। তারেক আমার মুরিদ। আমি তারেককে কঠিন করে বলেছি, একটু পর আমার জন্য সিগারেট নিয়ে আসার কোনো দরকার নাই। আমি এত সিগারেট খাই না। সারাদিনে বড়জোর ৬/৭ টা। তারেক আমার কথা শুনে না। চা আর সিগারেট খেতে খেতে আমি বিরক্ত। মানা করলেও শোনে না। তারেক তো তার সেলারির সব টাকা চা আর সিগারেটে উড়িয়ে দিচ্ছে! এক কাপ চা ত্রিশ টাকা। একটা সিগারেট বিশ টাকা।

তারেকের ঘটনা এই রকমঃ
সে বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বাবা মা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। দুজনেই কয়েক বছর আগে অবসরে গেছেন। তারেকের বাবা মায়ের আর্থিক অবস্থা ভালো। জমিজমা অনেক আছে। সংসারে তেল আর লবন ছাড়া কিছু কিনতে হয় না। সব নিজেদের জমি থেকেই আসে। তারেক বিয়ে করেছে। সে বউ আর ছেলে নিয়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। তারেকের বাবা মা বলেছেন, তুমি আমাদের একমাত্র ছেলে। তুমি আমাদের সাথে গ্রামে থাকো। আমাদের কোনো কিছুর অভাব নেই। আমাদের বয়স হয়েছে, অথচ তোমরা ঢাকা থাকো। তারেক তবু গ্রামে যায় না। সে বউ বাচ্চা নিয়ে ঢাকা থাকে। তারেকের ইনকামে সংসার চলে না। ভাগ্যিস তার স্ত্রী ঝুমুর এনজিও'তে চাকরি করে। ঝুমুরের বাপের বাড়ির অবস্থা ভালো। তারেকের আত্মীয়স্বজনদের আর্থিক অবস্থা ভালো।

তারেক বছরে দুইবার গ্রামে যায়।
বাবা মায়ের সাথে দেখা সাক্ষাত করতে। তারেকের বাবা তারেকের উপর ভীষন রাগ করে আছেন। কারন সিগারেট। তারেকের বাবা নামাজি মানুষ। শিক্ষক মানুষ। সে সিগারেট একদম পছন্দ করেন না। সে সারা জীবন ছাত্রদের বলেছেন, ধূমপান না করতে। অথচ তার ছেলে সিগারেট খায়। আর এই সিগারেট খাওয়া তারেকের বাবা একদম সহ্য করতে পারে না। একদিন তারেকের বাবা ছেলের মাথায় হাত রেখে বললেন, তারেক তুমি আমার বড় আদরের সন্তান। আমি তোমার কাছে শুধু একটা জিনিস'ই চাই- তুমি ধূমপান করবে না। তারেকের বাবার চোখে পানি! তুমি আমার হাত ছুঁয়ে কথা দাও, সিগারেট খাবে না। প্লীজ। তারেক তার বাবার হাত ছুঁয়ে কথা দিলো সে আর সিগারেট খাবে না। টানা তিন দিন তারেক সত্যি সত্যি সিগারেট খায়নি। কিন্তু চারদিনের দিন লুকিয়ে বাড়ির পেছনে তারেক সিগারেট খায়। সেটা তারেকের বাবা টের পেয়ে যায়। এরপর থেকে বাবা আর তারেকের সাথে কথা বলেন না।

তারেক অল্প বেতনে চাকরি করে- এটা তার বাবা মায়ের পছন্দ না।
এজন্য তার বাবা মা তারেককে ব্যবসা করার জন্য টাকা দেয়। অনেক টাকা দেয়। কিন্তু তারেক ব্যবসায় লস খায়। এরপর সে আমাদের অফিসে জয়েন করে। তারেক না খেয়েই মরতো, তার বউ চাকরি করে। এই হচ্ছে তারেকের গল্প। সিগারেটের জন্য তার বাবা মায়ের সাথে দূরত্ব বেড়েছে। একদিন আমি তারেককে বললাম, আপনি মানুষ ভালো, মন মানসিকতা ভালো, আপনি পরিশ্রমী এবং আপনি একজন সৎ মানুষ। আপনার সবই ভালো। আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি সিগারেট কম খান। তারেক বলল, ভাই আমি আপনাকে সম্মান করি। কিন্তু দয়া করে আমার সিগারেট খাওয়া নিয়ে কিচ্ছু বলবেন না। বিয়ের পরদিন আমার স্ত্রীকেও বলে দিয়েছি, দয়া করে আমার সিগারেট নিয়ে কোনো কথা বলবে না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি সিগারেট খেয়েই যাবো। একদিন তারেককে দেখেছি, অফিসের টয়লেটে সিগারেট খাচ্ছে। বললাম, টয়লেটে কেন? তারেক বলল, বস আমাকে বাইরে যেতে দেয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×