somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে সরকার বদলের সাথে সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বদলো ঘটে

১০ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের শৈশব কৈশোরের সময় আমাদের পরিক্ষা আর ইন্টার্ভিউতে
একটা কমন প্রশ্ন ছিল- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কে ?
তখন কিন্তু আমরা একেক সরকারের আমলে একেক রকম উত্তর করতাম।
যেমন বিএনপি সরকারের আমলে আমরা উত্তর করতাম মেজর জিয়াউর রহমান
ঠিক তেমন আওয়ামীলীগ সরকার আমলে উত্তর করতাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তখনকার সময় কিন্তু সঠিক উত্তরটাই এমন ছিল। বিএনপি সরকার আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর উত্তর দিলে ভুল উত্তর হতো। আর আওয়ামীলীগ সরকার আমলে মেজর জিয়াউর রহমান উত্তর দিলে সেটাও ভুল হতো।
বর্তমান বাংলাদেশে এখন আওয়ামীলীগ সরকার। তাই এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুব স্বাভাবিক বেপার। কিন্তু অস্বাভাবিক বেপার হচ্ছে এখন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সরকার বলেই শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন। হাইকোর্টের রায়েও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। আমাদের এখন মেনে নিতেই হবে এবং বলতেই হবে স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।
হয়তো একটা সময় আবার বিএনপি সরকারে আসতে পারে। হয়তো তখন আবার হাইকোর্টের রায়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক বলে বিবেচিত হবেন। যে দল সরকার ঘটন করে সে দলের পক্ষেই হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট জজ কোর্টের রায় আসে সে কথা আমাদের কারোরই অজানা নয়। তখন কি আবার আমাদের স্বাধীনতার ঘোষকের নাম পরিবর্তন হবে। তখন কি আমাদের সন্তানরা তাদের পরিক্ষা বা ইন্টার্ভিউয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেখা ও জানাটা ইচ্ছে পূর্বক ভুলে গিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান লিখবে? যেমনটা আমাদের বেলায় হয়েছে? প্রশ্নটা খুব ভাবায় আমায়।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী বিতর্ক হয়েছে সম্ভবত এই স্বাধীনতার ঘোষক উপাদিটা নিয়েই। যদিও বর্তমানে এই বিষয়টা কিছুটা হলেও বিতর্ক মুক্ত আছে। কিন্তু আগামীতে যে আবার এই বিষয়টা বিতর্কে আসবেনা সেটা ভাবাটা কি বোকামী নয়?
একটা জীনিস কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকেনা। আর সেটা হলো আমরা কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিখে শিক্ষিত হয়েছি নাকী আমাদের সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিখে শিক্ষিত হচ্ছে। কোনটা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস উত্তরটা কে দেবে?
কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেরও পরিবর্তন ঘটছে। কেউ এই কথাটা অস্বীকার করবেন না বলে আমার বিশ্বাস ও ধারণা। সামনে দিনগুলিতে যে আরো বেশী বিকৃত হবে সেটা আচ করা এখন আর তেমন কঠিন বিষয় নয়। কারন তখন আর যুক্তিযুদ্ধের সময়কার কোন মানুষ হয়তো পৃথিবীতে থাকবেন না। আসবেন মুক্তিযুদ্ধের পরের প্রজন্ম। তখন যদি উনারা উনাদের আগের প্রজন্মের মতো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিজেদের উপযুক্ত (বিকৃত) করে তুলে ধরেন তখন কি করার থাকবে এই প্রজন্মের। তারা তো সেটাই শিখবে যেটা তাদের বর্তমানে লিপিবদ্ধ থাকবে। ঠিক এই ভাবেই চলবে কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিবর্তন। বাংলাদেশীর সব সন্তানরা যুগের পরিবর্তনে সাথে শিখবে জানবে যুগ উপযুক্ত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধের বিকৃত ইতিহাস। যা বাংলাদেশী জাতির জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়।
বাংলাদেশে সরকার বদলের সাথে সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বদলো ঘটে।
যা বাংলাদেশীদের চিরাচরিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। এই নিয়ম থেকে বের হয়ে সঠিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরুন হে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিকগণ।
এখন সময় আছে এই এই বিতর্ক আর বিকৃত ইতিহাস এর ইতি ঘটানোর। হয়তো আর কয়েকটা বছর পর আর এই সুযোগ থাকবেনা। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এই বিতর্ক আর বিকৃত ইতিহাস মুছে ফেলে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করুন এই প্রজন্ম আর আগামী সহ সকল প্রজন্মের জন্য। তাতেই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক হবে দেশ প্রেমিক। যা বিকৃত আর বিতর্কিত মুক্তিযুদ্ধের ইহিহাস থেকে শিক্ষা হয়ে উঠতে পারেনি আজ অবধি। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিতর্কিত আর বিকৃত ইতিহাস জেনে শিখে তো আর সু-নাগরিক হয়ে উঠা যায়না কোন ক্রমেই।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×