somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভাবনা

১২ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করলেও রাষ্ট্র ধর্ম করা হয়েছে ইসলাম। আর আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র হল ভারত। ধর্মীয় চেতনার দিক থেকে তারা অসাম্প্রদায়িক। তাই এই দেশের অনেক সুশীল চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্র ধর্ম বিলুপ্ত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাষ্ট্র গঠন করতে ভারতের আদলে।

কিন্তু আমার প্রশ্ন এই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা কি নির্যাতিত হয় না?
-২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কথা অবশ্যই এই দেশের মানুষের মনে আছে। তখন ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর চালানো হয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞ যে হত্যাকান্ডে নিহিত হয়েছিল দুই হাজারের উপরে মুসলমান।
-বাড়িতে গরুর মাংস রাখা এবং খাওয়ার অভিযোগে ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরি গ্রামে মোহাম্মদ আখলাক নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
- ভারতের মহারাষ্ট্রসহ অনেক জায়গায় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আজহার সময় পশু কোরবানি নিষিদ্ধ।

এমন অনেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অসাম্প্রদায়িক এই রাষ্ট্রটি। এই সব কথার মানে হল শুধু কাগজে কলমে বা সাংবিধানিকভাবে লিখিত অসাম্প্রদায়িক শব্দটি কোণ গুরুত্ব বহন করে না। মানুষের প্রতি মানুষের সৌহাদ্য সহনশীলতা পারে মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ সৃষ্টি করতে। অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে অবশ্যই রাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলমত্র।

কিন্তু বর্তমান সময়ে জোর করে যেমন ভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষকে গেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তার ফলাফল হচ্ছে ভয়ংকর। কারন এর মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বাড়ছে দৌড়াত্ব। নিশ্চয়-ই আমরা ভারতের ন্যায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়তে চাই না। যেখানে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু মুসলমানরা হচ্ছে নির্যাতিত। কিন্তু বাংলাদেশের মত এমন একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে আমরা কখনোই দেখি নাই গনহারে সংখ্যালঘুদের হত্যা করা হয়েছে। এই দেশের মুসমানরা অনেক বেশি সেক্যুলার। তারা ইসলামকে ভালবাসে তার মানে এই নয় তারা এই দেশে অন্য ধর্মের মানুষকে থাকতে দিতে চায় না। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই দেশে দুটো ধর্মের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হয়তো তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে এমন বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে চক্রান্তকারীরা। তাই বিদেশী চক্রান্ত রুখতে না পারলে বাংলাদেশ হারাবে স্বাধীনতা।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ। যে কারন অনেক শকুনের চোখ এই দেশের দিকে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে একের পর এক দূর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। জাতিগত সংঘাতই পারে একটি দেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিনত করতে। আর সেই সুযোগেই তারা তাদের মূল লক্ষ্যের দিকে রওনা দিতে পারে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে এখনই আমাদের প্রয়োজন একতাবদ্ধ হয়ে সকল অপশক্তিকে রুখে দেওয়া। একটি প্রবাদ বাক্য আছে, স্বাধীনতা অর্জন করা চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। ঠিক এমন মুহূর্তে আমরা আছি। স্বাধীনতা রক্ষা করার যুদ্ধের সময় এখন। বিদেশীদের হাতে স্বাধীনতাকে তুলে দিয়ে আমরা কেউ সুখে থাকতে পারবো না। আমাদের নিশ্চই মনে আছে, নবাব সিরাজুদ্দৌলার কথা। নবাবকে হটাতে মিরজাফর চক্রান্ত করেছিল ইংরেজদের সাথে। চক্রান্তের ফলাফল হিসাবে মিরজাফর ক্ষমতায় বসেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা তাকেও হত্যা করেছিল। অতএব শেষ পরিণতি কিন্তু তার জন্য্ও ভাল হয় নি। আজ বাংলাদেশ এমন চক্তান্তে নিপতিত।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১:১১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×