somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ম্যাডামের ভালবাসা

১৩ ই মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি দুটি ব্যক্তি পরস্পরকে ভালোবাসেন তাহলে তার পরিণতি সুখের হতে পারে না।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

প্রেমিক হিসেবে ফ্রেঞ্চদের ঈর্ষাযোগ্য নাম আছে... তুলো বন্দরের তরুণ পুলিশ জ্যাক পিরের ঘটনাটাই দেখুন না কেন।

ট্রেইনিং কোর্স ইত্যাদি সমাপ্ত হওয়ার পর পিরে তার চাকরি জীবনে প্রথম বিটে একাকী ডিউটি করছিলেন শহরের কেন্দ্রস্থলে। তিনি লক্ষ্য করলেন একটি স্মার্ট বুটিক শপের (পোশাকের দোকান) সামনে অবৈধভাবে একটি মোটর গাড়ি পার্ক করা আছে। তাকে বিশেষ করে এই গাড়ি এবং তার ড্রাইভারের প্রতি দৃষ্টি রাখার জন্য আগে থেকেই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন সেই দোকানেরই মালিক ম্যাডাম ইভলিন লাফর্জ।

ম্যাডাম লাফর্জ ছিলেন দুর্দমনীয় মহিলা। নো-পার্কিং জোন বা যেখানে গাড়ি পার্কিং সর্বদাই নিষিদ্ধ সেখানে তিনি আইন অমান্য করে প্রায়ই গাড়ি রেখে দিতেন। এই বেআইনি কাজের জন্য পুলিশ যেসব সমন অথব জরিমানার পার্কিং টিকেট তার গাড়ির কাচে সেটে দিতো সেগুলো ম্যাডাম লাফর্জ বিনা দ্বিধায় ছিড়ে ফেলে দিতেন।

তরুণ জ্যাক পিরে হঠাৎ দেখলেন ম্যাডাম লাফর্জ তার গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছেন। ওপরওয়ালাদের তুষ্ট করার এই সুযোগ তরুণ পুলিশটি হাতছাড়া করতে চাইলেন না। ম্যাডাম লাফর্জকে শিক্ষা দেয়ার জন্য পিরে এগিয়ে গেলেন।

কিন্তু পুলিশের সঙ্গে আচার-আচরণে ম্যাডাম লাফর্জ ছিলেন অতি অভিজ্ঞ বিশেষত জ্যাক পিরের মতো নতুন পুলিশরা তার কাছে ছিল কচি শিশু। পিরে তাকে মৃদু স্বরে বকাবকি শুরু করা মাত্রই ম্যাডাম লাফর্জ কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ‘দুঃখ’ এবং ‘অনুশোচনায়’ তিনি প্রায় পাগলের মতো আচরণ করতে লাগলেন।

ম্যাডামের চিৎকার, কান্না এবং চোখের পানি থামানোর জন্য তরুণ পুলিশ জ্যাক পিরে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করতে লাগলেন। এই দৃশ্য দেখার জন্য ক্রমেই রাস্তায় ভিড় বাড়তে লাগলো। পিরে যখন ম্যাডামকে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেন তখন উপস্থিত জনতা তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলো। এই বিরূপ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য পিরে ম্যাডামকে ক্ষমা করে দিয়ে ম্যাডামেরই গাড়ি ড্রাইভ করে তাকে বাড়ি পৌছে দেয়ার প্রস্তাব দিলেন।

যখন তারা ড্রাইভ করে যাচ্ছিলেন তখন ম্যাডাম তার সংবিৎ ফিরে পেলেন। বাড়ির সামনে যখন তারা এসে থামলেন তখন বিপর্যস্ত জ্যাক পিরের কাছে ম্যাডাম লাফর্জ ক্ষমা চাইলেন এবং তাকে ডৃংকস অথবা চা-কফি খেয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন।

