somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৭

২৭ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগামীকাল ইদ।
কোরবানীর ইদ! শাহেদ জামালের জন্য আল্লাহর ত্রিশটা দিনই সমান। সারা বছর তার একই অবস্থা। ইদের দিনে শাহেদ জামালের কষ্ট বেশি। বিশেষ একটা দিনে একা একা পার করতে হয়। এরপর আছে- খাবারের কষ্ট। মেসের সবাই গ্রামে গিয়েছে। বুয়া আসবে না। তাকে খেতে হবে বাইরে। ইদের দিন বলে রেস্টুরেন্ট থাকে বন্ধ। রুটি কলা অথবা মুড়ি খেয়ে থাকতে হয়। ঢাকা শহরে শাহেদ জামালের কিছু আত্মীয় স্বজন আছে। তাদের কাছে গেলে তারা পাত্তা দেয় না। অবহেলা করে। নিজের ভাই বোনের বাসায় গেলেও তারা খুশি হয় না। শাহেদ জামালের আসলে কোথাও যাওয়ার নেই। সবাই তাকে পরিত্যাগ করেছে। ব্যর্থ মানুষকে কেউ ভালোবাসে না। কেউ সমাদর করে না। জীবনটা বৃথা গেলো। নিরবে একটা জীবন বৃথা গেলো। অথচ এরকম হওয়ার কথা ছিলো না। এর জন্য কি নীলা দায়ী? না নীলাকে দায়ী করা ভুল হবে। আল্লাহকে দায়ী করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ হচ্ছে ইতরের দেশ। এই বিষয়ে শাহেদ জামাল নিশ্চিত।
৭১ সালে দেশের জনগন যেরকম ছিলো আজ সেরকম নেই। আজকের বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কোনো মায়া মমতা নেই। নেই মানবতা। নেই নৈতিকতা। দেশের জনগন হয়ে গেছে ইতর। যে মানুষটাকে আপনি ভালো মনে করবেন, সে আরো বেশি ইতর। শাহেদ জামাল সারা শহর ঘুরে বেড়ায়, তার একটাই দুঃখ, সে কোথাও একটা সহজ সরল ভালো মানুষ দেখে না। শাহেদ জামাল ভাবে- মানুষ এত ইতর হবে কেন? অভাবে? অশান্তিতে? বেকারত্বের কারণে? প্রেমে ব্যর্থতা? ৭১ সালে তো মানুষ এত ইতর ছিলো না। দেশের জন্য প্রান দিয়েছে। আর এখন ৩২ নম্বর গুড়িয়ে। ভাস্কর্যের গায়ে মুতে দেয়। ঘরবাড়ি আগুন জ্বালিয়ে দেয়। থানায় আগুন দেয়। অস্ত্র লুট করে। কারাগার থেকে দাগী আসামী ছেড়ে দেয়। শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়ির সামনে গান বাজনা করে। মানুষ কতটা ইতর হলে এমন কাজ করতে পারে!

ভিক্ষুকেরা পর্যন্ত ঠগ, প্রতারক আর ইতর।
এক ভিক্ষুক আগে ভিক্ষা করতো। সারা দিন শেষে ৪/৫ শ' টাকা পেতো। এই টাকায় তার পোষায় না। সেই ভিক্ষুক বুদ্ধি করলো, এখন থেকে সে আর ভিক্ষা করবে না। ভিক্ষা করলে পাবলিকে ৫/১০ টাকার বেশি দেয় না। তাই ভিক্ষুক এখন করুন গলায় বলে, আমি সকাল থেকে না খাওয়া। আমাকে ভাত খাওয়ান। ভাত খাওয়ার জন্য ৫/১০ টাকা দেওয়া যায় না, কমপক্ষে ১০০ টাকা দিতে হয়। এরকম ভাত খাওয়ার কথা বলে, বিশ জনের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নিতে পারলে- দুই হাজার টাকা হয়ে যায়। কেউ কেউ ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে সাথে রাখে, তাতে সুবিধা হয়। বিশ্বাস যোগ্য হয়। টাকা বেশি পাওয়া যায়। এই শহরে মানুষের ছল চাতুরি দেখতে দেখতে শাহেদ জামাল বিরক্ত। মানুষ মিথ্যা বলতে বলতে, এখন প্রয়োজন না থাকলে মিথ্যা বলে। মিথ্যা যেন রক্তের সাথে মিশে গেছে। সৃষ্টির সেরা জীব কেন ইতর হবে? দেশে জামাতের প্রোডাক্ট নতুন একটা দল খুলেছে, এনসিপি। এরাও ইতর। মারাত্মক ইতর।

