আপনারা হয়তো ভাবছেন, এতো কিছু থাকতে আমি ব্লগ লেখার জন্য কেন এই বিষয়টা বেছে নিলাম, কারণ এটা এমন একটা ব্যবসা যেখানে অনেক মানুষ নিজের পুঁজি হারিয়ে আজ নিঃস্ব। তারপর ও ব্যবসাতে শেষ বলে কোনো কথা নেই।
প্রথমে পুজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ যেসমস্ত বিনিয়োগকারী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের আত্মার সদগতি কামনা করছি ও তাদের পরিবার কে সমবেদনা জানাচ্ছি। পুজিবাজার হল একটা দেশের ব্যারোমিটার এর মত, যাকে দেখে ওই দেশের অর্থনীতির অবস্থা পরিমাপ করা যায়। পুজিবাজার ধ্বংস হলে ওই দেশের অর্থনীতি টিকতে পারে না, কেননা এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, লোকবলের উপর চরম প্রভাব পড়ে। তাই আজ হোক, কাল হোক আমাদের বাজার অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।
পুজিবাজারে সাধারণত, নিজের অলস টাকা নিয়ে আসবেন, নয়তো ব্যবসা করে মজা পাবেন না। আর এই ব্যবসাটা সম্পূর্ণ নিজের মতামতে করবেন, কারো প্ররোচনায় না, কারণ লাভ-ক্ষতি তো আপনার।
আমার দেওয়া প্রথম পার্টে আমি আলাপ করেছিলাম কিভাবে আপনি আপনার বি ও একাউন্ট খুলবেন। আপনারা যারা সেটা মিস করেছেন তারা এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
আসুন শুরু করি শেয়ার ব্যবসা (১)
আজকে আমি এরপর থেকে আলোচনা করব। আপনি আপনার বিও হিসাব নং তো বুঝে পেয়েছেন। এখন আপনি ইচ্ছে করলে আই পি ও অথবা সেকেন্ডারী যেকোনো মার্কেটে অথবা দুই মার্কেটেই অংশগ্রহণ করতে পারেন।
আপনাদেরকে আই পি ও এবং সেকেন্ডারী মার্কেট সম্পর্কে কিছু ধারণা দিয়ে রাখি।
বর্তমান মার্কেটে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হলে আই পি ও-র মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথমে এস ই সি, ওই প্রতিষ্ঠানের ইস্যু ম্যানেজার এবং আন্ডার রাইটার দ্বারা বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটির একটি শেয়ার প্রতি মূল্য ও শেয়ার এর লট নির্ধারণ করা হয়।(লট নিয়ে পরবর্তী পার্টে আলোচনা করব) প্রক্রিয়াটি আপনার না জানলে ও চলবে, তবে এখালে বলে রাখা ভালো যে, এটি খুবই স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া।
সাধারণতঃ আই পি ও-র টাকা জমা দেওয়ার জন্য পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়। টাকা জমা দেওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফরম রয়েছে। এগুলো আপনি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস, বিভিন্ন স্টেশনারী দোকান, ওয়েবসাইট এ পাবেন। এখানে এরকম একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হল। ডি এস ই
ফরম নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করে ফরম টি নির্দিষ্টপরিমাণ টাকাসহ(প্রতি শেয়ার এর মূল্য*শেয়ার এর পরিমাণ ) নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে। কোন ব্যাংকের কোন ব্রাঞ্চে জমা দিতে হবে তা ফরমের পিছনে উল্লেখ করা থাকে। একজন ব্যক্তি একটি বিও একাউন্ট থেকে একটি-র জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদি দশটা বিও একাউন্ট থাকে তবে উনি দশটার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ব্যাংক আপনার ফরমটি নিয়ে আপনাকে একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র(যাতে একটি সিরিয়াল নং থাকে) দিবে। যারা এন আর বি(নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশী) তারা ও নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় এই আবেদন করতে পারবেন।
এর নির্দিষ্ট কিছুদিন পরে লটারী হয়, লটারীতে জয়ী ব্যক্তিদের নং প্রকাশ করা হয়। আপনারা রেজাল্টটি অনলাইনে নিয়ে নিতে পারবেন। এখানে এরকম একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হল।ডি এস ই
যারা সৌভাগ্যবান(লটারীতে জয়ী)
লটারীর ড্র হওয়ার পরে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির বাজারে ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়। এবার আপনি আপনার লাভ বুঝে সুযোগ মত বিক্রয় করে দেন। বিক্রয় করে টাকা টা তুলে নেন। তুলে লাভ টা নিয়ে নেন, আর বাকি যেটা আপনার বিনিয়োগ ছিল স টাকা দিয়ে আবার আরেকটার জন্য আবেদন করেন।
একবার না পেলে আবার চেষ্টা করেন।
পরবর্তী ব্লগে এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব। লেখায় বানান সম্পর্কিত কোনো ভুল থাক্লে/শেয়ায়ার বাজারের তথ্য সম্পর্কে কোনো ত্রুটি থাকলে দয়া করে বিশেষজ্ঞগণ আমাকে সংশোধন করে দেবেন। লেখটি আমি খুব নিজের ভাষায় লিখেছি। তাই ব্লগটি পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সেটা জানাতে ভূলবেন না। কারণ আপনাদের ভালো ভালো কমেন্ট আমাদের ব্লগ লেখার অনুপ্রেরণা যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।
শেয়ার বাজার সম্পর্কিত আমার অন্যান্য ব্লগসমূহঃ
আসুন শুরু করি শেয়ার ব্যবসা (১)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




