somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্লুইড মেকানিক্স ও আমাদের ডক্টর ফজলে হোসেন

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পৃথিবীতে ফ্লুইড ডায়নামিকস নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কাছে বেশ পরিচিত নাম ড. ফজলে হোসেন। শুধু তা-ই নয়, ফ্লুইড ডায়নামিকস নিয়ে যাঁরা ভবিষ্যতে কাজ করবেন, তাঁদের পথিকৃৎও বলা হয় তাঁকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও কয়েকটি ক্ষেত্রে ফজলে হোসেনের গবেষণা রয়েছে। নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ফ্রিম্যান স্কলার অ্যাওয়ার্ড, ফ্লুয়িড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড, ফ্লুয়িড ডায়নামিকস অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার। বর্তমানে অধ্যাপনা করছেন টেক্সাসের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ছেলেবেলা :
বাবা ছিলেন সামান্য চাকুরে। সাত ভাইবোনের সংসারে ছিল নিত্য অনটন। তাই গরু চড়িয়ে আর বাড়ির পাশের মাঠে শাকসবজি চাষ করেই কাটে ফজলে হোসেনের ছেলেবেলা। অনেকটা রাখালের মতোই ছিল সে জীবন। পাশাপাশি বাড়ির কাজও করতে হতো তাঁকে। ১৯৪৩ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফজলে হোসেন। অভাবের কারণে তাঁকে ভর্তি করে দেওয়া হয় সাধারণ একটা স্কুলে। একবার একটা ঘটনা ঘটে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান। লাজুক স্বভাবের এই ফজলে হোসেনকেই মঞ্চে তুলে দেওয়া হলো বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। সেকি অবস্থা! মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন ফজলে হোসেন। মুখ থেকে একটা কথাও বের হচ্ছে না। কী করবেন বুঝতে পারলেন না তিনি। রাগে-দুঃখে মঞ্চ ছেড়ে পালালেন। স্কুলে খুব একটা ভালো ফলাফলও করতে পারেননি। ইংরেজিতে ছিলেন কাঁচা। তাই কিনা একবার ভাবলেন লেখাপড়াটা ছেড়েই দেবেন। যোগ দেবেন সেনাবাহিনীতে। কিন্তু তাও জুটল না। উচ্চতা মাপতে গিয়ে দেখা গেল তিনি যথেষ্ট খাটো। সব মিলিয়ে এক দারুণ জেদ চাপল তাঁর। নিজের সব দুর্বলতাকে উড়িয়ে দিতে গভীর পাঠে মন দিলেন তিনি।
চোর নিয়েছে নোটখাতা :
মেট্রিক পরীক্ষার আর মাত্র ১০ দিন বাকি। চুরি হলো ফজলে হোসেনদের ঘরে। জিনিসপত্র তো নিলই, তাঁর নোটখাতা-বই নিতেও বাকি রাখল না। ফজলে হোসেনের মাথায় যেন বাজ পড়ল। কিন্তু তাঁকে যে পারতেই হবে। বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে বইপত্র জুগিয়ে ঠিকই পরীক্ষা দিলেন তিনি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বোর্ডে প্রথম হয়ে গেলেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ও বাধল বিপত্তি। অসুস্থ হয়ে পড়লেন ফজলে হোসেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই পরীক্ষা দিতে হলো তাঁকে। এবার বোর্ডে তৃতীয় স্থান অধিকার করলেন। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি এই জেদি ছাত্রকে। ভর্তি হলেন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বর্তমানে বুয়েট)।
পড়লেন যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগে। এখানেই তিনি ঝেড়ে ফেললেন ছেলেবেলার দুর্বলতাগুলো। লাজুক স্বভাব আর সবার সামনে কিছু বলতে না পারার ব্যাপারটা তাঁর মধ্য থেকে অনেকটাই কেটে গেল। ভালো ছাত্র হওয়ার কারণে ১৯৫৭ থেকে ৫৯ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সরকারের ট্যালেন্ট স্কলারশিপ পান, ১৯৫৯ থেকে '৬৩ সাল পর্যন্ত লাভ করেন পাকিস্তান সরকারের সিনিয়র মেরিট স্কলারশিপ।
