somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Renovating FFW (Food for Work) with FFF (Food for Food) : A humane project for non-human beneficiaries

২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামটা বেশ জটিল দিয়ে ফেললাম মনে হয়, সমস্যা নাই, এটা প্রস্তাবিত, ফাইনাল না। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) বা FFW বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের সোশ্যাল সিকিউরিটির অন্যতম আকর্ষন। গতবছর আমাদের দেশের বাজেটের ১,৩১৭ কোটি টাকা (0.৫ %) শুধুমাত্র কাবিখার জন্য বরাদ্য ছিল। খাদ্যের বিনিময়ে খাদ্য (খাবিখা) বা FFF বলে কিছু কিন্তু নেই , এটাই প্রথম। কিন্তু এই প্রজেক্ট আপাতত অমানুষদের ( অর্থাৎ জিব-জন্তু ) জন্য শুধু । যাদের তেমন বিবেকবোধ নেই।

খেয়াল করে দেখলাম, আমি এক কাপ চা খাইলে, ২৫+ পিপড়ার খাবারের সংস্থান হয় , আমার চা এর প্যাকেটে ৮০ টা টিব্যগ , ফলে দিনে দুইবার চা খাইলে ৪0 দিনে নুন্যতম , (৫০ X ৪০ ) = ২,০০০ টা পিঁপড়ার খাবারের সংস্থান হবে বলে আশা করা যায় (ধরে নিলাম প্রতিদিন নতুন পিঁপড়া আসবে) । মাত্র ৮ রিঙ্গিত লাগে এক প্যাকেট চা কিনতে। মালয়েশিয়াতে সাধারণত দুবেলা খাবার খাইতে ১০ রিঙ্গিত লাগে। ফলে ২০০০ পিঁপড়ার জন্য এটা তেমন কোন খরচ না।

শুধু খাবারছাড়াও , এই প্রজেক্টের অন্য উপকারিতা আছে
# পিঁপড়া মেয়ে হলে এই সুগার নিউট্রিশন ইফেক্ট তার বাচ্চার জন্য ফলদায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
# মার্জিনালাইজড পিঁপড়া (মহিলা বা বয়স্ক কর্মী) তার রানীর কাছেও বাহবা পেতে পারে খাদ্য সংগ্রহে সফল হবার কারনে
# পিঁপড়ার সুগার ফল করবে না, নিত্যদিন তার সুষম সুগারের ব্যবস্থা হবে
# যখন জানবে খাবার টেবিলেই পাওয়া যাবে, তখন তাদের আর আমার ল্যপ্টোপের কিবোর্ড এর ভেতর লুকিয়ে থাকা লাগবে না । এতে আমার ও উপকার হবে। ফলে প্রোগ্রামটা রেসিপ্রকাল।
# কাল এবং লাল পিঁপড়া একত্রে খাইতে পারবে , ফলে পিঁপড়া নিয়ে মানুষের বিভ্রান্তি আর বৈষম্য দুর হবে ( ছোটকালে প্রচলন ছিল যে, কাল পিঁপড়া মুসলমান , আর লালগুলা হিন্দু )

এর জন্য শুধু দুইটা কাজ দরকার ঃ
১, আমাকে নিয়মিত চা খাইতে হবে
২, চা খাওয়ার সময় কিছু উচ্ছিষ্ট খানিক লম্বা সময় ধরে ফেলে রাখতে হবে (চিনি, চা ইত্যাদি), যাতে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যার পিঁপড়া খেতে পারে

বিবিসির একটা খবরে দেখলাম, প্রতি বছর আমেরিকার উৎপাদিত ৪০% খাবার কখনো খাওয়াই হয়না, আর ইউরোপে ১০০ মিলিয়ন টন খাবার শুধু ফেলে দেয়া। বিশ্বের ফুড ওয়েস্ট , সকল ধরনের ওয়েস্টের তিন ভাগের এক ভাগ (৩৩%), যার আর্থিক পরিমাণ ৭৫০ বিলিয়ন ডলার । যেটা ৫৭,৬৭৬০৮৭৫,০০,০০০ টাকার সমান। যা দিয়ে ৯ বিলিয়ন মানুষকে ভালভাবে খাওয়ানো সম্ভব।

দুর্ভাগ্য যে, এত খাদ্য থাকার পরও আজ পৃথিবীতে ১০০ কোটি লোক ক্ষুধার্থ দিন কাটায়। এই চরম কন্ট্রাডিকশনের কারনে প্রজেক্ট টা আপাতত অমানুষ (পশু পাখি ) দের দিয়ে শুরু করা যায়। আমার পাশে পিঁপড়া বেশি বলে আমি পিঁপড়া দিয়ে শুরু করলাম, আপনার পাশে বিড়াল, কুকুর , হাস মুরগি যা কিছু আছে, তাই দিয়ে শুরু করুন । এরা আপনার উচ্ছিষ্ট খাবে, কারন এদের যেঁ বিবেক নেই ।

বিটীভির "ইত্যাদি" অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম যে দেশে একবার পানির সংকট চলছে, ফলে একজন গোসল করছে , আর সেই পানি দিয়ে আরেকজন ঘর মুছতেছে। একঢিলে দুই পাখি । সেভাবে, মানুষদের সাথে এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করা যেত, কিন্তু দুই ধরনের সমস্যা আছে , ডিমান্ড সাইড প্রব্লেম (ক্ষুধার্ত গোষ্ঠী) , আর সাপ্লাই সাইড প্রব্লেম (খাবার নষ্টকারী গোষ্ঠী)।

ডিমান্ড সাইড প্রব্লেম হল মানুষের বিবেক। চাহিদা থাকলেও, খুব গরিব মানুষও বিপদে না পড়লে কারো উচ্ছিষ্ট খাইতে চাই না। চাইলে অনেক উপকার হত । ফুড ফর ফুড চালানো যেত। সাপ্লাই সাইড সমস্যা হল, যে খাবারগুলা নষ্ট হইতেছে (যেটা দিয়ে এই প্রজক্ট চালানো যেত), তা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা আপাতত খুব মজবুত না। এই দুটা সমস্যা সমাধান করা খুব জরুরী । নাইলে খুব কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে এক দিন ।

লেখাটা সেট্যায়ার হলেও , প্রজেক্ট টা কিন্তু ফেলনা না । স্ট্যাটাস এর চেয়ে, আইডিয়া টা সেভ করে রাখাই মুল উদ্দেশ্য । মজার ব্যাপার হল, যখন আইডিয়া টা নিয়ে ভাবতেছি, তখন অমর্ত সেন আর ড্রেজের বইয়ের খুব গুরুত্বপুর্ন একটা যায়গা পড়তেছিলাম ঃ তাদের মতে ,
" Leaving poor people to their own devices is neither socially just , nor smart public policy"

বাংলাদেশের ৩৭ মিলিয়ন ( ৩৭০ লক্ষ) ফুড ইন্সিকিউর মানুষের (UNWFP এর হিসাব) দায়িত্ব সরকার কেই নিতে হবে গরিব মানুষ চাইলেও অনেক সময় পারেনা। আমরা যারা একটু স্বচ্ছল তারা পারতে দেইনা হয়তো । তাই আমাদের দায়িত্বটা কম না ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×