এবার সারা বিশ্বে থেকে ১৬ লাখ মানুষ হজ্ব করছে।
হজ্বের টাকা দিয়ে সৌদি ধনী। আমাদের দেশে হজ্বের সিস্টেম থাকলে, বাংলাদেশ হতো ধনী দেশ। যাইহোক, হজ্বে ফযরের নামাজের পর- অদৃশ্য শয়তানকে পাথর মারতে হয়। সাধারনত ৭টা পাথর ছুড়ে মারা হয়। এরপর গোছল করে কোরবানী দিতে হয়। তারপর মাথার চুল ফেলে দিতে হয়। শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারার দৃশ্যটা দেখার মতো। কেউ কেউ এমন ভাবে পাথর ছুড়ে যেন- ক্রিকেট খেলছে। বল তার হাতে। স্টাম ভাঙতে হবে। নিজেকে ভালো বলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নইলে আল্লাহপাক অখুশি হবেন। একলোক তো দূর থেকে পাথর ছুড়ে মারতে গিয়ে আরেক হাজীর মাথায় পাথর লেগে, রক্তারক্তি অবস্থা। লোকজন আগ্রহ নিয়ে পাথর ছুড়ে মারে। অদৃশ্য শয়তানকে মারে। অথচ চারিদিকে শয়তানের অভাব নেই। শাহেদ জামাল যদি সৌদির বাদশা হতো- তাহলে এবার হজ্ব থেকে ইনকাম করা টাকা গাজার শিশুদের জন্য দিয়ে দিতো।

দেশের মানুষ জন গুলো ইতর বলেই-
৫৫৫ জন শিশু হামে মারা গেছে। এত গুলো শিশুর মৃত্যু, এটাও সহ্য করতে হচ্ছে! ইতরের দেশে শুধু চুপ করে সহ্য করে যেতে হয়। নইলে বিপদ। দেশের বেশির ভাগ ইউটুবাররা পতিতাদের চেয়েও সস্তা আজ। এরা পরিতাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। পতিতারা যা খুশি তাই বলছে। যেমনঃ আমার ব্রা টার দাম দেড় লাখ টাকা। আমার প্যান্টের ভিতরের ছোট প্যান্টের দাম দুই লাখ টাকা। আমি সব সময় দুবাই থেকে শপিং করি। আমি যে টিস্যু ব্যবহার করি সেটার দাম ৫০ হাজার টাকা। স্যোসাল মিডিয়ায় লোকজন পতিতাদের আবোল তাবোল কথা শুনে মজা পাচ্ছে। ভিউ বাড়ছে। ভিউ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা রমরমা। হিজড়াকে বলা হচ্ছে সুদর্শন পুরুষ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হচ্ছে হিজড়া। সে নিয়মিত নানান রকম পুরস্কারও পাচ্ছে! সেই সুদর্শন পুরুষকে নিয়ে ভিউ ব্যবসায়ীরা মাতামাতি করছে। আদতে সেই সুদর্শন পুরুষ হিজড়াও অধম। আমরা এমন যুগে পৌঁছেছি, পতিতা আর হিজড়াদের নিয়ে মেতে আছি! এদিকে হিরো আলম অনেক গুলো পতিতা যোগাড় করেছে, সে ওদের নায়িকা বানাবে।


