আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, দলীয় ফান্ড সংগ্রহসহ নানা বিষয়ে আরো তথ্য দিয়েছেন।
ক) শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব দিয়ে দেশের কোনো কল্যাণ হবে না
আব্দুল জলিল স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব দিয়ে দেশের কোনো কল্যাণ হবে না। তবে তিনি যদি তার মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসেন, তবে অবস্থার পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, দলে সবাই শেখ হাসিনার লাইন ধরেই কথা বলে। তিনি কী বলতে চাচ্ছেন, ভালমন্দ যাচাই না করে সবাই সেভাবেই তা বলে।
খ) নেত্রীর কথা শুনতে গিয়ে সেই খারাপ কাজগুলোও আমাকে করতে হয়েছে
জিজ্ঞাসাবাদে জলিল বলেন, আমার জীবনের বড় ভুল হচ্ছে আমি যেসব বিষয় পছন্দ করতাম না, বিশ্বাস করতাম না, নেত্রীর কথা শুনতে গিয়ে সেই খারাপ কাজগুলোও আমাকে করতে হয়েছে। কাজগুলো কী, সেগুলোর প্রতিবাদ তিনি করতেন কিনা, কখনো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিনাÑএর জবাবে জলিল বলেন, এরকম অনেক সিদ্ধান্তই আমার মুখ দিয়ে বলানো হয়েছে। সারাদেশে আগুন জ্বলবে, গাড়ি চলবে না ইত্যাদি তিনি কেন বারবার বলতেন, এর জবাবে জলিল বলেন, ভেরি ফ্রেঙ্কলি বলছি, এসব কল দেয়া খুবই অন্যায় হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত আমি নিতাম না, বলানো হতো আমাকে দিয়ে।
গ) মাস্তানীকে গুরুত্ব দিতেন শেখ হাসিনা
জলিল বলেন, আমি ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে হাজারীর বোন ও শামীম ওসমানের মনোনয়নের প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু নেত্রী সেটাতো শুনেনইনি, বরং বললেন, ওদের আমার লাগবে। হাজারী চেয়েছে তার বোনকে মনোনয়ন দিতে হবে। আমি বললাম, হাজারীকে তো আমরা দল থেকে বহিস্কার করেছি। নেত্রী বললেন, হাজারীর প্রভাব ছাড়া সেখানে জেতা যাবে না। একসময় তারা আমাদের পে দাঁড়িয়েছিল। আমরা মতায় থাকতে তারা খুব বাহাদুরি, মাস্তানি করত। তিনি সেভাবেই তাদের স্বীকৃতি দিতেন। ওই মাস্তানীকেই নেত্রী দেখতেন। এরা যে আমাদের তি করছে, এখন আর জনপ্রিয় নয়, সেটা তিনি বুঝতেই চাইতেন না।
ঘ) জলিল পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন
জিজ্ঞাসাবাদে জলিল জানান, আওয়ামী লীগে ৬০-এর বেশি যাদের বয়স তাদের অবসরে পাঠানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেটা যদি চূড়ান্ত হয়, তবে নেত্রীও অবসরে যাবেন। তিনি বলেন, নেত্রীর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগে এককভাবে নেতৃত্ব দেয়ার মতো কেউ নেই। আবদুল জলিল বলেন, তিনি একাধিকবার দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নেত্রী তাকে ছাড়তে দেননি। কাউন্সিল হলে ছাড়বেন বলেছেন। কিন্তু আন্দোলন, নির্বাচনসহ নানা কারণে কাউন্সিল হয়নি।
ঙ) আওয়ামীলীগে সৎ নেতার পারসেনটেজ
মতিয়া চৌধুরী ও জোহরা তাজউদ্দিন ছাড়া তিনি দলে আর কোন সৎ নেতার নাম বলতে পারেননি। রাজ্জাক, তোফায়েল স¤ক্সর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তাদের মধ্যে অসততা আছে বলে তিনি জানান। সৎ নেতার পারসেনটেজ কত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই সেন্সে বললে কম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






