
মানুষ সামাজিক প্রাণী। তারা একে অন্যের সাথে তৈরী করে সম্পর্ক। কেউ হয় বন্ধু আবার কেউ হয় প্রেমিক বা প্রেমিকা। সমস্যা হয় যখন বন্ধুত্বের সাথে প্রেম নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয় এবং দুজনের মধ্যে যে কোন একজনকে “শুধু বন্ধুত্ব” এর খাঁচায় আটকে রাখা হয়। এই ধরণের জটিল সম্পর্কের নাম “ফ্রেন্ডজোন” (বাংলায়: “জসিমের মত আমাকে ভাই বলবেন না”) ।
এই ধরণের সম্পর্ক নিয়েই ,
করণ জোহারের নতুন মুভি “এ দিল হ্যা মুশকিল”।
আর যে ব্যক্তি এই বস্তাপঁচা মুভির রিভিউ দিচ্ছেন
তার মাথায় মারুন ঢিল!
কাহিনী জানা যাক। রণবীর কাপুর এবং আনুশকা শর্মা হচ্ছেন লন্ডন প্রবাসী দুই আকাইম্মা! রণবীর ভাঙা গলার সুরহীন গায়ক এবং আনুশকা সবজান্তা মুশকিল আহসান বেবী। দুজনে একসাথে মদ খায় যেটা মুভির যুক্তি অনুযায়ী বন্ধুত্ব এবং একসাথে হিন্দী মুভির গানে নাচে যেটা প্রেম। রণবীর আনুশকার প্রেমে পড়ে যায়। এদিকে আনুশকা তাকে ফ্রেন্ডজোনে পাঠায় দিয়ে ফাওয়াদ খানের সাথে বিয়ে করতে যায়। আনুশকা এতটাই উদ্ধত টাইপ মেয়ে যে তার কোন বন্ধুই নাই। দাওয়াত পায় দুদিনের পরিচয়ের একমাত্র বন্ধু রণবীর। তারপর ভগ্নহৃদয় রণবীরের। ছ্যাঁকা খেয়ে গানের গলা হঠাৎ ঠিক হয়ে গেছে। হঠ্যাৎ দেখা হয় ইভা রহমান ( ঐশ্বরিয়া রাই) এর সাথে। ব্যস। এটিএন বাংলার ফরেন লোকেশানে গানের সুযোগ পেয়ে যায় রণবীর। সংগীতের ওস্তাদ মাহফুজুর রহমানের সহচার্যে হয় ওঠে ময়না দ্বীপের সর্বসেরা গায়ক।
মুভিটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নায়ক-নায়িকার চরিত্র। আনুশকার চরিত্রটি চরম শয়তান এক মাইয়া। অথচ মুভির চিত্রনাট্যানুযায়ী আপনাকে ধরে নিতে হবে যে তাকে দেখলেই যে কেউ প্রেমে পড়বে। নায়িকা প্রতি দৃশ্যে হাসিমুখে নায়ককে অপমান করলেই কী নায়িকা স্মার্ট হয়ে গেল? মেয়েদের স্মার্টনেসের একধরণের অপমান করা হয়েছে।
নায়ক চরিত্রটি এতটাই গোবেচারা যে প্রতি দৃশ্যে কাঁদতেই থাকে। ফারাক্কা বাঁধ আটকায় দিলে তারে ঐখানে রেখে দিয়ে আসলেই হলো। কাঁদতে কাঁদতে বন্যা বানায় দিবে। অথচ নায়কের প্রতি কোন মায়াই আসে না। নায়ক-নায়িকা দুটি চরিত্রই মেরুদন্ডহীন টাইপ।
এছাড়া মুভিতে বন্ধুত্ব এবং প্রেমের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বন্ধুত্ব এবং প্রেমের সূক্ষ পার্থক্য জানতে হলে করণ জোহারের “কুচ কুচ হোতা হ্যায়” দেখলেই ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
