somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৮০

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল রাত ১২ টায় খুব মেজাজ খারাপ হয়েছে।
বাসায় এসে বসেছি মাত্র। আর গলির ভিতর ঢুকেছে মিছিল। ধানের শীষের মিছিল। রাত ১২ টায় কেন মিছিল করতে হবে? ফাজলামোর একটা সীমা থাকা উচিৎ। আমি যদি ধানের শীষের সাপোর্ট করতাম, শুধু মাত্র রাত ১২ টায় মিছিল করার জন্য, ধানের শীষে ভোট দিতাম না। রাতে খেতে বসেও মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে! সুরভি রান্না করেছে মূরগী। অথচ আমি আশা করেছিলাম সুরভি মিনি মাছ রান্না করবে পালং শাক দিয়ে। আমি নিজে বাজারে গিয়ে মিনি মাছ নিয়ে এসেছি। দেশী মাছ। পেট ভরতি ডিম। আট শ' টাকা কেজি। অথচ সুরভি রান্না করেছে মূরগী! আমি ভদ্র লোকের সন্তান। তাই চিল্লাচিল্লি করলাম না। শুধু বললাম- মূরগী খাবো না। একটা ডিম ভেজে দাও। সুরভি ডিম ভাজি করে দিলো। হায় আল্লাহ! ডিম খেতে গিয়ে দেখি মরিচ দেয়নি। কাচা মরিচ ছাড়া ডিম ভাজি ভালো লাগে? ফ্রিজে সম্ভবত কাচা মরিচ নেই। আমার ভাগ্যটাই খারাপ!

আমি পাশের ঘরে ঘুমাতে গিয়েছি।
কিছুতেই ঘুম আসছে না। এপাশ ওপাশ করছি। ঘুম কেন আসছে না? কারণ আজ অনেক কাপ চা খেয়েছি। যাইহোক, দুটায় বিছানা থেকে নেমে এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার বিছানায় গেলাম। এবং ঘুমিয়ে গেলাম। ঠিক তিনটায় ঘুম ভেঙ্গে গেলো। অনেক ভয় পেয়েছি। স্বপ্নে কি দেখে ভয় পেয়েছি কিছুতেই মনে করতে পারছি না। মনে হচ্ছে ঘরে কেউ একজন আছে। এটা ভেবেই ভয় লাগছে। ভয়ে ভয়ে সাড়ে চারটা বেজে গেলো, ঘুম আর আসে না। আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে! বুঝে গেলাম ঘুম আর আজ আসবে না! ইচ্ছা করছে এক কাপ চা খাই। সুরভিকে এখন যদি ডেকে বলি, এক কাপ চা দাও? সুরভি মনে হয় আমার গলা টিপে ধরবে। অথচ সুরভি কথা দিয়েছিলো, আমি চা চাইলেই চা পাবো। কেউ কথা রাখে না। আসলে মানুষ কথা দেয়, কথা না রাখার জন্য।

প্রতিদিন সকালে আমাকে একটা করে 'কমেট এক্সআর' খেতে হয়।
ওষুধটা খেতে আমার একেবারেই মনে থাকে না। ওষুধের কথা মনে পরাতে রুবা'র কথা মনে পড়লো। রুবা আমাদের সাথে পড়তো। খুব সুন্দর একটা মেয়ে! রুবা ওষুধ খেতে পারতো না। এত বড় একটা মেয়ে অথচ ওষুধ পানি দিয়ে গিলে খেতে পারে না। এই রুবা যখন আমাদের ক্লাসে প্রথম আসে, আমি তার সাথে সবার আগে ভাব করতে যাই। আমি ছিলাম আমাদের কলেজের হিরো। যাইহোক, ক্লাশ শেষে রুবা চলে যাচ্ছিলো। আমি দৌড়ে রুবার কাছে যাই। গিয়ে বলি- এটা হয়তো আপনার রুমাল। এই নিন। রুবা অবাক হয়ে আমাকে দেখলো। একটু হেসে বলল, এটা আমার রুমাল না। আমি রুমাল ব্যবহার করি না। আমি বললাম, আপনি সিউর, এটা আপনার রুমাল না? কথা বলতে বলতে আমরা হেঁটে চলেছি।

রুমালের টেকনিকটা অনেক পুরানো।
আমি শিখেছি একটা হিন্দি মুভি থেকে। মুভির নামটা এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। তবে সিনেমায়- নায়ক অমিতাভ। নায়িকা রেখা। রেখা হেঁটে যাচ্ছিলো। অমিতাভ দৌড়ে গিয়ে বলে, আরে ম্যাডামজ্বী আপকা রোমাল গিরগায়া। রুমাল দিয়ে প্রথম আলাপ। তারপর ঘটনা অনেক দূর যায়। আমি জানি না আজ রুবা কেমন আছে? কোথায় আছে? রুবাকে দেখতে মন চায়। রুবা কি আমাকে দেখলে চিনতে পারিবে? আমাদের দেখা হলে বেশ হতো। দুজনে চা খেতে খেতে পুরোনো দিনের গল্প করতাম। আহ কত না আনন্দ হতো! ঘুরেফিরে পুরোনো মানুষদের সাথে দেখা হলে ভালো লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমুদ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

আমুদ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে এক রাজ্যে রাজার রাজকন্যা
তাঁর রূপ, লাবণ্য, গড়নে মুগ্ধ!
সে বিকশিত গুণবতী
তাকে দেখে জাগে মনে প্রীতি!

তাঁর খুব রাগ কিন্তু মায়াবতী
তাকে দেখলে উদ্ভূত হয় প্রেম রাতারাতি।
সে উড়ে নীল আকাশে
আমি কাতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×