নিষ্পাপ পিরেকে তিনি বললেন, এর আগের পার্কিং ফাইনগুলো না দিয়ে তিনি যে পাপ করেছেন তা কিভাবে স্খলন করা যায় সেই বিষয়ে তিনি তার সঙ্গে আলোচনা করতে চান।

ম্যাডাম লাফর্জের জাদুকরি হাসিতে পিরে শুধু নিজেকেই ভুলে গেলেন না, তিনি ভুলে গেলেন পুলিশের চাকরিতে একটা বড় নিয়ম হলো ডিউটিতে থাকাকালে কোনো মতেই মদ্যপান করা চলবে না। ম্যাডামের পিছু পিছু জ্যাক পিরে তার বাড়িতে ঢুকলেন।

অবশ্যই ম্যাডাম লাফর্জ অতি চমৎকারভাবে পিরেকে সঙ্গ দিলেন। পিরে প্রথমে উষ্ণ এবং পরে তপ্ত হয়ে উঠলেন। তিনি এতোই উত্তপ্ত হয়ে উঠলেন যে, মশিয়ে ফিলিপ লাফর্জ অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এসে বেডরুমে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখলেন তার স্ত্রীকে। বলা বাহুল্য, পিরেকে দেখে মশিয়ে লাফর্জ কোনো মতেই আনন্দিত হতে পারলেন না। ফিলিপের পদধ্বনি শুনে পিরে আত্মগোপন করেছিলেন একটি ওয়ারড্রোবের (বড় আলমারি) মধ্যে। হ্যাচকা টানে ওয়ারড্রোবের পাল্লা খুলতেই মশিয়ে লাফর্জ দেখলেন নগ্ন পিরে দুহাত জোড় করে তার মূল্যবান অঙ্গটি ঢেকে আছেন। বগলে তার পুলিশের ইউনিফর্ম!

সেই মুহূর্তে পিরে পুলিশের সব স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে তার কাপড়-চোপড় হাতে দরজার দিকে দৌড় দিলেন। পেছনে ছুটলেন ক্রুদ্ধ স্বামী। রাস্তায় এসে মশিয়ে লাফর্জকে নিরস্ত করার জন্য পিরে তার রিভলভার বের করে আকাশের দিকে গুলি ছুড়লেন। মশিয়ে লাফর্জ থমকে দাড়ালেন। পিরে সেই ফাকে তার ওয়াই-ফ্রন্ট আন্ডারওয়ারটি পরে নিয়ে পালিয়ে বাচলেন।

অন্তত সেই মুহূর্তে পিরে সেটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু হায় মশিয়ে লাফর্জের হাত থেকে বাচলেও আইনের লম্বা হাত থেকে পিরে বাচলেন না।

আদালতের বিচারে তার জরিমানা হলো ৫০ পাউন্ড, প্রায় ৩,৫০০ টাকা। নগ্ন অবস্থায় দৌড়ে জনসমক্ষে অশ্লীল আচরণ এবং আগ্নেয়াস্ত্রটি অন্যায়ভাবে ব্যবহারের দোষে পিরে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। বিচারপতি তার রায়ে বলেন, এর কারণ হলো পুলিশ অফিসার জ্যাক পিরে ওপরওয়ালাদের তুষ্ট করার উৎসাহের আতিশয্যে তাড়িত হয়েছিলেন। পরিণামে তিনি বিতাড়িত হলেন পুলিশের চাকরি থেকে।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিলেশনশিপ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৩

রিলেশনশিপ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

কোনো রমণীর সাথে রিলেশনশিপে
জড়াইনি বলে প্রতিদিন-ই শুনতে হয়
উপহাস, ঠাট্টা, বিদ্রূপ, পরিহাস, তাচ্ছিল্য
ও ব্যঙ্গ কতো কথা, খুব খারাপ লাগে
সারাদিন তা কানে খালি বাজে
পালাতে ইচ্ছে করে বিমর্ষ, লাজে!

বয়স হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×