ভিউ ব্যবসায়ীদের সুদর্শন পুরুষ।

সমাজে হুজুরদের সবচেয়ে ভালো হওয়ার কথা।
তারা নামাজ রোজা করে, কোরআন পড়ে। সারাদিন আল্লাহ আল্লাহ করে। অথচ হুজুর গুলোই আজ সবচেয়ে বেশি খারাপ। হুজুররা বাচ্চাদের বলাৎকার পর্যন্ত করছে। কোনো কোনো হুজুর বলাৎকার করতে গিয়ে ধরা খায়। লোকজন তাদের জুতা দিয়ে পিটায়। পরের দিন আরেক মাদ্রসার হুজুর বলাৎকার করে। চলছেই। একের পর বলাৎকার চলছেই। ছিঃ। কি নোংরা একটা সমাজে আমরা বাস করছি! নবীজি বলেছেন, শেষ জামানায় সবচেয়ে খারাপ লোকেরা হুজুর হবে। মোয়াজ্জিম হবে। মাওলানা হবে। আলেম হবে। নবীজির কথা ১০০% সত্য হয়ে গেছে। কিছু চতুর লোক, লেখাপড়া করে নাই। টাকা কামানোর জন্য- তারা এখন ধর্মে প্রবেশ করেছে। ওয়াজ মাহিল করছে। ২৬ ইঞ্চি বক্তা। শিশু বক্তা। মাদানি-ফাদানি। মাদানি কিছুদিন আগে আরেকটা বিয়ে করেছে। এদের লোকজন ভাড়া করে নিয়ে যায়। তবে শর্ত আছে। তাকে ৫০ হাজার দেওয়া হবে। কিন্তু মাহফিল থেকে দেড় লাখ টাকা তুলে দিতে হবে। তখন ২৬ ইঞ্চি বক্তা নানান রকম কথা বলে, গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে টাকা তুলে। এ কোন সমাজে বাস করি আমরা? এদের দেখে শাহেদ জামালের বমি পায়। দম বন্ধ হয়ে আসে।


ছবিতে ২৬ ইঞ্চি বক্তা। তবে আরো একজন ২৬ ইঞ্চি বক্তা আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:২২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি!

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ২৬ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


২১বছর বয়সী তরতাজা ছেলেটি মায়ের কোলে মাথা দিয়ে কালেমা শাহাদাত ও সূরা আর-রহমান অর্ধেক তেলাওয়াত করেই আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়! ৩৪বছর এই স্মৃতিকে বুকে ধরে অবশেষে সেই মা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোড়াতেই একটা বড় মিথ্যা বলিয়া আরম্ভ করিলেন , সেটা কি ভাল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৭


ঈদ-উল-আজহার এই আনন্দের সময়ে যখন দেশের মানুষ কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ছুটির আমেজ উপভোগ করছেন, ঠিক তখনই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ শব্দটিকে কেন্দ্র করে নতুন নাটক শুরু হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের প্রতি হুজুরদের কেন এই দুর্নিবার আকর্ষণ? | বলৎকার পিডিয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১:১২



আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই দেশের কোথাও না কোথাও মাদ্রাসার হুজুরদের দ্বারা ছেলে শিশু বলৎকার, মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার খবর শুনতে পাওয়া যায়, তবে ইদানিং এমন ন্যক্কারজন ঘটনার হার বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সবটা খেতে চাইলে সবটা হারাবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯




আপা ড. ইউনুসের চুক্তি মেনে নিলে, আমেরিকা ও ভারত এক হলে এবং সেনা আপার পক্ষে গেলে আপার আগমনে বিএনপিকে পালিয়ে যেতে হবে।তখন আপা কি করবেন সেটা আপার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ঈদ উৎসব এবং মা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



ভোর বিহানে আজান হলেই মা করতেন ডাকাডাকি।
এই ঈদে আর ডাকেনিগো মা, এ দুঃখ কোথায় রাখি!

হারিয়ে গেছে মা জননী আমার, শূন্যতা অপার
এই জীবনে মায়ের সাথে দেখা কি হবে আর?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×