somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহু বর্ণের নারীদের ভিতরে খুঁজেছি তোমাকে

২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বহু বর্ণের নারীদের ভিতরে খুঁজেছি তোমাকে
---------------------------- ড. রমিত আজাদ

তারপর আরো অনেক নারীকে নিয়েই কবিতা লিখেছি,
গতরাতে হিসেব করে দেখেছি,
আমার শেষ কবিতার বইটিতে, আটটি মেয়েকে নিয়ে লেখা
বিয়াল্লিশটি কবিতা আছে।
এই আট সংখ্যাটি শুনে কেউ আঁৎকে উঠলেও উঠতে পারে,
কিন্তু বোঝার চেষ্টা করুক, কবি মন প্রেমিক তো হবেই।
সেই প্রেম একতরফা হোক, আর দুইতরফাই হোক!

আজ আমি উচ্চারণ করবো একটি দুরন্ত-দুঃসাহসী সত্য,
প্রাচীন প্রহরে নিস্প্রান কফিনে পেরেক ঠুকে, সবকিছু শেষ হয়নি আদৌ,
এখনো বিচলিত ভালোবাসা, বিপর্যস্ত হৃদয়ের জমীন,
তুমি কোনদিন দেখবে না এই দুঃখ, এই অগ্নিসম অনুতাপ,
তোমার নতুন মানুষ, সে কি জানে,
কোন স্রোতে কেন ভেসে যাও তুমি?
কৃষ্ণপক্ষ থমথমে রাতে, হঠাৎ পালঙ্ক থেকে
তোমাকে তুলে দেয় কোন দহনের স্মৃতি?

সেই স্বপ্নময় দিনগুলোই ছিলো,
আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়
স্বপ্নের মত সুন্দর ছিলো সব, অথচ স্বপ্ন নয়।
তারুণ্যের নৃত্যছন্দে বিভোর,
অজস্র বহুতল ভবন শোভিত ঐ আন্তর্জাতিক নগরীতে,
সাদা, কালো, লাল, নীল, বাদামী,
এত রঙের লোকেদের ভীড়ে,
তোমাকে দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যেত।
শুক্লপক্ষ রাত্রীতে রজনীগন্ধার বৃন্তখানী যেন,
প্রস্ফুটিত মালতীলতার মাধুরী স্বপ্ন আঁকা,
তোমার চোখ, মুখ, ঠোট অথবা গ্রীবায়,
তোমার ভালোলাগাগুলো দেখতে,
আমি বারবার জন্মাতে চেয়েছিলাম।

আমার কাঁধে আলতো করে এলিয়ে দেয়া তোমার মাথাটি,
ক্রিসেনথিমামের পাঁপড়ির উপর বসে থাকা রঙিন প্রজাপতি যেন,
ফোটা ফোটা জলকণা তোমার স্নিগ্ধ কায়ায়,
প্রাংশুবৃন্ত বৃষ্টিস্নাত রক্তিম কার্নেশন সম।
সেই আদিম আকর্ষণীয় উচ্ছল তটিনীর টানে,
শ্বেতাঙ্গ দীর্ঘাঙ্গী নারী, তুমি ডুবে যেতে,
আমার খর্বকায় দেহের পলিমাটির সৌরভে।

সালভাদর ডালির আঁকা একঝাঁক ছবি দেখিয়েছিলে তুমি,
ঐ যে সিলিং-এ উল্টে থাকা আসবাব পত্র,
ভল্টেয়ারের আবক্ষ মুর্তি,
যার আড়ালে লুকিয়ে ছিলো মানুষ বেঁচার হাট!
কি দুরন্ত শিল্প!
তাই দেখে তোমার আবক্ষ মূর্তি গড়তে চেয়েছিলাম আমি,
আপন কল্লনার মাধুর্য্যে।

