somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চরমপন্থা এবং আমাদের করনীয়

১৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চরমপন্থা যে পথেই হোক তা সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তেমনি চরমপন্থা নির্মূলে পেশিশক্তির প্রয়োগ সমান ভাবে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কারন চরমপন্থা যারা অবলম্বন করে তারা সানন্দে মৃত্যুকে আলিঙ্গন জানাতে পারে। তখন মৃত্যুর ভয় তাদের ভীত করে না বরং তারা আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠে। উদাহরণ হিসাবে ধরা যায় আল কায়দা। আমেরিকার মত শক্তিধর রাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেছে তাদের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তাদের নির্মূলের কিন্তু সেই চেষ্টার কোন ভাল ফল আসেনি। বরং আল কায়দার দ্বারা বিভিন্ন রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা দিনের পর দিন বিস্তার লাভ করছে।

চরমপন্থায় যারা বিশ্বাসী তারা একধরনের আদর্শিক চিন্তা ধারন করে। তাদের এই আদর্শিক চিন্তা নির্মূলে তাদের যুক্তি ভ্রান্তি তা তাদের কাছে পৌছে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমরা যদি সেই ভ্রান্তিকে তাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা না করে তাদের নির্মূলের চেষ্টা করি তাহলে সেটা হবে আমাদের দিক থেকে চরমপন্থা। আর আমার মনে হয় চরমপন্থাকে চরমপন্থা দ্বারা নির্মূল করা সম্ভব নয়।
চরমপন্থিরা এক ধরনের মানষিক বিকারগ্রস্ততার মধ্যে বসবাস করে। তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। তবে সেই চিকিৎসার ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। রাস্তার কুকুর গুলা যা পথচারীকে বিনা কারনে কামড়ে দেয়। তাদেরও হত্যা করা দেখে সমাজের মানুষ কষ্ট বোধ করে। তেমনি একজন মানুষ যে ধরনের ভুলের মধ্যেই বসবাস করুক না কেন তাকে হত্যাও মানুষকে চরমভাবে ব্যথিত করে।

সহমর্মিতা, সহনশীলতার সমন্বয়ে একধরনের কৌশল গ্রহন করা উচিত রাষ্ট্রের। যে কৌশল খারাপ মানুষকে ভাল মানুষে রুপান্তর করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে সমাজের যত অসংগতি আছে তা নূন্যতম করার প্রচেষ্টা নিতে হবে। শিক্ষাকে বাস্তবধর্মী করতে হবে। যাতে এই শিক্ষা মানুষকে মানবিক চিন্তার জগতের প্রসারণ ঘটায়। ধর্মকে মানুষের অবশ্য বাধ্যতামূলক করার প্রচেষ্টা, মানুষের মানুষিক বিকারগ্রস্ততা হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে।
বর্তমান সময় বাস্তবতায় দ্বিধাবিভক্তির রাজনীতিকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। একশ্রেনীর মানুষ অন্য শ্রেনীর মানুষকে সহ্য করতে পারছে না। এই ধরনের অবস্থার অবসান ঘটা উচিৎ। অন্যায়কে মূল্যায়ন করা উচিৎ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কারন পক্ষপাতমূলক আচরন সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে। তাই রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই সমাজে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

আজ বিশ্ব রাজনীতি আগ্রাসী এবং ধ্বংসাত্মক। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো দূর্বল রাষ্ট্রের উপর অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে যা সারা পৃথিবীকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এক্ষেত্রে বিশেষ একটা ধর্মের মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে। যা সমস্ত পৃথিবীকে অস্থিতিশীল করছে।

তাই সর্বশেষে বলা যায়, এই ধরনের চরমপন্থা নির্মূলে স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশল অবলম্বন করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সার্বিক বাস্তব অবস্থা আমলে আনতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×