
ইংরেজী বর্ষ নয়, খ্রীষ্টাব্দ। মানে খ্রীষ্টের অব্দ। যীশু খ্রীষ্টের জন্মের সাথে এই ক্যালেন্ডারটির একটা যোগ আছে। লেখা হয় 2016 A.D. । এই A.D. হলো Anno Domini - দুটি মধ্যযুগীয় ল্যাটিন শব্দ, এর অর্থ আমাদের প্রভুর যুগে (Medieval Latin, which means in the year of the Lord)। খ্রীষ্ট ধর্মালম্বিদের প্রভু যীশু। তাই তাদের মতে যীশুর জন্মের সাথে সাথেই শুরু হয়েছে তাদের প্রভুর যুগ। অর্থাৎ যীশু খ্রীষ্টের জন্মের পর ২০১৫ টি সাল পেরিয়ে ২০১৬ তমটি শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে এই ক্যালেন্ডারটির আমদানী ও প্রচলন ঘটায় ইংরেজরা, তাই হয়তো অনেকে ওটাকে ইংরেজী বর্ষ বলে মনে করে।
বর্তমান বাংলাদেশে আমরা তিনটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি - খ্রীষ্টাব্দ, হিজরী ও ফসলী সন, যার একটিও বাঙালীদের প্রবর্তিত নয়। খ্রীষ্টাব্দ-এর কথা বললাম। হিজরী সন সম্পর্কে সবাই জানেন। ফসলি সন - যেটাকে আমরা বাংলা সন বলে মেনে নিয়েছি, সেটার প্রশাসনিক প্রচলন করেছিলেন অবাঙালী সম্রাট আকবর ও তৈরী করেছিলেন অবাঙালী জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমীর ফতেহউল্লাহ খান সিরাজী।
যাহোক, অবাঙালী হলেও এই তিনটি ক্যালেন্ডারই এখন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। খ্রীষ্টাব্দ-এর সাথে আমাদের কর্মযোগ, হিজরী ক্যালেন্ডারর সাথে আমাদের আধ্যাত্মিকতার যোগ, আর ফসলি সন-এর সাথে আমাদের কৃষিকাজ ও হৃদয়ের যোগ।
সবাইকে নতুন খ্রীষ্টাব্দের শুভেচ্ছা। শুভ হোক ২০১৬ সাল। --- ড. রমিত আজাদ
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




