somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ১০৩

০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের দেশের বাবা মা বয়স হয়ে গেলে অসহায় হয়ে পড়েন। কারন ছেলেমেয়েরা বিয়ে করার পর বদলে যায়। তখন তারা বাবা মা নিয়ে ভাবেন না, ভাবেন নিজের সংসার নিয়ে। বাবা মা অবহেলা পেতে শুরু করেন। সব ছেলেমেয়ে অবহেলা করেন না, তবে অনেকেই করেন। এই যেমন আমাদের বাসায় দুজন এসেছেন। অথচ তাদের ছেলেমেয়ে এই শহরেই থাকে। তারা দরিদ্র নয়। অথচ বুড়ো বাবা মা ছেলে-মেয়ের বাসায় উঠেন না। ইহা দুঃখজনক। যদি আমার বাবা মা গ্রামে থাকতেন, এবং আমার স্ত্রী বলতো- তারা বাসায় আসতে পারবে না। আমি নিশ্চিত সুরভিকে বাসা থেকে বের করে দিতাম। এমন স্ত্রী আমার দরকার নাই।

ছেলে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন-
আমার বাসায় এসো না। আমার বউ তোমাদের পছন্দ করে না। তোমরা এলে আমার সংসারে অশান্তি হবে। পারলে আমি তোমাদের কিছু টাকা পয়সা পাঠিয়ে দিবো। মেয়ে বলেছে, আমি থাকি শ্বশুর বাড়ি। এখানে তোমরা এসে থাকলে ভালো দেখায় না। আমি ফোনে তোমাদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিবো। বুড়ো বাবা মা এখন গ্রামে থাকেন। তাদের একটা খরচ আছে। সারা জীবন তারা চাকরি করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছেন। খাইয়ে পড়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ছেলেমেয়েদের শখ আহ্লাদ পূরন করেছেন। অথচ আজ বাবা-মা অসহায়। ছেলেমেয়ে সাথে নেই। খোঁজ খবর নেয় না। খোঁজ নিতে গেলেই টাকা দিতে হবে। এই টাইপ ছেলেমেয়েদের আমি কুৎসিত গালি দিতে চাই। এমনকি থাপ্পড়ও দিতে চাই। নাটক সিনেমাতে এরকম হয় জানি। বাস্তব জীবনে এরকম দেখতে হবে, সেটা আমার কল্পনার বাইরে।

আমরা চার ভাই বাবা-মাকে কোনোদিন অবহেলা করিনি।
আমার মা উন্নত জীবন যাপন করছে। সে সময় মতো ডাক্তার দেখাচ্ছে। এক মাসের ওষুধ এক সাথে পাচ্ছে। হাতে দামী মোবাইল। ঘরে বিশাল সাইজের এক টিভি। মাকে ঘরের কোনো কাজ করতে হয় না। সময় মতো তার ঘরে খাবার চলে আসে। মা সারাদিন শুয়ে বসে আরাম করে। আমি প্রতিদিন মা'র ঘরে যাই। তার সাথে গল্পগুজব করি। উনি মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। অথবা টিভিতে পুরোনো দিনের গান শুনছে। আমি মাকে বলি- তেহারি খেতে ইচ্ছা করছে। মা টাকা দেয়। আরেকদিন বলি- কাবাব আর নান রুটি খেতে ইচ্ছা করছে। মা টাকা দেয়। আমার অন্য ভাইরা এমনটা বলে না। কিন্তু আমি বলি। কারন এরকম বললে মা খুশি হয়। গতকাল খেয়েছি চাপ আর পোলাও। আমাদের এখানে একটা দোকান আছে। নাম বোবা বিরানী।

যাইহোক, আংকেল আন্টি আমাদের বাসায় আসেন।
উনারা বাসায় এলে আমার ভালো লাগে। উনাদের সাথে আমি গল্প করি। উনারা যখন চলে যান, আমি উনাদের বাসে উঠিয়ে দেই। পদ্মাসেতু হয়েছে। যাতায়াতের অনেক সুবিধা হয়েছে। এবার আংকেল আন্টি গ্রামে গিয়ে দেখেন- কে বা কারা যেন তাদের ৫০টা দেশি মূরগী বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে। একজন লোক ছিলো। সে দিনের বেলা কোনো কাজে বাইরে গেছে। এই সুযোগে কেউ খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে। সেই বিষ মিশানো খাবার মূরগী খেয়েছে এবং মরে গেছে। ভাবা যায় ৫০ টা দেশি মূরগী! একটা মূরগী ৫০০শ' টাকা করে হলে ২৫ হাজার টাকা। তারা দুজন হাঁস মূরগী পেলে জীবনযাপন করেন। মানুষের মানসিকতা এমন কেন? মূরগীকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে হবে! পত্রিকাতে এরকম নিউজ প্রায় আসে। বিষ প্রয়োগ করে পুকুরের সব মাছ মারা গেছে। ধানক্ষেত নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কলাগাছ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৯
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করে না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা। একদিন মিরপুরে গেলাম, যে স্কুলে পড়েছি সেটার কী অবস্থা দেখতে গেলাম। এখনো কয়েকজন শিক্ষক আমাকে চেনেন। পুরাতন জায়গা বলে একটা টানও ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×