একই সঙ্গে রাজনীতি ও লেখাপড়া :
বুয়েটে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন ফজলে হোসেন। তবে তিনি এটাকে সরাসরি রাজনীতি বলেন না। ১৯৬১ সালে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি স্টুডেন্টস সেন্ট্রাল ইউনিয়নের সম্পাদক হয়ে গেলেন। চতুর্থ বর্ষে হলেন সহসভাপতি। তখন প্রতিষ্ঠানের ভিসি ছিলেন সভাপতি। আরো মজার কথা হলো, একসময়ের ইংরেজিতে দুর্বল এই ছাত্রটিই ১৯৬০ থেকে '৬৩ সাল পর্যন্ত দ্য পাকিস্তান অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ছিলেন। বুয়েট থেকে তিনি যন্ত্রপ্রকৌশলে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করেন। ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। এখান থেকেই ১৯৬৬ সালে এমএস এবং ১৯৬৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পিএইচডিতে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ইকহর্ট পুরস্কারও পান।
বিজ্ঞানে তাঁর কাজ :
ছেলেবেলার সেই রাখাল বালকটিই আজ রকেট, জেট বিমান, সাবমেরিন ও হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের অত্যাধুনিক সংস্করণের অন্যতম রূপকার। যন্ত্রবিদ্যা বিশেষ করে ফ্লুইড ডায়নামিকস ও টার্বুলেন্স শাখার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর খেতাব পেয়েছেন তিনি। জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রপ্রকৌশলের আরেক বিজ্ঞানী প্রফেসর কাৎজ ফজলে হোসেনের পরিচয় তুলে ধরেছেন এভাবে, 'ফ্লুইড ডায়নামিকস জগতে একজনের নাম যদি বলতে হয়, তিনি ফজলে হোসেন।'
যন্ত্রপ্রকৌশল বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা এবং ভূমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলসংক্রান্ত বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন ফজলে হোসেন। তিনি টার্বুলেন্ট ফ্লো, ফ্লুইড ডায়নামিকস, ভরটেক্স ডায়নামিকস, ন্যানো ভেক্টর টেকনোলজি, অ্যারো অ্যাকোয়াস্টিকস ও অপটিক্যাল মেজারমেন্ট টেকনিকস বিষয়ের বিশেষজ্ঞ।
রকেট বা জেট ইঞ্জিন বা বিভিন্ন বিমানের ইঞ্জিনের টারবাইন প্রচণ্ড শক্তিতে আলোড়িত হয়। দৈত্যাকৃতির এই যন্ত্রের আলোড়ন নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসাধ্য। ফজলে হোসেন বিশ্বাস করতেন, এই অনিয়ন্ত্রিত এলোমেলো আলোড়নে এক ধরনের ছন্দ রয়েছে। একে বের করে আনতে পারলেই ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। শেষ অবধি টার্বুলেন্স ফ্লো নিয়ন্ত্রণে সফল হন এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে অত্যাধুনিক জেট বা রকেট ইঞ্জিন তৈরি করা হচ্ছে, যা শুধু কম জ্বালানিই খরচ করে না, বরং টারবাইনের আলোড়নজনিত শব্দ ও সংঘর্ষ ২০ শতাংশ কমে। তাঁর উদ্ভাবিত পন্থা ব্যবহার করে বছরে তিন বিলিয়ন ডলার জ্বালানি খরচ বাঁচনো গেছে।

পাশাপাশি বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি শাখাকে নতুন আলো দেখাচ্ছে ফজলে হোসেনের গবেষণা। এর মধ্যে হলোগ্রাফিক পার্টিক্যাল ভেলোসিমেট্রি, থ্রি-ডি ফ্লো মেজারমেন্ট টেকনোলজি উল্লেখযোগ্য। ইতিমধ্যে এসব গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে লাগছে। বিশেষ করে কৃত্রিম হৃদযন্ত্রে রক্তের স্বাভাবিক সঞ্চার ও এ-সংক্রান্ত নতুন গবেষণার পথ উন্মোচিত করছে।
এখন হোসেন সহকর্মী মাইকেল গোল্ডসটিককে নিয়ে নতুন এক গবেষণা করছেন। এমন এক ধরনের হেলিকপ্টার বানাতে চেষ্টা করছেন, যা লম্বভাবে উঠতে এবং নামতে পারবে।
দীর্ঘ কর্মজীবন :
