somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টুকরো কথা- ১

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন আগে মালিবাগ রেলগেট থেকে মৌচাক যাচ্ছিলাম। স্বল্প দূরত্বের কারণে ফুটপাথ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। আপনারা যারা এ পথে যাতায়াত করেন তারা অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, মালিবাগ রেলগেট-মৌচাকের মাঝামাঝি জায়গায় এক অন্ধ নারী ভিক্ষা করেন। মূলত আমার গল্প ওই অন্ধ ভিক্ষুককে নিয়েই।

আমরা গতানুগতিক চক্ষুওয়ালা মানুষেরা যদি কোন এক জায়গায় কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকি তবে তার আশপাশে যতপ্রকার নোংরা করা সম্ভব সমস্তটাই করে আসি। বিস্কুটের প্যাকেট, সিগারেট, কাগজ, কফ, থুথু তো ফেলিই এমনকি সুযোগ পেলে মূত্র ত্যাগ করতেও পিছপা হয় না। তবে ব্যতিক্রম ওই অন্ধ ভিক্ষুক। সারাদিন যে জায়গায় বসে তিনি ভিক্ষা করেন, তার আশপাশে কোথাও আপনি ময়লা পাবেন না। ডাস্টবিনের শহর ঢাকাতে বিষয়টা আমার কাছে অবাক বটে।

তো সেদিন যখন হাটছিলাম তখন দেখলাম ওই অন্ধ ভিক্ষুক তার হাতে থাকা সাদা ছড়ি দিয়ে কিছু খুঁজছেন। আমি ভাবলাম তার প্রয়োজনীয় কিছু হারিয়ে গেছে বোধহয়। তবে আমরা ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই অবাক হলাম। কারণ ওই অন্ধ ভিক্ষুক তার ছড়ি দিয়ে আশপাশের ময়লা খুঁজে বের করছিলেন। এরপর হাত দিয়ে সেটা তুলে জমা করলেন। এভাবে বেশ কিছু জায়গার ময়লা তিনি পরিষ্কার করলেন। তারপর সেগুলো একটু দূরে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন।

এটা দেখে ভাবলাম, আসলে অন্ধ তিনি নাকি আমরা। প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলে আমরা আমাদের চারপাশটা নোংরা করছি। অথচ দোষ দিচ্ছি সিটি করপোরেশন বা সরকারকে। এক্ষেত্রে নাগরিক হিসেবে বা মানুষ হিসেবে আমাদেরওতো কিছু দায়িত্ব আছে। পুরো নগরের নোংরা পরিষ্কার করা আমাদের কাজ নয়, সেটা সম্ভবও নয়। তবে আমাদের চারপাশটাতো পরিষ্কার রাখতে পারি। যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলতে পারি।

আসলে চোখে দৃষ্টি থাকলেই যে চক্ষুওয়ালা হওয়া যায় না সেটা ওই অন্ধ ভিক্ষুককে দেখে ভালভাবে শিখলাম। অন্তত নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যে সমাজকে ভালভাবে দেখা যায় সেটা হাতে-কলমে বুঝিয়ে দিলেন। সবশেষ এই কামনায় রইল, আমরা যারা দৃষ্টিসম্পন্ন তারা যেন সমাজকে ভালভাবে দেখি, নিজের চারপাশটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×