somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: Tamasha

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মুভিটির ট্রেলারে একটি কথা ছিল:”সেই কাহিনী আরেকবার …”। তখনই বুঝছি নির্দেশক সব গোবেচারা দর্শকদেরকে জাহাজে চড়াবে। তারপর কক্সবাজারের পাড় ঘেঁষে যাবে আর বলবে:”ঐ যে কলাতলী পয়েন্ট … ঐযে লাবণী পয়েন্ট ... ঐযে …”। তখন সবাই একসাথে হাই তুলতে তুলতে বলবে “শৈবাল …” আর মনে মনে মুভিটিকে “শৈ” বাদ দিয়ে বিশেষণ দিবে।
কিন্তু ঠিক তখনই জাহাজটি যদি একটি সাবমেরিন হয়ে যায় এবং গভীর সমুদ্রের ঝাঁপ দিয়ে বিরল সব দৃশ্য দেখায় তখন বলতেই হবে জাহাজের কাপ্তানের জবাব নেই। সেরকমই বলতে হয় “তামাশা” মুভির নির্দেশক ইমতিয়াজ আলী সম্পর্কে।

কাহিনী জানা যাক। মুভির নায়ক “বেদ” (রণবীর কাপুর) এবং নায়িকা “তারা” (দীপিকা পাডুকোন) । ঘুরতে আসে ফ্রান্সের দ্বীপ কর্সিকাতে। দুজনের দেখা হওয়ার সাথে সাথে তারা ঠিক করে একে অপরকে নিজেদের সম্পর্কে কিছুই বলবে না এবং ঘুরাঘুরি শেষ হতেই নিজনিজ ঠিকানায় ফেরত। কেউ কখনও আর অপরের সাথে দেখা করবে না। যেইভাবা সেইকাজ। ঐ ঘটনার ৪ বছর পরেও তারার মনে বেদের জন্য অন্যরকম আকর্ষণ। সে খুঁজে বের করে বেদকে । কিন্তু দেখে এই ছেলে তো সেই কর্সিকার ছেলেটি নয়। হতেই পারে না …। সে কী নাটক করছে? কোন তামাশা?

ইমতিয়াজ আলীর চিন্তা-ভাবনা দেখে পুরাই টাশকি খাইসি। মুভিটি রোমান্টিক হতে হতে পুরাই অন্য মুভি হয়ে গেল। “এ পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে সবাই আমরা অভিনেতা”- এই ব্যাপারটি খুবই সূক্ষভাবে, বলা যায় শুধুমাত্র নির্মাণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুভিটির অনেক দৃশ্যই তালি পাওয়ার যোগ্য। উদাহরণস্বরুপ তুম সাথ হো গানটির দৃশ্যায়ন এতটাই মারাত্মক যে গানটি শুধুমাত্র গান থাকে না হয়ে যায় মুভির সেরা দৃশ্য।

মুভিটির সবচেয়ে সেরা দিক হলো যে পর্দায় বলতে গেলে শুধু রণবীর এবং দীপিকাকেই দেখা যায়। দারুন এক জুটি। উত্তম-সুচিত্রা, অমিতাভ-রেখা, অনিল-মাধুরী, শাহরুখ-কাজল, ... এই সকল দিগ্বজ জুটিদের তালিকায় তাদের নাম আসা সময়ের ব্যাপার। ফাটাফাটি অভিনয় দুজনের। পুরাই মাতায় দিসে। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও একসাথে কাজ করে ফাটায় ফেলানো বাড়ীর কাছের কথা না।


দীপিকা ইতিমধ্যে বলিউডের সেরা অভিনেত্রী। দীপিকার চরিত্রটি প্রথমদিকে প্রধান চরিত্র মনে হলেও পরেরদিকে রণবীরের চরিত্রটিই প্রাধান্য পায়। কিন্তু রণবীরের কষ্ট দেখে তার যে মনের কষ্টটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে দীপিকা।

রণবীর কাপুরের এটি সেরা অভিনয়। খুবই কঠিন একটি চরিত্র। কীভাবে যে করেছে চিন্তা করাটাই কঠিন। অনেক দৃশ্যে তেমন কোন সংলাপ নেই। তবুও শুধুমাত্র অভিনয়ের জোরেই পুরাই তাক লাগায় দিসে। রণবীর কাপুরকে হয়তো বলিউডের সেরা নায়ক বলা যাবে না তবে নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা অভিনেতা বলতেই হবে।

এছাড়া সহ অভিনেতাদের মধ্যে রণবীরের ছোটবেলার চরিত্রে শিশু-শিল্পী দারুণ করেছে ( নাম খুঁজে পাইনি)। মুভিটির গানগুলি বেশ ভালো তবে “তুম সাথ হো” গানটি ফাটাফাটি লেভেলের।

মুভিটির খারাপ দিক হিসেবে বলতে হবে যে প্রথম দিকের কিছু দৃশ্য পুরাই পাগলা কিসিমের। আজকাল কার হিন্দী মুভির মতো মাথা না খাটিয়ে এটি দেখা যাবে না। যারা মনে করেন মুভি মানে আইটেম সং এবং রান্না মানে ঘুটা দেওয়া তাদের জন্য এই মুভি দেখা নিষেধ।

মুভিটি বেশ ভালো হওয়া সত্ত্বেও মানুষের প্রশংসার চেয়ে নিন্দাই বেশি পাচ্ছে ইমতিয়াজ আলীর তামাশা। সবার একই অভিযোগ:”বোরিং”। আমার মতে পরিচালক আসলে বোকা। মাঝে মাঝে সানি লিওনের সিন কাইটা দিয়া দিলেই হইতো। মুভিটির ব্যবসার শুরু দারুন হলেও কতদুর যাবে বলা মুশকিল।

এক কথায় আমার কাছে দারুন লেগেছে। তবে অনেকের কাছেই বোরিং লাগতে পারে।

রেটিং – ৪ / ৫
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৭
১৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×