somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারুমতী

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পারুমতী,
আমি বলতে পারিনি,
আজো অনেক না বলা কথা।
আমি তো গাছ,
না আছে বোধ, না বুদ্ধি;
আমি জানি, নিজেকে শুদ্ধ রাখিনি -
তোমার পথ চেয়ে থাকিনি।
তাই বলে, তোমায় ভালবাসিনি?

সেই শৈশব থেকেই, তুমি আমার ভালো লাগা।
ঊষালগ্নে পানকৌড়ির ডুবোডুবি দেখতে খুব ভালো লাগতো,
তোমার হাসিও তেমনি।
গোধূলিতে সোনালী আলো, আর আকাশের রক্তবর্ণ;
অবাক হয়ে দেখতাম।
তেমনি তোমার গোলাপী গালের আভা।
ফাগুনের শেষ দিকে,
ঝিঁঝি পোকা ধরতে সন্ধ্যা পার করে দিতাম।
কতো মায়ের বকুনি খেয়েছি,
তবুও ভালো লাগতো।
তেমনি তোমার সাথে কথা বলা।
কোকিলের কুহু কুহু, বৌ কথা কও পাখির আর্তনাদ
শুনে বুঝতাম না এর অর্থ কি
কিন্তু, তোমার ডাক আমার কানে বাজতো সারা দিন।

ছোট্টবেলায় খুব কাছ থেকে হরিণ দেখা হয়নি,
তাহলে তখনি বুঝতে পেতাম তুমি মৃগনয়না।
রেশমের পরশ খুব কোমল লাগতো,
তেমনি তোমার ছোট ছোট ববকাট চুল।
তোমাকে সাথে নিয়ে ফড়িং ধরা, নদীতে গোসল করা;
ছোট্ট ঘর বানানো,
হাত ধরে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটা,
নৌকায় করে বেড়ানো,
আজ কেমন যেন স্বপ্নের মতো লাগে।

অনেক বৃষ্টির পর
আকাশে রামধনু আসতো খানিক কালের জন্য,
চোখ ফেরাতাম না সেদিক থেকে।
তেমনি, তুমিও আসতে বারো মাসে একবার।
আমি গাঁয়ের ছেলে,
তখনো পড়া হয়নি রবিঠাকুরের কাব্য, শরৎবাবুর শ্রীকান্ত,
সুনীলের প্রথম আলো।
জানা ছিল না ভালোবাসা কি।
ভালো লাগতো তোমার সাথে কথা বলতে,
তোমার চলন - বলন।
যখনি একটু একটু করে বুঝতে শিখেছি
তোমার প্রতি ভালোবাসা,
দূরে সরে গেছি নিজেকে অযোগ্য ভেবে।
ভেবেছি, ভালোবাসবো তোমাকে
আকাশের চাঁদের মতো করে।

এরপর, কত্তোবড় একটা ব্যবধান!
মাঝে কতোজন আসলো
আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণে সাহায্য করতে,
কেউ কেউ করেও গেল।
কতো বোকা আমি!
তবুও বুঝিনি
তুমি আমার কতোখানি জুড়ে ছিলে, ও আছো।

তোমাকে বাদ দিয়ে, নিজেকে ভাবতে গিয়ে
হোঁচট খেয়েছি বার বার।
অনেক দৌড়ে, ক্লান্ত হয়ে
নিজেকে সেই একই স্থানে পেয়েছি আবার।
অনেক ধাক্কা খেয়ে আজ আমি বুঝতে শিখেছি,
তোমাকে ছাড়া নিজেকে ভাবা কত্তো বোকামি!

ততোদিনে, তুমি অনেক উপরে উঠে গেছ।
আমি আজো সেই সাধারণ,
অতি সাধারণ এক যুবক।
সাধ্য নেই অতো উচ্চতায় গিয়ে
ছুঁয়ে দিতে তোমায়।
তোমার মনে দাগ কেটে দিতে
আমার অবুঝ ভালোবাসার,

আমি যে ভীরু,
তাই বলে কাপুরুষ নই।
ভয় হয়, হয়তোবা কভু
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যাবো,
ছুঁয়েও দেবো হয়তো তোমায়
তুমিতো নারী, লাজুক লতা,
যদি গুটিয়ে নাও নিজেকে!
পদস্থলন হতে বাঁচাতে
হাত বাড়িয়ে না দাও যদি!
যদি প্রশ্ন করো,
আরো আগে কেন আসোনি?
নেই কোন জবাব, জানা নেই কোন ভাষা;
নেই আমার কোন ওকালতি জ্ঞান।
কি করে করবো,
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ তোমার আদালতে।
তাই সংস্কার করছি আপন হৃদয়ের।
সব আগাছা সমূলে উপড়ে ফেলে
সবুজ প্রান্তরে পরিণত করবো।
প্রশস্থ পথ করে দিতে তোমায়,
গড়তে তোমার বিচরণভূমি আমার প্রাণের মাঝে।

আজ আমি নির্বাক।
বসে আছি পথপানে চেয়ে তোমার,
হয়তো কোনদিন আসবে,
ফিরে চাইবে আমার পানে,
হাত বাড়িয়ে দেবে ধরতে তোমায়।
আমাকে পূর্ণাঙ্গ করতে,
আসবে সব বাঁধা পেরিয়ে॥

নোটঃ ২০১০ এর দিকে লেখা এই কবিতাটা, লিখেই আবৃত্তি করে মুল লেখাটা ছিঁড়ে ফেলে দিছিলাম, অনেক দিন পরে পুরনো মেমোরি কার্ডে রেকোডিংটা পেয়ে, সেখান থেকে লিখা। ছবিটা আমার পারুমতীর।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×