মুভিটির শুরু বেশ হাস্যকর হলেও কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম যে ভাড়ামি হচ্ছে। পুরোনো দিনের হিন্দী মুভির সংলাপ ব্যবহার করেই প্রথম অর্ধ চালিয়ে দেয়। পরের অর্ধেকে আমি মুভির পর্দায় তাকিয়ে খালি করণ জোহারকে গালি দিসি। কাহিনী জানার কোন ইচ্ছাই হয় নাই। মুভিতে অনেক দুঃখের পরিবেশ তৈরী করলেও মোটেও দুঃখ আসে নাই। অরিজিনাল যেসব সংলাপ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর কোনই মাথামুন্ডু নাই।
মুভিটি বাজার জাত করা হয়েছে যে মুভির নায়ক-নায়িকা হলো রণবীর এবং ঐশ্বরিয়া রাই। যেটা একটি ডাহা মিথ্যা কথা। মুভির অভিনেতাদের নামেও প্রথমে ঐশ্বরিয়ার নাম। অথচ ঐশ্বরিয়া রাই মুভিতে বড়জোড় ২০-৩০ মিনিট আছেন। এছাড়া অহেতুক রণবীর-ঐশ্বরিয়ার ঘষাঘষির দৃশ্য দেওয়া হয়েছে যেটা খুবই মেজাজ গরম করা। ঘষাঘষিই যদি দেখাবি তাহলে সানি লিওনরে আন।
অভিনয় নৈপুণ্য নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। রণবীর এবং আনুশকা দারুন অভিনয় করেছেন। তাদের জন্য মায়া লাগতেসিল। বেচারা দুইটা অহেতুক এই ফালতু মুভির জন্য কষ্ট করলো। এছাড়া মুভির চিত্রগ্রহণ ভালোই। ছোট ছোট দৃশ্য ভালভাবে বানালেও পুরা মুভি একেবারেই খাপছাড়া। মনে হয় যেন জোড় করে কাঁদতে হবে। করণ জোহারের কাছে এটা আশা করি নাই।
মুভিটির একমাত্র ভালো দিক হলো সংগীত। অসাধারণ মানের সুর দিয়েছেন প্রীতম। প্রত্যেকটি গান দুর্দান্ত লেভেলের ভালো। তারপরেও মুভিতে অহেতুক পুরানো দিনের গান ঢুকানো হয়েছে। মুভিতে চিত্রনাট্য এতটাই দুর্বল যে লেখকরা পুরাই খেই হারায় ফেলসে। এক দৃশ্যে নায়ক হঠাৎ বলে ওঠে :”আমি একটা গান গাই?”।
হিন্দী মুভি প্রায়ই অন্য মুভি থেকে কপি করে। রণবীর কাপুর মনে হয় এই প্রথম নায়ক যিনি নিজের মুভির কপি করা মুভিতেও নায়ক হলেন। মুভিটির কাহিনী হুবহু “রকস্টার” এর মত। মুভিটি দেখে বোঝা যায় যে করণ জোহারের নামের কারণে কেউ চিত্রনাট্য পড়েও দেখেনি।
মুভিতে ফাওয়াদ খানের দুই মিনিটের রোলের কারণে বেশ বিতর্ক চলছে যেটা দুঃখজনক। কিন্তু আরও বেশি দুঃখজনক হলো যে মুভিটি কেমন হয়েছে, এটা নিয়ে করণ জোহারের ভয়ে বলিউডের মানুষেরা হয় চুপ আছেন কিংবা মিথ্যা কথা বলছেন। এক রিভিউয়ার তো নিজের চাকরী যাবার ভয়ে “Youtube” এ না দিয়ে “Periscope” এ লাইভ চ্যাটের নামে রিভিউ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে খুবই হতাশাজনক। এমনকি করণ জোহারের “স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার” এর থেকে ভালো মুভি।
রেটিং – ০.৫ / ৫.০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

