somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: Baahubali 2: The Conclusion

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগেই বলে রাখছি। এটি সম্পূর্নরুপে স্পয়লারমুক্ত রিভিউ। কাটাপ্পা বাহুবালীকে কেন মারলো তা আমি বলবোনা। মজার ব্যাপার হলো কারণটা বেশ জটিল। সেকারণে কারো কাছ থেকে এক বাক্যে শুনে থাকলেও সেটা বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই।

মুভির বাজার বৃদ্ধির বর্তমানে একমাত্র উপায় হচ্ছে একটি মুভি তৈরীর পর তার সিকুয়েল, প্রিকুয়েল, গোটুহেল সবই তৈরী করতে হবে। প্রথম মুভি শুধু হিট খাইলেই চলবে। বাকিগুলা যতই বস্তাপঁচা হোক না কেন, দর্শকরা আশা করবে হয়তো নতুনটি প্রথমটির মতো ভালো হবে। সুতরাং টাকাই টাকা। কিন্তু কিছু কিছু মুভির পরবর্তী পর্বগুলি হয় প্রথমটির কাছাকাছি কিংবা প্রথমটির থেকে একটু ভালো হয়। এই প্রথম কোন মুভি দেখলাম যেটি নিঃসন্দেহে তার আগের মুভি থেকে কয়েকগুন বেশি ভালো। ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মুভি “বাহুবালী ২” আমাকে পুরাই অবাক করে দিয়েছে। যেখানে আগের মুভিটি আমার কাছে ভুয়া টাইপ মনে হয়েছিল।

কাহিনী কিছুই বলবোনা। কারণ কিছু বললেই স্পয়লার হয়ে যাবে। তাহলে বুঝতে পারছেন মুভিটির কাহিনী বেশ ভালো এবং জটিল। মুভিটিতে স্পেশাল এফেক্টে ভরপুর হলেও কাহিনীর প্যাঁচগুলির জন্যই মুভিটি দারুন লাগে। এতগুলি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মুভিটিতে আনা হবে সেটা আশা করিনি। সবসময়ই একটি উত্তেজনা লেগেই থাকে। মুভিটিতে বেশিরভাগ সময়ই অমরেন্দ্র বাহুবালীর কাহিনীটি দেখানো হয়েছে যেটা বেশি মজাদার।

একটি মুভি তখনই ভালো হয় যখন দর্শকরা মুভির চরিত্রের প্রতি মায়া অনুভব করে। বাহুবালী মুভিতে দারুন সব চরিত্রে ভরা। আগের মুভিতে শুধু রাজমাতা এবং কাটাপ্পা চরিত্রটি বেশি আকর্ষণীয় ছিল। কিন্তু এই মুভিতে আগের দুজন ছাড়াও বাহুবালী, দেবসেনা, ভাল্লালদেব, কুমার বর্মা এই চরিত্রগুলি আরো বেশি খোলাসা করে দেখানো হয়েছে। যে কারণে প্রতিটি দৃশ্যতেই দর্শকরা আটকে থাকে।

চরিত্রগুলি দারুণ করার জন্য প্রয়োজন সঠিক অভিনেতা। সেটার জন্য দক্ষিণ ভারতের সেরা অভিনেতাদের নেয়া হয়েছে যারা তাদের চরিত্রের জন্য উপযুক্ত। তামিলের রজনীকান্ত, বলিউডের খান, কিংবা বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খান কাওকেই নেয়া হয়নি। প্রাভাস ( বাহুবালী), রামাইয়া (রাজমাতা শীবগামী), রানা ডাগ্গুবতী (ভাল্লালদেব), আনুশকা শেঠী ( দেবসেনা), সত্যরাজ (কাটাপ্পা), নাসির (বিজ্জলদেব) প্রত্যেকেই পুরাই ফাটায় ফেলসে। এটি মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র গোষ্ঠীর প্রতি একটি চপেটাঘাত। যারা শুধু পয়সার পিছনেই দৌড়ায়।

দারুণ একটি কাহিনী নিয়ে এত বড় মুভি বানানোর জন্য শ্রী রাজামৌলিকে বাহবা দিয়ে শেষ করা যাবে না। বিজয়েন্দ্র প্রসাদের কাহিনীর সঠিক চিত্রায়ণ করা হয়েছে। দুই মুভি মিলে বাজেট ছিল ৪৩০ কোটি রুপি। তবুও শাকিব খানের একটি দৃ্শ্যও নেই। ক্যামনে কী? রাজামৌলির গুণ এবং সাহস দুটিই টাশকি খাওয়ার মতো। এছাড়া মুভিটির সবকিছুই ভারতীয় শিল্পীদের দ্বারা তৈরী। হলিউডের কোন ব্যক্তিত্ব নেই।

বাহুবালী মুভির প্রথম পর্ব দেখার আগে শুনেছিলাম এটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে স্পেশাল ইফেক্ট। মুভির ৯৫ ভাগই বলে কম্পিউটারে তৈরী। আমি ভাবলাম হইসে কাম। পুরাই কার্টুন না হয়ে যায়। মুভিটি কার্টুন না হলেও স্পেশাল ইফেক্ট আমার কাছে ভুয়া লেগেছিল। নতুন মুভিটিও স্পেশাল ইফেক্ট ভারতীয় মান হিসেবে ভালো হলেও বেশ কিছু জায়গায় ভিডিও গেম হয়ে গেছে। তবে স্পেশাল ইফেক্টের আগে কিছু আর্ট ডিজাইন করা হয় যে পরবর্তীতে কম্পিউটার দিয়ে বাস্তব বানানো হয়। আর্ট ডিজাইনগুলি নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত। মুভিটিকে পুরাই Gorgeous বানায় ফেলসে।

এছাড়া মুভির সংগীতে দারুণ কাজ করেছেন এম এম কিরিবানী। আবহ সংগীতের কারণে অনেক দৃশ্যে লোম খাড়িয়ে যায়।

মুভিটির খারাপ দিক হিসেবে বলা যায় শেষের মারামারির দৃশ্যটি। অহেতুক এবং অবাস্তব মারামারি। এতটাই গাজাখুড়ি যে আগের দৃশ্যগুলিকে অপমান করে। এছাড়া শেষ মারামারির ফলাফল আগের থেকেই বুঝা যায়। সেকারণে তেমন উত্তেজনা বোধ আসে না। কম্পিউটার গ্রাফিক্সগুলি এখন মোটামুটি মনে হলেও ১০ বছর পর বেশ খারাপ দেখাবে। মুঘল ই আজম এর মতো ক্লাসিকের মর্যাদা হয়তো মুভিটি পাবে না।

বাহুবালীর দ্বিতীয় মুভিটি দেখে আমি পুরাই হতবাক। এতটা ভালো আশা করি নাই। আগের মুভিটি তেমন ভালো লাগে নাই। তবে দ্বিতীয় মুভিটির পুরা মজা পাবার জন্য প্রথম মুভিটি দেখে নেয়া ভালো। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত।

রেটিং – ৪.৫/ ৫.০
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৫৪
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×