somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন ছাড়া জীবন হয় না

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেক মানুষের জীবনে স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন ছাড়া জীবন হয় না। মানুষ তার নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখে আর সেটাকে আখড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে। স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন থেকে যায় এ কথা ধ্রুব সত্য নয়। স্বপ্ন সত্যিও হয় অনেক সময়। তবে যে বা যিনি স্বপ্ন দেখেন সেটা শুদ্ধ স্বপ্ন হওয়া উচিত। শুদ্ধ মানেটা হল স্বপ্ন পজেটিভ হলে ভাল। নিজের যোগ্যতা এবং পারিপার্শিবক বিবেচনায় রেখে দেখা ভাল। স্বপ্ন যে বিষয়টি নিয়ে দেখা হোক না কেন তা ধীরস্থির ভাবে ভেবে চিন্তে নিতে হবে। স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে প্রবল আত্মবিশ্বাস থাকা চায়। আর সেই আত্মবিশ্বাস আপনাকে নিয়ে যাবে লক্ষে। শুধু স্বপ্ন দেখলে হবেনা তা বাস্তবায়িত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তা না হলে স্বপ্ন আপনা আপনি সত্যি হবে না। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য কাজের মাধ্যমে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে হবে। স্বপ্ন থেকে এক বিন্দুও নড়ানো যাবে না। তাহলে স্বপ্ন সত্যি হতে বাধ্য। স্বপ্ন একসাথে একাধিক না দেখা ভাল। তা হলে স্বপ্ন এলোমেলো হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে একটাও পূরণ হল না। কষ্টের বোঝা তখন ভারী হবে আর সেটা বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। স্বপ্ন নিয়ে উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস এর কবিতার কয়েকটি পঙ্তি
‘আমি নিতান্ত দরিদ্র
আমার স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নেই।
আমার সেই স্বপ্নগুলো
আমি তোমার পায়ের তলায় বিছিয়ে দিয়েছি
তুমি একটু সাবধানে যেয়ো।
দেখো আমার স্বপ্ন গুলো
তোমার পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়ো না।’
মানুষ প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে। আর এই স্বপ্ন দেখা সুস্থ ভাবে বাঁচার একটি উপকরণ। একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখার জন্য একটা সুন্দর মন থাকা দরকার। সুস্থ দেহ এবং সুন্দর মন মিলে একটি সমৃদ্ধ স্বপ্ন দেখা যায়। অনেক মানুষ আবার স্বপ্ন দেখতে ভালো বাসেন। স্বপ্নতে আনন্দ খুঁজে পান। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে গেলে আমরা প্রত্যেকে কম বেশি স্বপ্ন দেখি। মাঝে মাঝে ছোট ছোট স্বপ্ন গুলো কাকতালিয় ভাবে মিলে যায় অর্থাৎ সত্যি হয় তখন খুব আবাক লাগে এবং আনন্দ ও হয়। আনেকে আবার দিনে ও স্বপ্ন দেখেনে। ছোট খাট স্বপ্ন গুলোর অনেকটা আমাদের মনের অবচেতন ভাবনা চিমত্মা গুলো থেকে আসে। অনেক সময় আমরা দিনে যে বিষয় গুলো নিয়ে বেশি আলোচনা করি সেটা আবার রাতে স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। প্রত্যেক বয়সের মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারে। স্বপ্ন দেখতে কোন সুনির্দিষ্ট বয়সের প্রয়োজন পরে না। তবে মনে হয় কৈশোর এবং যৌবন কালে স্বপ্নের রঙিন ডানা গুলো পাখা মেলে মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াতে বেশি ভালবাসে। তখন হাজারো স্বপ্ন উকিঁমারে মনের আঙ্গিনায়। কোনটাকে ফেলে কোনটাকে ধরি তা বিবেচনা করা একটু কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবে স্বপ্ন দেখার সময়ে ( কৈশোর ও যৌবন) স্বপ্ন দেখাটা স্বাভাবিক আর না দেখাটা অস্বাভাবিক। পরিবার থেকে স্বপ্ন দেখাটা শুরম্ন হওয়া উচিত। অনেক সময় পরিবারের সচেতন সদস্যরা বাচ্চাদের স্বপ্ন দেখার জন্য অনুপ্রেরনা দিতে পারেন। আমার এক বন্ধুর ছেলে চার বছর বয়সে নিজের অনেক কাজ নিজে করে এবং সে করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আরো অবাক করার বিষয় হলো সে স্বপ্ন দেখে বড় হলে চাকরি করবে, টাকা আয় করবে, টাকা আয় করে মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনকে এটা-ওটা কিনে দেবে ইত্যাদি। একটা ছোট বাচ্চার ভেতরে স্বপ্ন দেখার বীজটা বপন করে দেয়া হচ্ছে তা অবশ্যই একদিন ভাল ফল দিতে পারে। যান্ত্রিক জীবনে আমারা আমাদের মনের অজানতে যন্ত্র হয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। যন্ত্র হতে অনেকটা বাধ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরম্ন করে সন্ধ্যা পর্যমত্ম থাকে নাগরিক ব্যসত্মতা। তার পর বাসায় ফিরে শুরম্ন হয় আবার আগামী কালের প্রস্ত্ততি। অর্থাৎ প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ খুবই কম। কিছু কিছু ÿÿত্রে একটা কথা থেকে দু’টা কথা বেশী বলে বুঝিয়ে দেয়ার অবকাশ অনেকের থাকে না। যন্ত্রের মতুবং ড়ৎ হড় বলে কেটে পড়তে চায়। আর হাসি; হাসতে পারা স্বাস্থ্যর জন্য উপকার। অনেক রোগের ঔষধ হল হাসতে পারা। নাগরিক জীবনে অনেক সময় দেখা যায় মানুষেরা যেন কৃত্রিম হাসি হাসছে। মন থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হাসতে পারা উপকার। একমাত্র স্বপ্ন পারে যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা দুরে নিয়ে গিয়ে আপনাকে আনন্দ দিতে। তাই স্বপ্ন দেখা থেকে দূরে থাকা কখনো উচিত নয়। স্বপ্ন যাতে কখনো দুঃস্বপ্ন না হয় এটাই কাম্য। সবসময় পজেটিভ চিমত্মা থেকে সুন্দর স্বপ্নের আর্বিভাব ঘটতে পারে। স্বপ্নে যাতে কারো ÿতির চিমত্মা না থাকে সেটাও খেয়াল রাখা উচিত। প্রতিদিন ছোট ছোট নতুন নতুন স্বপ্ন মানুষকে আনন্দ দেয়। আর স্বপ্ন নিয়ে মানুষ বাঁচে। স্বপ্নই হোক মানুষের প্রাণ খুলে হাসার একটা মাধ্যম।
কবিগুরম্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্বপ্ন’ কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি দিয়ে ইতি টানব
দূরে বহুদূরে
স্বপ্নলোকে উজ্জয়িনী পুরে
খুঁজিতে গেছিনু কবে শিপ্রানদী পারে
মোর পূর্বজনমের প্রথমা প্রিয়ারে।
মুখে তার লোধ্ররেণু, লালপদ্ম হাতে,
কর্ণমূলে কুন্দকলি, কুরম্নবক মাথে,
তনু দেহে রক্তাম্বর নাবীবন্ধে বাঁধা,
চরণে নূপুরখানি বাজে আধা আধা।
বসমেত্মর দিনে
ফিরেছিনু বহুদূরে পথ চিনে চিনে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×