somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অর্চির মা

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পরিপাটি পোশাকের সাথে চুলের দুই বেনী করে প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী কলেজে আসতো মাধবী । ইংলিশ সাহিত্যে
অনার্স পড়ার সময় প্রবাসী পাত্রের সাথে মাধবীর কোন এক শুভলগ্নে বিয়ে হয় । পণ হিসেবে মাধবীকে মোটা অংকের
টাকা দেয়া হয় মাধবীর পরিবার থেকে । মাধবীর স্বপ্ন ছিলো স্বামীর সাথে বিদেশে ইংরেজি সাহিত্যের ওপর উচ্চতর
ডিগ্রী নেবে ।
বিয়ের কিছুদিন পর মাধবীর স্বামী কানাডায় চলে যায় এবং বছর খানিক পরে মাধবীকে নিয়ে যাবে এমনটি কথা ছিলো।
মাধবীর স্বামী মাধবীকে দেয়া কথা রেখেছিলো কারণ সে মাধবীকে কানাডার ভিসা পাঠিয়েছে । কিন্তু সেই সাথে মাধবীও
শুনতে পেলো জীবনের সবথেকে কষ্টের ও অপমানের মতোন সংবাদ মাধবীর শ্বশুরালয়ের ঘনিষ্ঠ ও নিকটাত্মীয়দের
মাধ্যমে জানতে পারলো মাধবীর স্বামী' র ওই দেশে স্ত্রী , এক ছেলে ও মেয়ে আছে । সেই স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়নি
মাধবী কে এত বড় গোপন সত্য ঘটনা লুকিয়ে বিয়ে করেছিল মাধবী'র স্বামী । এ বিয়ের ঘটক ছিলেন মাধবীর মায়ের
ঘনিষ্ঠ বান্ধবী যিনি কি-না মাধবীর স্বামীর মাসি ছিলেন । এই ঘটনা জানাজানির পর মাধবী অত্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে
পড়ে এবং মাধবীর স্বামী সত্য স্বীকার করেন । মাধবীর পরিবার এবং মাধবীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাধবী সমস্ত
সম্পর্ক শেষ করে দেয় । এতে মাধবী অনেক ভেঙে পড়ে এবং পড়া শেষ করে চাকরিতে যোগদান করে । এভাবে অনেক
দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মাধবীর মা বললেন ,
- তোর জন্য একটা সম্বন্ধ এসেছে
- পাত্র কি করে? নিশ্চয়ই বয়সে অনেক বড়
- বয়স তেমন না কিন্তু তিন বছরের একটি মেয়ে আছে
এবং পাত্র ডাক্তার ।
- বাচ্চা ছাড়া ডিভোর্সি পাত্র দেখো কারণ বাচ্চাসহ আমি বিয়ে করবো না
- তুই একটু ভেবে দেখিস কারণ ডাক্তার অমিত আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় এবং স্বভাব-চরিত্র সবকিছুই
ভালো শুধু আগের স্ত্রীর সাথে বনিবনা হয়নি কারণ সে তার পুরনো বন্ধুর সাথে চলে গিয়েছে বাচ্চাকে একা
রেখে ।

মাধবীর এ বিয়েতে রাজি না হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল সেই বাচ্চাটি যার নাম অর্চি । পরবর্তীতে মাধবীর সাথে ডাক্তার
অমিতের বিয়ে হয় এবং এই অর্চি হয়ে যায় মাধবীর আত্মার আত্মা । বাচ্চা মেয়েটিকে প্রথম দেখাতেই মাধবীর মনে হয়ে
ছিল আহা কি রকম করে পারলো এই বাচ্চা মেয়েটিকে না রেখে চলে গেলো। দিন যতই যাচ্ছে মাধবীর সাথে অর্চির
সম্পর্কটা যেনো ততই গভীরে পরিণত হচ্ছে । কিন্তু বিধি বাম , অর্চির মা আইনি সহায়তায় চাইছেন মেয়েকে ফিরিয়ে
নিতে । কোর্ট থেকে কি রায় দেবে না দেবে সেটা মাধবী না জেনেই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনারত থাকলো । মনে মনে শুধু
ঈশ্বর কে এটাই বললো , এক জীবনে যা দুঃখ পেয়েছি কিন্তু এই জীবনে অর্চি , স্বামী সংসার ও এক ছেলে পেয়ে আমি
পরিপূর্ণ। এখন যদি এই মেয়েটা চলে যায় আমি কিভাবে থাকবো ?

মাধবীর সংসার জীবনে একটি সন্তান হওয়ার পরেও অর্চি'কে আর এই ছেলেটিকে কখনো আলাদা চোখে দেখিনি ।
হঠাৎ অমিতের প্রাক্তন স্ত্রী এর কেন এখন মেয়ের প্রতি এতো দরদ উথলে পড়লো এই চিন্তা করে মাধবী দিনরাত
এক হয়ে গিয়েছে । শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছে , অর্চি যাতে কোনোভাবেই মাধবীকে ছেড়ে না যায় এই অর্চি 'র
কাছে মাধবী প্রথম মা ডাক শুনেছে । একটা সময় অনেক বাধা বিপত্তি পর ,অর্চি কোর্টে নিয়ম এবং সব বাধা উপেক্ষা
করে মাধবীর কাছেই ফিরে এসেছে । কারণ অর্চি মা হিসেবে মাধবীর কাছ থেকে সবকিছু পেয়েছেতাই সেই অর্চি
মাধবীকে ছাড়া থাকতে পারেনি ।

( উপরের ঘটনাটি আমার পরিচিত একজনের জীবনের সত্য ঘটনা এবং বাচ্চাটিকে দেখার পর আমি নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে যাই । তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম )

ছবি : গুগল থেকে নেয়া
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ২:২৬
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×