
সময়টা ২০০০ বা ০১ সালের মাঝামাঝি, আমি তখন ৯ম বা ১০ম শ্রেণীতে পড়ি, মহল্লার দোকানের সামনে একদিন এক ছেলে আমাকে বলল দেখ এই ২ টাকার নোটের উপর এক মেয়ের ঠিকানা। আমি দেখলাম সত্যিই “সোমা” নামের এক মেয়ের ঠিকানা, সেটাও বেশি দূরের নয়, আমার পাশের থানা রামগঞ্জেই। তখন আমি নিয়মিত রেডিও শুনতাম, অনুরোধের আসর গানেরঢালিতে চিঠি দিতাম, বিভিন্য সঙ্গীতমালার প্রশ্নের উত্তর দিতাম, বিটিবির ইত্যাদিতে চিঠি দিতাম, এসব চিঠি পোস্টকার্ডে দিতে হতো, তাই আমার কাছে সবসময় পোস্টকার্ড থাকতো।
তখনকার দিনে পত্রমিতালীটা তুঙ্গে, কেননা মোবাইল সবে মাত্র লোকে চিনতে শুরু করেছে, আমরাও পত্রমিতালীতে বুদ ছিলাম, তাই ঐ ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলাম একটা পোস্টকার্ড, উত্তরের আশা ছিলনা, কেননা একটা মেয়ের ঠিকানা টাকার মধ্যে, তাও আবার ২ টাকার নোট।
কিন্তু আমাকে অবাক করেদিয়ে চিঠি আসলো মাস খানেক পরে, তবে সে পোস্টকার্ডে লিখেনাই, লিখেছিল হলুদ খামে। আচ্ছা এখনকার কিশোর কিশোরীরা হলুদ খাম বা পোস্টকার্ড কি চেনে ? আফসোস হয় ওদের জন্যে। গত কিছুদিন আগে আমার পত্নির এক বান্ধবির ফেবু স্ট্যাটাস দেখলাম, সে হন্যে হয়ে খুঁজেও হলুদ খাম পাচ্ছেনা, তারপরেই এই কাহিনিটা লিখতে ইচ্ছে হল। সেইসময় হলুদ খাম জেলা শহরের বড় পোস্টঅফিস থেকে কিনলে ২ টাকা নিত, আর এলাকার কোন দোকান থেকে নিলে আড়াই টাকা।
আচ্ছা যেটা বলতেছিলাম, তো ফিরতি চিঠিতে সোমা লিখেছিল কিভাবে ঐ ২টাকার নোটে তার ঠিকানা আসছে সে জানেনা, তবে এমন ভাবে পত্রমিতা পেয়ে সে খুঁসি, আমাকে বলেছিল এভাবে খোলা পোস্টকার্ডে না লিখতে আর। অনেক দিন আমাদের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছিল। কেমন যেন একটা ভালোলাগা জুঁড়ে থাকতো প্রতিটা চিঠিতে। ডাকপিয়ন বেটাও সুযোগ নিয়েছিল, সোমার চিঠি আসলেই সে বাড়িতে নিয়ে আসতো, আর তাকে বকশিস দেয়া লাগতো।
এসএসসি’র পরে একদিন আব্বা আমার ড্রয়ার ঘেঁটে সোমার অনেক গুলা চিঠি পেয়েছিল, ওনার মনেহয়েছিল আমি প্রেম করছি, আর তখনকার দিনে কোন মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব এটা গ্রামের কেউ ভাবতেও পারতোনা, আর প্রেম করাত মহাপাপ। সবগুলি চিঠি আমার সামনে ছিঁড়ে ফেলেছিল, আমি অযোরে কেঁদেছিলাম সেদিন, এখনো চোখ আদ্র হয়ে আসছে।
আমাদের বন্ধুত্বটা ভালই ছিল অনেক দিন, সোমা আমার সমবয়সী নাকি ১ বছরের ছোট ছিল সঠিক মনে আসছেনা, কলেজে পড়ার সময় এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে একবার গিয়েছিলাম ওদের বাড়িতে দেখা করতে। সেই দেখায় বুঝতে পেরেছিলাম আমার প্রতি ওর লুকানো ভালবাসা, তারপর ধীরে ধীরে আমিই যোগাযোগ কমিয়ে দেই। যতদূর মনেপরে ২০০৪ এর দিকে একবার ওর সাথে কথা হয়েছিল মোবাইল ফোনে। আমার লেখা সেই অপ্রকাশিত উপন্যাসের নায়িকার নাম দিয়েছিলাম “সোমা”। এখনো মাঝে মাঝে মনে পরে আমার জীবনের প্রথম পত্রমিতাকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




