সকাল ১১ টা ৩০, ব্যারিকেট এনএক্স বিল্ডিং ছাড়িয়ে জগন্নাথ হলের পাচিলের সামনে এসে থেমেছে। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ও এতদুর বেরিকেট দেয়া হয়না। ভেতরের লম্বা লাইন দেখে বুঝলাম কারন কি। লাইনের দৈর্ঘ এবং সংখ্যা দেখে রিক্স নিলাম না দাড়ানোর। পেছন থেকে ঢুকলাম আর চলে গেলাম সব টীভি চ্যানেল গুলার ভেতর দিয়ে সরাসরি কফিনের সামনে বাশের কাছে। ২ ঘান্টা শুধু দেখলাম মানুষ গুলাকে। অনেক হিমু, মিসির আলি, বাকের ভাই, বদি, রুনু, রাবেয়া , ঝুনু, তিথি, শুভ্র টাইপের ভক্তের ছড়াছড়ি। আনেকে হাসে, আবার অনেকে কাদে, বাকিরা কাদতে পারেনা, তাই মুখভার করে থাকে। স্যারের তিন ছেলে মেয়েকে দেখলাম( প্রথম ঘরের)। ভাল লাগলো, তখন মাঝে কেন জানি শাওনের প্রতি রাগও লাগলো্,,, বাদ দেন ।
বাশের ব্যড় পার হয়ে আমি প্যন্ডেলের পিছে যাবার চেষ্টা করলাম কিছুক্ষন । এক পুলিশ বাধ সাধলো। আমি নাছর বান্দা দাঁড়িয়ে রইলাম রোদে অনেক্ষন। কিছুক্ষন পর আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এক র্যব ব্রাদার জোরপুর্বক লাইনে ঢুকিয়ে দিলেন।যে লাইন স্যরের কফিন বরাবর যায়। আমার ইচ্ছা ছিলনা যাবার (স্যারের কফিনের সামনে)। কেন জানি মৃত মানুষ আমার ভয় লাগে। কফিনের সামনে যখন যাব, আবিস্কার করলাম স্যারের মেয়ে (নোভা আপু) আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমি লজ্জিত , সাথে কুন্ঠিতও হলাম। হয়তো তার দুক্ষ গুলো ভাগা ভাগি করতে চায় সে, কিন্তু আমি পারিনি। সাথে সাথে আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। আমি বইতে পারিনা, এই পিতা হারানো ব্যথা।
ঢাকা মেডিকেল থেকে জোহরের নামাজ পড়ে , ২ টা ৩০ মিনিটে ঈদগাহে গেলাম জানাযার নামাজ দেখতে। কিন্তু কেন জানি সাহস হলনা লাইনে দাড়াতে। ওজু ছিল আমার, যেখানে জাফর ইকবাল, নুরুল ইসলাম নাহিদরা পারলো, আমি কেন জানি পারিনি্। হুমায়ুন আহমেদের নিজের তৈরীকরা অস্পৃষ্টতাই আমাকে বাধাদিল ( জানযা ফরজে কেফায়া বলে বেচে গেছি আমি)। শুধু দোয়া করলাম যেন আল্লাহ তাকে কবুল করেন ( মুসলিম হবার মাপ- কাঠীতে যদি পার পাই, বাকিটুকু আল্লাহর হাতে, তার দয়ার প্রতি আমার সন্দেহ নেই )।নামাজ শেষি ঠেলেঠুলে সামনে গেলাম, তাকে দেখতে দেইনি । পরে শুনলাম স্যার কে বারডেমে রাখা হয়েছে, সেটা কিনা আমার মেসের পাশেই। পার্থক্য শুধু, আজ তার আত্নাটা যে নেই, হয়তো তাই আজ কোন ভিড়ও নেই এখানে। ইহাই বুঝি অপ্রিয় সত্য...
অনেক ছবি তুলেছিলাম, তার ভেতর থেকে এগুলা দিলাম দেখেন । আশা করি ভাল লাগবে ঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