ছাত্রজীবন থেকেই কাজে জড়িয়ে পড়েন ফজলে হোসেন। বুয়েটে যোগ দেওয়ার আগের বছর পাকিস্তানের ফেরোস্টাল এজি-তে যন্ত্রপ্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৯ থেকে ৬৩ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ডক লিমিটেডে ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। এখানে ফজলে হোসেন ৬০ ফুট দীর্ঘ বিভিন্ন শক্তিচালিত নৌযানের নকশা করেন।

১৯৬৪-৬৫ সাল- এই এক বছর তিনি বুয়েটের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের লেকচারার ছিলেন। এখানে তিনি সূর্যরশ্মি নিয়ে নানা গবেষণা করেন। এ ছাড়া অ্যামোনিয়া ওয়াটার সোলার রেফ্রিজারেটরের নকশা ও কার্যপ্রণালি এবং রকেট মোটরের নকশা তৈরি ও প্রস্তুত করাসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। ১৯৬৫-৬৯ সাল পর্যন্ত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী গবেষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর যোগ দেন জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। ছিলেন ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। সে বছরই যোগ দেন হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পদে। সেখানে ১৯৭৩-৭৬ সাল পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং ১৯৭৬ সালে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কাটিয়ে দেন কর্মজীবনের দীর্ঘ সময়। এখন তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা ও আর্থ অ্যান্ড অ্যাটমোসফিয়ার সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন। ২০১১ সাল থেকে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রফেসর (আজীবন) হয়ে আছেন। ২০১০ সালের বিভিন্ন সময় তিনি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে হিউস্টনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের ন্যানো মেডিসিন অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ করেন। ২০০৮ সালে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভিজিটিং প্রফেসরে মনোনীত হন। ২০০৮-০৯ সাল পর্যন্ত ক্যালটেকে সম্মানসূচক ম্যুর স্কলার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিভাগের সম্মানসূচক প্রেসিডেন্ট চেয়ারে সম্মানিত। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

যা পড়ান হোসেন :
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কয়েকটি বিষয়ে পড়ান ফজলে হোসেন। স্নাতক পর্যায়ে পড়ান- থার্মোডায়নামিকস, এলিমেন্টারি ফ্লুইড মেকানিকস, ফ্লুইড মেকানিকস, ফ্লুইড মেকানিকস ল্যাবরেটরি, থার্মাল ফ্লুইড ল্যাবরেটরি, ইন্ট্রুডাকশন অব মেকানিকস ইত্যাদি। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ান লেমিনার ফ্লো, বাউন্ডারি লেয়ার থিয়োরি, হাইড্রো ডায়নামিকস স্ট্যাবিলিটি, ভিসকস ফ্লো থিয়োরি, জেট ফ্লোস অ্যান্ড জেট নয়েজ, টার্বুলেন্স, ভরটেক্স ডায়নামিকস ইত্যাদি।
জড়িত প্রশাসনিক কাজেও :
পিএইচডি শেষ করার পর বেশ কিছু প্রশাসনিক পদে দায়িত্বরত ছিলেন এই বিজ্ঞানী। হিউস্টন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭১-৮১ সাল- এই ১০ বছর হিউস্টন এরিয়া ফ্লুইড মেকানিকস সেমিনার পরিচালনায় একাধারে উদ্যোক্তা এবং চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন ফজলে হোসেন। ১৯৮০-২০০৩ সাল পর্যন্ত হিউস্টনে কোভাসজনে ডিসটিংগুইজড লেকচার সিরিজের প্রধান পদে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ১৯৮১ থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লুইড ডায়নামিকস অ্যান্ড টার্বুলেন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে আছেন। এখানেই ১৯৯৬-২০০২ পর্যন্ত ভরটেক্স টেকনোলজি সেন্টার পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।