সেই মূর্তি আজও গড়ি আমি,
তবে সহস্র যোজন দূরত্বে থেকে!
কোন তাড়া নেই যে আর,
এখন সময় আমার অনেক,
অর্থ, কীর্তি, স্বচ্ছলতা, বাগান ঘেরা গৃহ,
এ সবের প্রয়োজন তো ফুরিয়ে গেছে সেদিনই।

আপনের প্রেমের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলাম।
তুমি তো আমায় নির্বাসন-ই দিলে!
আজ তুমি গমের উর্বীরূহের কাছে,
আর আমি ধানের ছড়ার পাশে,
তুমি পাইন বৃক্ষের তলে,
আর আমি কৃষ্ণচূড়ার ছাঁয়ে,
তুমি ডেনডেলিয়নের মাঠে,
আর আমি নাগকেশরের সাথে।
দূরত্ব, কি বাড়ায়? ভালোবাসা না যন্ত্রণা?
পরাজয়ের গ্লানি রেখে পিছে, আঁকড়ে ধরেছি কবিতা,

তখন আমি কবিতা লিখতাম কম,
তুমি একেবারেই লিখতে না, শুধুই পড়তে,
আজ আমরা দুজনেই কবিতা লিখি,
আমাকে নিয়ে কোন কবিতাগুলো তুমি লিখেছ,
সেগুলো আমি ধরতে পেরেছি কিন্তু,
তোমাকে নিয়ে আমি কোন কবিতাগুলো লিখি,
সেগুলো কি তুমি বুঝতে পারো?
কোন আশ্বাস নেই, মিথ্যে প্রতিশ্রুতিও চলবে না,
আমাদের ধর্মে পরজন্ম বলে তো কিছু নেই,
তাই পরজন্মে তোমাকে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই আমার।

এখন আমি তোমাকে খুঁজে ফিরি হাজার নারীর ভীড়ে,
কাউকে ডাকি ঝলমলে রেস্তোরায়, কাউকে নিরংশু কফিশপে।
ধূমায়িত কফির পেয়েলায় চুমুক দিয়ে গভীর দৃষ্টি নিয়ে,
ওদের চোখের ভিতরে ঢুকে প্রেমের অভিনয় করি,
কৌশলে বোঝার চেষ্টা করি,
ওরা আমার অভিনয় ধরতে পারে কিনা।
হ্যাঁ এরপর থেকে কেবল অভিনয়ই করেছি আমি,
একটি অভিসারও ভালোবাসার ছিলোনা।

এখন শুনি ঝড়ের আর্তনাদ, কর্ষিত জমির ক্রন্দন,
মজে যাওয়া পতিত দীঘির দীর্ঘশ্বাস, নিঃসঙ্গ নির্ঘুম রাত্রির বিলাপ,
এখনো বিমর্ষ হই,
এখনো সন্ধ্যা নামে বুকে,
বিশ বিশটি বছরের ব্যবধান,
তারপরেও বিকেলগুলো বড় বিষন্ন মনে হয়!

ওখানে দেখেছি অগ্নিবৃষ্টি, নৈরাজ্যের পথে পথে,
এখানেও কাপুরুষের দল
নিরস্ত্র মানুষের বুক বিদির্ন করে ধাতব বুলেটের ঘাতে
কালের যাত্রার ধ্বনি, স্পন্দন-ক্রন্দন হয়,
বাউফল থেকে মস্কো, খারকোভ্ থেকে ঢাকা,
বিচ্ছেদের বিশটি বছর পরেও কত নিবিড় হয়ে রয়ে গেছো বুকে,
ব-দ্বীপি সেতারের তারে বাজে, চাইকোভস্কির গভীর করুণ সুর!

উত্তাপহীন অভিসারে, কপট অভিনয়ে,
স্বদেশে, পরদেশে,
বহু বর্ণের নারীদের ভিতরে খুঁজেছি তোমাকে,
ভগ্ন হৃদয়ের আকুল আবেদনে,
কিন্তু পাইনি,
অমন কাউকে কোনদিনও খুঁজে পাবোনা জানি।

I Have Searched You in Many Women
----------------------------- Dr. Ramit Azad
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×