আমেরিকার জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন হোসেন। ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিজিক্যাল সোসাইটিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিকসে ২০০৫ থেকে অ্যারো সায়েন্স বিভাগের ফেলো নির্বাচন কমিটির 'চেয়ার' নিযুক্ত হন। টেক্সাসের চিকিৎসা, প্রকৌশল ও বিজ্ঞান একাডেমির বোর্ড মেম্বার ছিলেন ২০০৯-১২ সাল পর্যন্ত। ২০০৫-০৬ সালে তিনি ছিলেন ওডনেল প্রাইজ কমিটির সদস্য। দ্য একাডেমি সায়েন্স ফর দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ডে প্রকৌশল বিজ্ঞান প্রাইজ কমিটির চেয়ার তিনি।
কলমটাও সচল :
গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি লেখালেখিটাও চালিয়ে যাচ্ছেন ফজলে হোসেন। 'ওয়ার্ল্ড সায়েন্টেফিক' থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর 'নন লাইনার ডায়নামিকস অব স্ট্রাকচারস' নামে একটি বই। রয়েছে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা, যেগুলো প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন বইয়ে। তাঁর উল্লেখযোগ্য লেখা হলো, আ সাইকোলজি রিলেভেন্ট, সিম্পল আউটফ্লো বাউন্ডারি মডেল ফর ট্রানকেটেড ভাসকুলেচার, কনফাইনমেন্ট ইফেক্টস অনমনোস্যাকারাইডস ট্র্যান্সপোর্ট ইন ন্যানোচ্যানেলস, অ্যানালাইসিস অব ন্যানো চ্যানেলড মেমব্রেন স্ট্রাকচারস উইথ লং রেঞ্জ কনভিকটিভ গ্যাস ফ্লো, ন্যানো স্ট্রাকচারস উইথ লং রেঞ্জ অর্ডার ইন মনোলেয়ার সেলফ অ্যাসেমবি্ল, অন স্ট্যাবিলিটি অব সেলফ অ্যাসেম্বলড ন্যানোস্কেল প্যাটার্ন ইত্যাদি।
অনেক সম্মাননা :
বিজ্ঞানের ফ্লুইড ডায়নামিকস অ্যান্ড টার্বুলেন্সের ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণার জন্য চারটি সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত এই বিষয়ে পৃথিবীর দুজন বিজ্ঞানী সর্বোচ্চ দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। ফজলে হোসেনই প্রথম বিজ্ঞানী, যিনি পেয়েছেন চারটি। ১৯৮৪ সালে ফ্রি ম্যান স্কলার অ্যাওয়ার্ড অব দি আমেরিকান সোসাইটি অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারস, ১৯৯৮ সালে ফ্লুইড ডায়নামিকস প্রাইজ অব দ্য আমেরিকান ফিজিক্স সোসাইটি, ২০০০ সালে ফ্লুইড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড অব এএসএমই ও ২০০২ সালে ফ্লুইড ডায়নামিকস অ্যাওয়ার্ড ফ্রম দি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিকস। এগুলো শুধু ফ্লুইড ডায়নামিকসের ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণার জন্য পেয়েছেন। পাশাপাশি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন এই গবেষক বিজ্ঞানী। ১৯৮০ সালে ইউএস ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ স্কলার, ১৯৮৩ সালে চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস স্কলার, ১৯৮৫ সালে হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ফজলে হোসেনকে দেওয়া হয় রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ২০০৩ সালে টপ টেন এশিয়ান-আমেরিকানের মধ্যেও ছিল তাঁর নাম।

লেখাটি কালের কন্ঠ পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করা, ৯ নভেম্বর স্পটলাইট পাতায় ছাপা হয়েছিল এটি।
কিছু লিঙ্কঃ
http://www.me.uh.edu/faculty/hussain
Click This Link





০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×